
পাহাড়ে আধিপাত্যের বিস্তারের দ্বন্দ্বে বান্দরবানের রোয়াংছড়িতে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের ব্রাশ ফায়ারে মগ বাহিনীর ৪ সশস্ত্র সদস্যের তাদের মরদেহ উদ্ধার করে রোয়াংছড়ি থানা পুলিশ।
আজ রোববার (৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সাঙ্গু নদীর ক্যাচালং মৌজার সিয়ামুখপাড়া এলাকার নদীর পাড়ে থেকে মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
আইনশৃংখলা বাহিনী ও স্থানীয়রা জানায়, রোয়াংছড়ি তারাছায় শনিবার জনসংহতি সমিতির (জেএসএস)'র চাঁদা কালেক্টর উনুমং মার্মাকে (বাহিনীতে নাম রয়েল) গুলি করে হত্যার পর লাশ বস্তায় ভরে ইঞ্জিন বোটে করে রুমা অভিমুখে নিয়ে যাওয়ার খবরে পথে রোয়াংছড়ি উপজেলার তারাছা ইউনিয়নের ক্যাচালং মৌজার ঘেরাও বাজারের সিয়ামুখপাড়া এলাকায় মগ লিবারেশন পার্টির (এমএলপি) সশস্ত্র গ্রুপের উপর টার্গেট করে থাকা জেএসএস সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা ব্রাশ ফায়ার করে শুরু করে। এতে ঘটনাস্থলেই মগ বাহিনীর ৪ সশস্ত্র সন্ত্রাসী নিহত হয়। নিহতদের লাশ ক্যাচালং মৌজার ঘেরাও বাজারের সিয়ামুখপাড়ার নদীর ঘাটে পড়ে ছিলো। নিহতরা সকলে মগ লিবারেশন পার্টির জলপাই রঙের পোষাক পরিহিত অবস্থায় ছিলো। তবে নিহতদের নাম পরিচয় পাওয়া যায়নি। ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ, সেনাবাহিনী'সহ আইনশৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা সাঙ্গু নদী পথে ইঞ্জিন বোটে ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করেছে। এছাড়াও সন্ত্রাসীদের ব্যবহৃত গুলির খোসা, ম্যাগজিন, পোষাক, ব্যাগ এবং ওয়াকি টোকি সেট উদ্ধার করা হয়।
এদিকে ব্রাশ ফায়ারে চার জনের মৃত্যুর ঘটনায় তারাছা ঘেরাও, কানন বম পাড়া'সহ আশপাশের এলাকাগুলোতে পাহাড়ীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় মংইউ খুমি পাড়ার বাসিন্দার লুকিং খুমি বলেন, শনিবার বিকালের দিকে কেচালং মৌজার ঘেরাও-রুমা সীমান্তবর্তী নদীর ঘাটে গোলাগুলির শব্দ শোনা গিয়েছিল। গুলির শব্দে পাড়াবাসীরা আতঙ্কে পালিয়ে পাহাড়ে চলে যায়। সকালে নদীর পাড়ে লাশগুলো পড়ে থাকতে দেখা যায়।
স্থানীয় তারাছা ইউনিয়নের ইউপি সদস্য সাইচ থুই বলেন, গুলির শব্দ শুনেছি। কারা কাদের গুলি করেছিল সেটি বুঝতে পারিনি। ভয়ে গ্রামবাসীরা এদিকে ওদিকে পালিয়ে যায়। কিন্তু রাতে সবাই বাড়িতে ফিরলেও তিন জন নারী পাহাড়ে লুকিয়ে ছিলো, তাদের খোঁজতে বেড়িয়ে রোববার সকালে নদীর পাড়ে ৪জনের লাশ পাওয়া যায়। তাদের মধ্যে একজনের লাশ মাটি চাপা দেয়া অবস্থায় ছিলো।
স্থানীয় বন প্রহরী চচি অং মারমা বলেন, লাশ গুলো দেখতে পেয়ে পাড়াবাসীরা পুলিশকে খবর দেন। নিহতদের সবার গায়ে জলপাই রঙের পোষাক রয়েছে। নিহতরা কারা সেটি বলতে পারবো না। তবে লাশ গুলোর পাশাপাশি গুলির খোসা'সহ বিভিন্ন সরঞ্জামও পাওয়া গেছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বান্দরবানের পুলিশ সুপার জেরীন আখতার জানান, সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের ব্রাশ ফায়ারে সশস্ত্র আরেকটি গ্রুপের ৪জন নিহত হয়েছে। নদীর চড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়ে থাকা অবস্থায় গুলিবিদ্ধ ৪জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে হত্যাকান্ডের সাথে পাহাড়ের সশস্ত্র কোন গ্রুপ জড়িত বিষয়টি এখনো নিশ্চিত নয়। হত্যাকান্ডের ঘটনায় থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।