মুহুরী সেচ প্রকল্পের আওতায় ২৭ হাজার হেক্টর জমি চাষের উপযোগী

সৈয়দ মনির আহমদ, ফেনী

সারাবাংলা

মুহুরী সেচ প্রকল্প বাস্তবায়িত হওয়ার ফলে উপকৃত হচ্ছে ফেনীর সোনাগাজী, পরশুরাম, সদর, ফুলগাজী, ছাগলনাইয়া ও চট্টগ্রামের মীরসরাই উপজেলা

2022-03-04T09:49:18+00:00
2022-03-04T09:51:58+00:00
বৃহস্পতিবার ৬ আগস্ট ২০২৬ ২২ শ্রাবণ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার ৬ আগস্ট ২০২৬
   
মুহুরী সেচ প্রকল্পের আওতায় ২৭ হাজার হেক্টর জমি চাষের উপযোগী
সৈয়দ মনির আহমদ, ফেনী
প্রকাশ: শুক্রবার, ৪ মার্চ, ২০২২, ৯:৪৯ এএম  আপডেট: ০৪.০৩.২০২২ ৯:৫১ এএম  (ভিজিট : ৩১৯)
X


মুহুরী সেচ প্রকল্প বাস্তবায়িত হওয়ার ফলে উপকৃত হচ্ছে ফেনীর সোনাগাজী, পরশুরাম, সদর, ফুলগাজী, ছাগলনাইয়া ও চট্টগ্রামের মীরসরাই উপজেলা । এর ফলে ২০,১৯৪ হেক্টর জমির সেচ সুবিধা এবং ২৭,১২৫ হেক্টর জমি সম্পূরক সেচ সুবিধার আওতায় আসে। এ অঞ্চলে বাড়তে থাকে ফসলের উৎপাদন। ১৯৮৫ সালে বাস্তবায়িত হয় সোনাগাজীর মুহুরী সেচ প্রকল্পটি।


আর এ কাজে ব্যয় হয় প্রায় ১৫৬ কোটি ৮৬ লাখ ২০ হাজার টাকা। বৈদেশিক সাহায্য সংস্থা আইডিএ, সিডা, ইইসি এই প্রকল্প বাস্তবায়নে সহায়তা করেছিল। সংস্থাগুলোর সহায়তার পরিমাণ ছিল প্রায় ৪০ কোটি ৬ লাখ ৫২ হাজার টাকা। ১৯৭৮ সালে প্রকল্পটির কার্যক্রম শুরু হয়ে ৬ বছরে বাস্তবায়িত হয়।


জানা যায়, মুহুরী সেচ প্রকল্পের কারণে ফেনী জেলার সোনাগাজী উপজেলায় বেড়েছে বোরো আবাদ। এক সময় পানি সঙ্কটের কারণে ওই উপজেলায় বোরো আবাদ হতো না। কিন্তু মুহুরী সেচ প্রকল্প বাস্তবায়িত হওয়ার পর ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে বোরো আবাদ।


সর্বশেষ ২০২০-২০২১ অর্থবছরে সোনাগাজী উপজেলায় ৫শ’ টন ধান বেশি উৎপাদন হয়েছে বলে জানান বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি) সোনাগাজী উপজেলার দায়িত্বরত কর্মকর্তা আ.ন.ম আবদুল বাসেত। ফেনী নদী, মুহুরী নদী এবং কালিদাস পাহালিয়া নদীর সম্মিলিত প্রবাহকে আড়িবাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে ৪০ ফোক্ট বিশিষ্ট একটি বৃহদাকার পানি নিয়ন্ত্রণ কাঠামো (রেগুলেটর) তৈরি করে ফেনী জেলার ছাগলনাইয়া, পরশুরাম, ফুলগাজী, সোনাগাজী এবং চট্টগ্রাম জেলার মীরসরাই উপজেলার কিয়দাংশ এলাকায় বর্ষা মৌসুমে বন্যার প্রকোপ কমানো ও আমন ফসলে অতিরিক্ত সেচ সুবিধা প্রদানের উদ্দেশ্যে নির্মিত হয়েছিল সোনাগাজীর মুহুরী সেচ প্রকল্প। এর ফলে ২০,১৯৪ হেক্টর জমি সেচ সুবিধা এবং ২৭,১২৫ হেক্টর জমি সম্পূরক সেচ সুবিধার আওতায় আসে। কৃষকদের দাবি মুহুরী সেচ প্রকল্প থেকে সোনাগাজীর কৃষকেরা কোন প্রকার সেচ সুবিধা পাচ্ছেন না। জানা যায়, তিনটি কারনে নির্মাণ করা হয় সেচ প্রকল্পটি। নদী ভাঙন, সাগরের লোনা পানি থেকে বিস্তৃর্ন অঞ্চল রক্ষা ও অধিক ফসল উৎপাদন।


