
X
ফেনীর সোনাগাজীতে বাণিজ্যিকভাবে চাষাবাদ শুরু হয়েছে বিদেশি সবজি ক্যাপসিকামের। আবহাওয়া অনুকূল, উপযুক্ত মাটি ও সরকারের কৃষি বিভাগের সহযোগিতায় উপজেলার কয়েকজন কৃষক বাণিজ্যিকভাবে এ সবজির চাষাবাদ করছেন।
জানা গেছে, সাধারণ ভাবে ক্যাপসিকামের ২০ থেকে ২৭টি প্রজাতি আছে। তবে এদের মধ্যে ৫টি প্রজাতিই মোটামুটি ভাবে পরিচিত। ক্যাপসিকাম অ্যানাম ছাড়াও বাকি চারটি হল ক্যাপসিকাম ব্যাককাটাম, ক্যাপসিকাম চাইনেনস, ক্যাপসিকাম ফ্রুটিসেনস ও ক্যাপসিকাম পিউবিসেনস। বড় আকারের এবং কম ঝাঁঝালো প্রজাতির লঙ্কাকে উত্তর আমেরিকায় রেড পেপার, গ্রিন পেপার অথবা বেল পেপার বলা হয়। নিউজিল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া ও ভারতে এরাই ক্যাপসিকাম নামে পরিচিত। নানা ধরনের উপকারী উপাদানসহ ক্যাপসিকামে উচ্চ মাত্রার ভিটামিন এবং মিনারেল রয়েছে। ক্যাপসিকামে থাকে শর্করা, আমিষ, তৈল জাতীয় পদার্থ, ফাইবার, ভিটামিন এ, বি, সি, কে, ই, দশটি খনিজ লবন এবং ৩টি গুরুত্বপূর্ণ ফাইটোনিউট্রিয়েন্ট।
উপজেলা কৃষি দপ্তর জানিয়েছে, ভিটামিন সি’সহ অন্যান্য পুষ্টিগুণে ভরা এ সবজি বিদেশে রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা আয় করা সম্ভব। চলতি মৌসুমে জেলার সোনাগাজী উপজেলায় প্রায় এক হেক্টর জমিতে ক্যাপসিকাম চাষ হয়েছে। দক্ষিন চরচান্দিয়া গ্রামের আবু সাইদ রুবেল ও উত্তর চরচান্দিয়া গ্রামের শহিদুল্লাহ পাটোয়ারি নামে দুইজন কৃষকের জমিতে ক্যাপসিকাম চাষের প্রদর্শনী দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া আরো কয়েকজন কৃষক ব্যক্তিগত উদ্যোগে বাণিজ্যিকভাবেও এ সবজির চাষ করেছেন। আবহাওয়া অনুক‚লে থাকায় এবার সোনাগাজীতে ক্যাপসিকামের ভালো ফলনের আশা করছেন চাষিরা। ক্যাপসিকাম চাষিদের সফলতার খবরে আশপাশের অনেক চাষি এ সবজির বিষয়ে খোঁজ-খবর নিয়ে আগামী মৌসুমে চাষাবাদ করবেন বলে জানা গেছে।
ক্যাপসিক্যাম চাষি শহিদুল্যাহ কাউছার বলেন আগের সৃজনাল ফসলাদি চাষাবাদ করে অনেকে আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। অনেকে চাষাবাদ ছেড়ে দিয়েছেন। ফসলি জমি অনাবাদি থাকে। তাই চাহিদার সাথে তাল মিলিয়ে নতুন সবজি স্কোয়াশ ও ক্যাপসিকাম চাষাবাদ শুরু করেছি। আমাদের সফলতা দেখে অনেকে চাষাবাদ করছেন। সরকারি সহেযাগীতা পেলে অনেকে বানিজ্যিকভাবে পুষ্টিগুন সমৃদ্ধ ক্যাপসিকাম চাষাবাদ করবেন।
দক্ষিণ চরচান্দিয়ার ক্যাপসিক্যাম চাষি আবু সাঈদ জানান, ক্যাপসিকাম সারাবিশ্বেই একটি জনপ্রিয় ও মূল্যবান সবজি। এটাকে আমাদের দেশে মিষ্টি মরিচও বলা হয়। বাংলাদেশেও ক্যাপসিকাম জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। ক্যাপসিকামের আকার ও আকৃতি বিভিন্ন রকমের হয়ে থাকে। তবে সাধারণত ফল গোলাকার ও ত্বক পুরু হয়। আমাদের দেশে ক্যাপসিকাম খাওয়ার প্রচলন বেশি না থাকলেও ক্রমেই এর চাহিদা বাড়ছে। দেশের অভিজাত হোটেল ও রেস্টুরেন্টে এর ব্যাপক চাহিদা সৃষ্টি হয়েছে।
সোনাগাজী ভাই ভাই হোটেল এর মালিক মোঃ মঞ্জু বলেন রেস্টুরেন্টে সালাদসহ অভিজাত বিভিন্ন খাদ্য তৈরিতে ক্যাপসিকাম ব্যবহার করা হয়। স্থানীয়ভাবে এ সবজির জোগান না থাকায় রাজধানীসহ দেশের অন্যান্য জেলা থেকে এটি সরবরাহ করতে নানা বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। ফেনীতে এ সবজির উৎপাদন হলে স্থানীয় রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ীরা কিছুটা স্বস্তি পাবেন।
ক্যাপসিকাম চাষাবাদের বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেন মজুমদার বলেন , প্রতি বিঘায় ক্যাপসিকামের ফলন প্রায় সাড়ে ৩ হাজার কেজি পর্যন্ত হতে পারে। সবুজ ক্যাপসিকাম প্রতি কেজির বাজার মূল্য ১৫০ টাকা। আর লাল ও হলুদ রঙের ক্যাপসিকাম কেজি ৩৫০ টাকা কেজি দরে বাজারে বিক্রি হচ্ছে।
তিনি বলেন, ক্যাপসিকাম চাষিদের প্রতি বিঘায় খরচ হয় প্রায় ৫৫ হাজার টাকা। আর প্রতি বিঘার ফলন বিক্রি হয় প্রায় দেড় লাখ টাকা। ক্যাপসিকাম চাষে কৃষকের লাভ দ্বিগুণের চেয়েও বেশি থাকে।
তিনি আরো বলেন, ক্যাপসিকাম চাষাবাদের জন্য সোনাগাজী উপকূলীয় অঞ্চলের মাটি অত্যন্ত উপযোগী। সঠিকভাবে উৎপাদিত সবজির ভালো দাম পাওয়া গেলে এসব এলাকার কৃষকরা ক্যাপসিকাম চাষাবাদের দিকে কৃষকরা আরও বেশি ঝুঁকতে পারেন। এ সবজি চাষাবাদের জন্য কৃষকদের উৎসাহিত করতে প্রদর্শনী, বীজ এবং সার দেওয়া হচ্ছে।