
মুহুরী সেচ প্রকল্প বাস্তবায়িত হওয়ার ফলে উপকৃত হচ্ছে ফেনীর সোনাগাজী, পরশুরাম, সদর, ফুলগাজী, ছাগলনাইয়া ও চট্টগ্রামের মীরসরাই উপজেলা । এর ফলে ২০,১৯৪ হেক্টর জমির সেচ সুবিধা এবং ২৭,১২৫ হেক্টর জমি সম্পূরক সেচ সুবিধার আওতায় আসে। এ অঞ্চলে বাড়তে থাকে ফসলের উৎপাদন। ১৯৮৫ সালে বাস্তবায়িত হয় সোনাগাজীর মুহুরী সেচ প্রকল্পটি।
আর এ কাজে ব্যয় হয় প্রায় ১৫৬ কোটি ৮৬ লাখ ২০ হাজার টাকা। বৈদেশিক সাহায্য সংস্থা আইডিএ, সিডা, ইইসি এই প্রকল্প বাস্তবায়নে সহায়তা করেছিল। সংস্থাগুলোর সহায়তার পরিমাণ ছিল প্রায় ৪০ কোটি ৬ লাখ ৫২ হাজার টাকা। ১৯৭৮ সালে প্রকল্পটির কার্যক্রম শুরু হয়ে ৬ বছরে বাস্তবায়িত হয়।
জানা যায়, মুহুরী সেচ প্রকল্পের কারণে ফেনী জেলার সোনাগাজী উপজেলায় বেড়েছে বোরো আবাদ। এক সময় পানি সঙ্কটের কারণে ওই উপজেলায় বোরো আবাদ হতো না। কিন্তু মুহুরী সেচ প্রকল্প বাস্তবায়িত হওয়ার পর ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে বোরো আবাদ।
সর্বশেষ ২০২০-২০২১ অর্থবছরে সোনাগাজী উপজেলায় ৫শ’ টন ধান বেশি উৎপাদন হয়েছে বলে জানান বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন (বিএডিসি) সোনাগাজী উপজেলার দায়িত্বরত কর্মকর্তা আ.ন.ম আবদুল বাসেত। ফেনী নদী, মুহুরী নদী এবং কালিদাস পাহালিয়া নদীর সম্মিলিত প্রবাহকে আড়িবাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে ৪০ ফোক্ট বিশিষ্ট একটি বৃহদাকার পানি নিয়ন্ত্রণ কাঠামো (রেগুলেটর) তৈরি করে ফেনী জেলার ছাগলনাইয়া, পরশুরাম, ফুলগাজী, সোনাগাজী এবং চট্টগ্রাম জেলার মীরসরাই উপজেলার কিয়দাংশ এলাকায় বর্ষা মৌসুমে বন্যার প্রকোপ কমানো ও আমন ফসলে অতিরিক্ত সেচ সুবিধা প্রদানের উদ্দেশ্যে নির্মিত হয়েছিল সোনাগাজীর মুহুরী সেচ প্রকল্প। এর ফলে ২০,১৯৪ হেক্টর জমি সেচ সুবিধা এবং ২৭,১২৫ হেক্টর জমি সম্পূরক সেচ সুবিধার আওতায় আসে। কৃষকদের দাবি মুহুরী সেচ প্রকল্প থেকে সোনাগাজীর কৃষকেরা কোন প্রকার সেচ সুবিধা পাচ্ছেন না। জানা যায়, তিনটি কারনে নির্মাণ করা হয় সেচ প্রকল্পটি। নদী ভাঙন, সাগরের লোনা পানি থেকে বিস্তৃর্ন অঞ্চল রক্ষা ও অধিক ফসল উৎপাদন।
সোনাগাজী কৃষি বিভাগ জানায়, সোনাগাজীতে ছোট বড় ৫৪টি খাল রয়েছে । গত অর্থবছরে শকুনিয়া খাল খনন করে পানি উন্নয়ন বোর্ড।। অন্যান্য খালগুলো, উদ্বার ও খনন না করার কারণে প্রকল্প থেকে পানি সরবরাহ করা যাচ্ছে না। ফলে বর্ষাকালে পানিবদ্ধতা ও শুষ্কমৌষমে খালগুলোতে পানি শূন্যতা সৃষ্টি হয়। ওই অবস্থায় আউশ ও আমন ধান কিছুটা উৎপাদন হলেও বোরোধান উৎপাদন হচ্ছে না।