দীর্ঘদিন পর নদী ভাঙন থেকে রক্ষা ও সাগরের লোনা পানি থেকে সোনাগাজীবাসী সুফল পেলেও অধিক ফসল উৎপাদন করতে পারছেনা কৃষক।
সূত্র জানায়, শুষ্ক মৌষমে মুহুরী প্রকল্প থেকে সেচ সুবিধার মাধ্যমে বোরো ধান ও রবিশষ্য উৎপাদন করার জন্য যে সেচ সুবিধা পাওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছিল তা বাস্তবে হয়নি।

সোনাগাজী কৃষি বিভাগ জানায়, সোনাগাজীতে ছোট বড় ৫৪টি খাল রয়েছে । গত অর্থবছরে শকুনিয়া খাল খনন করে পানি উন্নয়ন বোর্ড।। অন্যান্য খালগুলো, উদ্বার ও খনন না করার কারণে প্রকল্প থেকে পানি সরবরাহ করা যাচ্ছে না। ফলে বর্ষাকালে পানিবদ্ধতা ও শুষ্কমৌষমে খালগুলোতে পানি শূন্যতা সৃষ্টি হয়। ওই অবস্থায় আউশ ও আমন ধান কিছুটা উৎপাদন হলেও বোরোধান উৎপাদন হচ্ছে না।


বাদামতলি এলাকার কৃষক ফয়জুল হক সবুজ জানান, সোনাপুর, সফরপুর, চর ডোব্বা, চর ছান্দিয়াসহ কয়েকটি গ্রামে কৃষকেরা নিজ উদ্যোগে বোরো আবাদ করছেন, কিন্তু মুহুরী সেচ প্রকল্প থেকে কোন ধরনের সেচ সুবিধা পাচ্ছে না।
চর ছান্দিয়ার কৃষক ছালেহ আহম্মদ জানান, আমাদের গ্রামের দু’পাশে ২টি খাল থাকলেও দীর্ঘদিন সংস্কার ও খনন না করায় খালগুলোতে বাড়ি-ঘর, দোকান নির্মাণ করে রেখেছে। ফলে বর্ষাকালে পানিবদ্ধতা ও শুষ্কমৌষমে পানি শূন্যতার সৃষ্টি হয়। যার কারণে সোনাগাজী কৃষকের বছর জুড়ে দুঃখ লেগেই থাকে।

সোনাগাজী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসেন মজুমদার জানান, মুহুরী সেচ প্রকল্পের পানি দিয়ে জেলার প্রতিটি উপজেলায় জমিতে রবিশষ্য উৎপাদন ও  বোরো আবাদ করা হচ্ছে।  
সোনাগাজী উপজেলা চেয়ারম্যান জহির উদ্দিন মাহমুদ লিপটন জানান, বোরো আবাদ বৃদ্ধি ও জলাবদ্ধতা নিরসনের লক্ষে খালগুলোতে সংস্কার করা হবে। তিনি আরো বলেন খালগুলো সংস্কার হলে মুহুরী সেচ প্রকল্পের পানি প্রবাহ ঠিক থাকবে। তাহলে এ অঞ্চলের কৃষক উপকৃত হবে এবং উৎপাদন অনেক বেড়ে যাবে। 







Loading...
Loading...


সারাবাংলা এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : bulletinadbd@gmail.com
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy