
X
পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতের গঙ্গামতি এলাকায় সংরক্ষিত বনাঞ্চলের বড়ো একটি অংশের বিভিন্ন প্রজাতির গাছ মারা যাচ্ছে। দাড়িয়ে থাকা মরা গাছগুলোর মধ্যে অনেক গাছই পোড়ানো দেখা যায়। কিন্তু কে বা কারা এই গাছ পুড়ছে তা জানা নেই বনবিভাগের।
যে কারনে একদিকে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে অন্যদিকে ঝড়সহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে উপকূলের মানুষের জানমাল রক্ষায় দুর্যোগ ঝুঁকি বাড়ছে বলে মনে করেন পরিবেশ বায়দিরা।
কুয়াকাটা সৈকতের গঙ্গামতি বিভিন্ন পয়েন্টে ঘুরে দেখা গেছে, মারা যাওয়া গাছগুলোর মধ্যে অনেক পোড়া গাছের গোড়া পড়ে আছে, আবার কিছু গাছের অর্থেক পোড়া পড়ে আছে। এলাকাবাসী ও স্থানীয় জেলেরা বলছে হঠাৎ গাছগুলো পোড়া দেখা যাচ্ছে কিন্তু কে বা কারা এই গাছ পুড়ছে তা আমরাও জানিনা।
গঙ্গামতি এলাকার রহিম ফকির জানান, এক সময় মানুষ বন থেকে গাছ কেটে নিতো কিন্তু এখন আর সেরকম কিছু হয় না। কয়েকবছর যাবৎ জঙ্গলের গাছ মারা যাচ্ছে, বড় গাছগুলো অনেকদিন আগে মরে যাওয়ার কারনে ভেঙে, পঁচে যাচ্ছে।গঙ্গামতির জেলে ইলিয়াস বলেন, এলাকার জেলেরা মাঝে মাঝে সেই পড়ে থাকা গাছগুলো নিয়ে বাড়িতে রান্না করে তবে এই গাছগুলো কারা পুড়ছে তা আমরা জানিনা। কাউকে কখনো পুড়তে দেখিনি।
বন বিভাগের তথ্যমতে বছরে লেম্বুরবন, গঙ্গামতি ও কুয়াকাটা এলাকায় ঝাউ, কেওড়া, বাইন, আকাশমনি সহ বিভিন্ন প্রজাতির প্রায় ১০০ হেক্টর জমিতে বনায়ন করা হয়। তবে তাদের দাবি কিছু ঝাউগাছ ব্যাতিত অনেকগাছই বিভিন্ন ঝড়ে ও নদী গর্ভে বিলীন হয়ে গেছে।
বনবিভাগের দায়িত্বে থাকা মহিপুর রেঞ্জ কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ জানান, মারা যাওয়া গাছগুলো কিভাবে পুড়ছে তা আমাদের জানা নেই। পোড়াগাছগুলো আমাদের নজরে আসার পরে আমরা চেষ্টা করছি এর কারন বের করার।
তিনি আরো জানান, গাছগুলো অনেকদিন আগে মরার কারনে নষ্ট হচ্ছে অনেক গাছ তাই হয়তো সমুদ্রগামী জেলেরা শীতকালীন সময়ে গরম তাপ দিতে হয়তো মরা গাছে আগুন জ্বালাতে পারে।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন বাপা'র কলাপাড়া জোনের সাধারণ সম্পাদক মেজবাহ উদ্দিন মাননু বলেন, এর দায় বনবিভাগ এড়িয়ে যেতে পারে না। কারন সংরক্ষিত বনাঞ্চলের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব বনবিভাগের। যদিও মরা গাছে আগুন দেয়া হচ্ছে তারমানে অবশ্যই তার পাশে থাকা তাজা গাছগুলোও ক্ষতি হচ্ছে এটা আমাদের পরিবেশের জন্য বড় ধরনের হুমকি।
বননিভগের উচিৎ শীগ্রই যে সকল দুষ্কৃতকারীরা বন উজারে চেষ্টা করছে তাদেরকে খুঁজে বের করে আইনের আওতায় নিয়ে আসা যাতে উপকূলীয় পরিবেশ রক্ষা করা সম্ভব হয়।