প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১ মার্চ, ২০২২, ৪:২৪ পিএম (ভিজিট : ২৪২)

X
ইউরোপের কানাডা-রোমানিয়াসহ বিভিন্ন দেশে লোক পাঠানোর নামে প্রায় ৩০০ মানুষের কাছ থেকে প্রায় ১৫ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়া সেই ট্রাভেলস মালিক প্রতারক আমিনুর রহমান আমিনকে গ্রেফতার করেছে পুৃলিশ।
আজ মঙ্গলবার (১ মার্চ) বেলা ২টার দিকে সিলেট মহানগরীর একটি এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয় বলে জানান এসএমপি’র কোতোয়ালি থানার ওসি মুহাম্মদ আলী মাহমুদ।
গ্রেফতারকৃত আমিন সিলেট নগরীর জিন্দাবাজারস্থ হক সুপার মার্কেটে অবস্থিত ‘আমিন রহমান ট্রাভেলস’র মালিক ও সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক উপজেলার নিজগাঁওয়ের তোফাজ্জল আলীর ছেলে। নগরীর শাহজালাল উপশহরস্থ জি-ব্লকের ৪ নং রোডের ৯৬ নং বাসায় থাকতেন তিনি।
জানা গেছে, ইউরোপের বিভিন্ন দেশে লোক পাঠানোর নামে প্রায় ১৫ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে গা ঢাকা দেন আমিনুর রহমান। এ অভিযোগে আমিন ও তার দুই ভাইকে আসামি করে সিলেট মহানগর পুলিশের কোতোয়ালি থানায় মানবপাচার ও প্রতারণা মামলা দায়ের করেন ফখরুল ইসলাম নামে এক ভুক্তভোগী।
সূত্র জনায়, সিলেট মহানগরীর জিন্দাবাজারস্থ হক সুপার মার্কেটে অবস্থিত ‘আমিন রহমান ট্রাভেল’ নামক প্রতিষ্ঠানের মালিক প্রতারক আমিনুর রহমান আমিন কানাডা ও পরামানিয়াসহ ইউরোপের বিভিন্ন পদশে পাঠানোর নামে পলাকজনের কাছ থেকে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়ে পালিয়ে যান।
ভূক্তভোগীরা জানান, ৯০ দিনের মধ্যে রোমানিয়ায় পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেয় ‘আমিন রহমান ট্রাভেলস’। ওই বিজ্ঞাপন দেখে তারা নগরীর জিন্দাবাজার হক সুপার মার্কেটস্থ ট্রাভেলসে যোগাযোগ করেন। তখন ট্রাভেলসের মালিক আমিনুর রহমান জানান, রোমানিয়ায় যেতে হলে ৬ লাখ টাকা লাগবে। প্রথমে বুকিং মানি হিসেবে ৫০ হাজার টাকা ও ওয়ার্কপারমিট আসার পর দিতে হবে আরও ৫০ হাজার টাকা। বাকি ৫ লাখ দিতে হবে ভিসা হওয়ার পর। আমিনের কথামতো রোমানিয়ায় যেতে আগ্রহীরা তার সঙ্গে স্ট্যাম্পে লিখিত চুক্তি করে টাকা দেন।
গত ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে রোমানিয়ায় ফ্লাইট দেয়া শুরুর কথা ছিল। কিন্তু ওইদিন বিকেল ৪টা থেকে মোবাইল ফোন বন্ধ করে গা ঢাকা দেন তিনি। পরে অনেকে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন তাদের পাসপোর্টে লাগানো ভিসাও ছিল জাল। এছাড়া অনেককে ভিসা হওয়ার কথা বললেও তাদেরকে পাসপোর্ট ফেরত দেননি আমিন।
শনিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে আমিন রহমান ট্রাভেলসের সামনে বিক্ষোভ করেন ভুক্তভোগীরা। ট্রাভেলসের মালিক প্রতারক আমিন রহমানকে গ্রেফতার ও আত্মসাতকৃত টাকা উদ্ধারে তারা সরকারের হস্তক্ষেপ কামনা করেন এসময়। পরে শনিবার বিকেলে আমিন রহমানকে প্রধান অভিযুক্ত করে আরও ২ জনের নাম উল্লেখ করে এসএমপি’র কোতোয়ালি থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন ভুক্তভোগীরা। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে আমিন রহমানসহ তিনজনের বিরুদ্ধে রোববার মামলা রেকর্ড করে পুলিশ। মামলার বাদী হন দক্ষিণ সুরমা উপজেলার বানেশ্বরপুর গ্রামের মো. আলাউদ্দিন মিয়ার ছেলে ফখরুল ইসলাম। মামলায় আমিন রহমানকে প্রধান ও তার দুই ভাই সিদ্দিকুর রহমান এবং জিয়াউর রহমানকে আসামি করা হয়।