২০ দিন পর রহস্য উন্মোচন: শ্রীপুরে মায়ের খুনি মেয়ে ও তার বন্ধু!

আব্দুল লতিফ, গাজীপুর

সারাবাংলা

গাজীপুরের শ্রীপুরে চাঞ্চল্যকর গলাকেটে হত্যা কান্ডের ২০দিন পর রহস্য উন্মোচন করল পুলিশ। মিলেছ ওই নারীর পরিচয়। তিনি উপজেলার

2022-03-04T18:28:55+00:00
2022-03-04T18:28:55+00:00
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬ ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬
   
২০ দিন পর রহস্য উন্মোচন: শ্রীপুরে মায়ের খুনি মেয়ে ও তার বন্ধু!
আব্দুল লতিফ, গাজীপুর
প্রকাশ: শুক্রবার, ৪ মার্চ, ২০২২, ৬:২৮ পিএম   (ভিজিট : ২১২)
X


গাজীপুরের শ্রীপুরে চাঞ্চল্যকর গলাকেটে হত্যা কান্ডের   ২০দিন পর  রহস্য উন্মোচন করল পুলিশ। মিলেছ ওই নারীর পরিচয়। তিনি উপজেলার শ্রীপুর  পৌর এলাকার কেওয়া পূর্ব খন্ড গ্রামের মৃত আবুতাহেরর স্ত্রী মিনারা খাতুন (৪৫)। 

গত ১১ ফেব্রুয়ারি রাতে ঘাতকরা মিনারাকে গলাকেটে নৃসংশভাবে হত্যা করে মরদেহ উপজেলার বরমী ইউনিয়নের ভিটিপাড়া গ্রামের সদুখারটেক নামক স্থানের বিলের পাশে ফেলে রাখে। পরদিন  সন্ধ্যায় শ্রীপুর থানা পুলিশ ওই নারীর মরদেহ উদ্ধার করে।

হত্যাকান্ডের সাথে জরিত থাকায় নিহতের মেয়ে ও একই এলাকার  মো.ফরিদের স্ত্রী শেফালি (২৫) ও তার বন্ধু শেরপুর জেলার শ্রীবরদী থানার কাজীরচর গ্রামের মো.মেরাজ উদ্দিনের ছেলে সোহেল রানা (৩০)। সে ভাংনাহাটি গ্রামের রত্নার বাড়িতে ভাড়ায় থেকে স্থানীয় পোষাক কারখানায় চাকুরী করতো।গ্রেফতার কৃতরা আদালতে স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি দিয়েছে।
   
শুক্রবার ( ৪মার্চ) সকালে গাজীপুর জেলার কালিয়াকৈর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আজমির হোসেন সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

তিনি জানান, হত্যাকাণ্ডের পর থেকে পুলিশ গভীর ভাবে তদন্ত শুরু করে। হত্যাকাণ্ডের শিকার মিনারা খাতুনের স্বামী আবু তাহের মারা যায় অনেক বছর পূর্বে। এরপর এক মেয়ে শেফালীকে নিয়ে শুরু হয় তাঁর জীবন সংরাম। নিজের নামে ছিলো সামান্য জমি। এই জমি টুকু আবু তাহের লিখে দেন মেয়ে নামে। 

শর্ত ছিলো তিনি মারা যাওয়ার পর জমির মালিক হবে মেয়ে শেফালী। এরই মধ্যে মিনারার এক ভাই ঢাকায় জেলখানায় আটকা রয়েছে একটি মামলায়। কিছু অর্থ সহয়তা চেয়েছিল মমিনারার ভাই। ভাইকে সহায়তাকরতে  গরু বিক্রি করতে চেয়ছিল মিনারা। মায়ে গরু বিক্রির চেষ্টাকে ভালভাবে  নেয়নি মেয়ে শেফালী। তখন থেকেই মা'কে হত্যার পরিকল্পনা শুরু করে। খুনী শেফালী চাকুরী করতো স্থানীয় একটি পোশাক কারখানায়।

সেখানে পরিচয় হয় সহকর্মী সোহেল রানার সঙ্গে। একদিন  সোহেল রানার সাথে মাকে হত্যার পরামর্শ করে।  সোহেল রানা মিনারাকে  খুন করার জন্য প্রথমে ১ লাখ টাকা দাবি করে। এরপর মেয়ে শেফালী ৪০ হাজার টাকা দিতে রাজি হয়। সর্বশেষ নগদ ১৫ হাজার টাকা সোহেলকে দেয় শফসালী। 

 পরিকল্পনা মতে গত ১১ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা ছয়টার দিকে শেফালী অটোরিক্সায় কেওয়া পূর্বখন্ড এলাকা  থেকে বরমী ওয়াজ মাহফিলে যাওয়ার কথা বলে মা'কে ভালো জামাকাপড় বোরকা পড়িয়ে রওনা হয় বরমীর দিকে।এরপর কিছু দূর যাওয়ার পর সঙ্গী হয় খুনী সোহেল রানা।

ওই কর্মকর্তা আরও জানান, পথিমধ্যে বরমী ইউনিয়নের ভিটিপাড়া এলাকায় যাওয়ার পর বাথরুমে যাওয়ার কথা বলে প্রথমে নামেন সোহেল। পরে নামে শেফালী। একপর্যায়ে দুজনে  মিনারাকে  জোর করে গভীর জঙ্গলে নিয়ে যায় । প্রথমে  শেফালী  ইট দিয়ে মাকে সজোরে মাথার পিছনের  আঘাত করে।  মায়ের বুকে উপর  চেপে বসে মাথা চেপে ধরে শফালী। গলায় ছুড়ি চালিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে  সোহেল রানা। এরপর খুনী শেফালী আর সোহেল পাশের বিলে  হাত পা ধুয়ে আবার অটোরিকশা যোগে বাসায় ফিরে আসে। 

তিনি আরও জানান, গত ২ মার্চ কেওয়া এলাকায় একটি জঙ্গল থেকে দুপুর ১২ টার দিকে শেফালীকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত শেফালী নিহত মিনারা খাতুনের মেয়ে, তার স্বামীর নাম মো. ফরিদ মিয়া। একই তারিখে রাত সাড়ে দশটার দিকে খুনী সোহেল রানাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসা  বাদে গ্রেফতার কৃতরা হত্যাকান্ডের লোমহর্ষক বরণনা দেয়।

পুলিশের ওই কর্মকর্তা আরো জানান, গ্রেফতারকৃতরা বৃহস্পতিবার আদালতে পৃথক ভাবে  স্বীকারোক্তি মূলক জবানবন্দি দিয়েছে। 






Loading...
Loading...


সারাবাংলা এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy