প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৮ মার্চ, ২০২২, ৭:০৮ পিএম (ভিজিট : ২৬৫)

X
২০১৮ সালের সড়ক নিরাপত্তা আন্দোলনের সময় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গুজব ছড়ানোর অভিযোগে দায়ের করা মামলায় আদালতের আদেশ অমান্য করায় রাজশাহীর সাইবার ট্রাইব্যুনাল এক পুলিশ কর্মকর্তাকে এক টাকা জরিমানা করেছেন। অনাদায়ে তাকে কোর্ট সময় পর্যন্ত কারাদণ্ডেরও নির্দেশ দেন আদালত।
আজ মঙ্গলবার (৮ মার্চ) দুপুরে আদালতের বিচারক জিয়াউর রহমান জরিমানার এই আদেশ দেন।
দণ্ডপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তার নাম রওশন আলী। তিনি বর্তমানে পাবনার আমিনপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। আদালতের আদেশ না মানায় তার এই জরিমানা হয়েছে জানিয়ে আদালতের ১ নম্বর পাবলিক প্রসিকিউটর ইসমত আরা বেগম।
তিনি বলেন, 'পাবনা জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখার কর্মকর্তা থাকাকালীন ২০১৮ সালের সড়ক নিরাপত্তা আন্দোলনের সময় সোশ্যাল মিডিয়ায় গুজব ছড়ানোর জন্য রওশন এক যুবককে গ্রেপ্তার করে এবং তার বিরুদ্ধে একটি মামলা করেছিলেন। মামলায় সাক্ষ্য দিতে ওসি রওশন আলীকে ছয়বার আদালতে হাজির হওয়ার জন্য তলব করা হলেও তিনি ট্রাইব্যুনালের আদেশে সাড়া দেননি।'
তিনি আরও বলেন, 'ট্রাইব্যুনাল ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮ এর ৪৮৫ এ ধারার কার্যক্রম শুরু করলে, ওসি রওশন আলী শেষ মুহূর্তে আদালতে লিখিতভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করেন এবং ট্রাইব্যুনাল তাকে মৌখিকভাবে সতর্ক করে। ক্ষমাপ্রার্থনা করায় পরবর্তীতে ৪৮৫ এ ধারার কার্যক্রম থেকে রওশিনকে অব্যাহতি দেন।’ তিনি আরও বলেন, ট্রাইব্যুনাল তাকে এক টাকা জরিমানা করেছেন। কারণ আদালতের কাছে মনে হয়েছিল যে, তিনি আদালতের ক্ষমার সুযোগের অপব্যবহার করেছেন এবং আদালতে তার লিখিত ক্ষমা চাওয়া ৪৮৫ এ ধারার কার্যক্রম থেকে নিজেকে বাঁচানোর একটি প্রচেষ্টা ছিল এবং তিনি হৃদয় থেকে অনুতপ্ত নন।’
ইসমত আরা বেগম বলেন, ‘ট্রাইব্যুনাল বলেছেন পুলিশ অপরাধমূলক ঘটনা তদন্ত করে প্রকৃত অপরাধীকে বিচারের জন্য সোপর্দ করবে। আদালতে সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে বিচার হয়। প্রমাণ উপস্থাপনের দায়িত্ব পুলিশের। একজন সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে আদালতে সাক্ষ্য দেওয়া তার দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য আদালতের সমন বা প্রক্রিয়াকে ইচ্ছাকৃতভাবে অবহেলা করা বা প্রত্যাখ্যান করা CRPC এর ৪৮৫এ ধারার অধীনে একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। যা ট্রাইব্যুনাল পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করেছেন।’
ইসমত আরা আরও বলেন, ‘মামলার নথি, প্রসেস রেজিস্টারস, সাক্ষীর লিখিত ও মৌখিক বক্তব্যসহ সমস্ত বিষয় পর্যালোচনা শেষে CRPC এর ৪৮৫এ ধারার প্রসিডিং এ সাক্ষী মো. রওশন আলীকে দোষী সাব্যস্ত করেন আদালত। আদালতের উদারতা ও ন্যায়বিচারের স্বার্থে উক্ত আদালতে তাকে এক টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে কোর্ট সময় পর্যন্ত ওই পুলিশ কর্মকর্তাকে কারাদণ্ডের আদেশও দেন আদালত। আদালত পর্যবেক্ষণে আরও উল্লেখ করেছেন- বর্তমানে তথ্যপ্রযুক্তি হাতের মুঠোয়। সাক্ষীর প্রসেস পাননি। কোনো কোনো সাক্ষী এমন দাবি করে কোর্টে সাক্ষী দিতে আসতে বিলম্ব করে। ফলে মামলা নিষ্পত্তি বিলম্ব হয় এবং বিচারপ্রার্থীদের হয়রানি বাড়ে। এক্ষেত্রে সাক্ষীর প্রসেস দ্রুত পাপ্তি নিশ্চিত করতে একটি কার্যকর এ্যাপস উদ্ভাবন করা যেতে পারে। গুরুত্বপূর্ণ মামলায় দ্রুত সাক্ষী উপস্থাপনে প্রতিটি জেলায় পুলিশের একটি সাক্ষী সহায়ক সেল থাকতে পারে।’