
X
উখিয়া সীমান্তে ইয়াবার বড় চালান উদ্ধার
কক্সবাজারের উখিয়ার সীমান্তবর্তী এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
রোববার (১৬ আগস্ট) রাত ৯:৪৫ টার দিকে পরিচালিত এ অভিযানে পরিত্যক্ত অবস্থায় ২ লাখ পিস বার্মিজ ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা ইয়াবার আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৬ কোটি টাকা।
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, কক্সবাজার ব্যাটালিয়ন (৩৪ বিজিবি)-এর অধীনস্থ ঘুমধুম বিওপির একটি বিশেষ টহল টীম গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সীমান্ত এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানের অংশ হিসেবে সীমান্ত পিলার-৩১ থেকে প্রায় ৫০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে উখিয়ার বালুখালী কাঁকড়া ব্রিজ এলাকায় অবস্থান নেয় বিজিবির সদস্যরা।
এ সময় বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে পাচারকারীরা ইয়াবার চালান ফেলে পালিয়ে যায়। পরে বিজিবি সদস্যরা ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে মালিকবিহীন অবস্থায় বিপুল পরিমাণ ইয়াবা উদ্ধার করেন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো পাচারকারীকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
বিজিবি জানিয়েছে, উদ্ধার করা ইয়াবাগুলো ২ লাখ পিস, যা সীমান্ত দিয়ে মাদক পাচারের একটি বড় চালান বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট পাচারকারীদের শনাক্ত ও আটকের জন্য গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে।
কক্সবাজার ব্যাটালিয়ন (৩৪ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এম খায়রুল আলম ইয়াবা উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবির অভিযান নিয়মিতভাবে পরিচালিত হচ্ছে। সীমান্ত এলাকায় মাদক পাচার বন্ধে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
বিজিবি সূত্র আরও জানায়, উদ্ধার করা ইয়াবার বিষয়ে আইনানুগ প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হয়েছে। ইয়াবাগুলো সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার পর উখিয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানান ৩৪ বিজিবির পক্ষ থেকে।
সীমান্তে মাদক পাচার নিয়ে উদ্বেগ মিয়ানমার সীমান্তবর্তী কক্সবাজারের উখিয়া ও নাইক্ষ্যংছড়ি অঞ্চল দীর্ঘদিন ধরেই মাদক পাচারের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে পরিচিত। এরই মধ্যে চলতি আগস্ট মাসে ঘুমধুম সীমান্তে আরও একটি বড় অভিযানে ২ লাখ ৪৬ হাজার পিস ইয়াবার পাশাপাশি একটি বিদেশি পিস্তল ও পাঁচ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করেছিল বিজিবি।
ফলে মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে ঘুমধুম সীমান্ত এলাকায় বড় দুটি চালান উদ্ধারের ঘটনায় সীমান্তে মাদক পাচারকারীদের তৎপরতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে বিজিবির দাবি, সীমান্তে নজরদারি ও মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার করা হয়েছে এবং পাচারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ঘটনায় কোনো ব্যক্তি আটক না হওয়ায় ইয়াবার চালানটির সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করা এবং পাচারচক্রের মূল হোতাদের আইনের আওতায় আনা এখন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।