
X
ভাঙ্গারির দোকান থেকে চোরাই ভ্যান উদ্ধার ও ইউপি নির্বাচনে পক্ষে কাজ না করায় আদালতে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে এক ভাঙ্গারি ব্যবসায়ির বিরুদ্ধে।
গত ৬ ফেব্রুয়ারি মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার রূপসা বাজার বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদকসহ ৬ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করেন ভাঙ্গারি ব্যবসায়ি সাবেক ইউপি সদস্য নিজাম উদ্দিন।
নিজাম উদ্দিন শিবালয় উপজেলার রূপসা গ্রামের খোরশেদ আলীর ছেলে। তিনি গত ইউপি নির্বাচনে উলাইল ইউনিয়ন পরিষদের ৭নং ওয়ার্ডের মেম্বার পদে নির্বাচন করে পরাজিত হন।
মামলার অন্যান্য আসামীরা হলেন- বাজার বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম শফি, তার ভাই ব্যবসায়ি আলাউদ্দিন হোসেন, রুপসা গ্রামের মওলা আলী মোল্লার ছেলে সুরুজ মোল্লা, শের আলীর ছেলে সেলিম, তার ভাই রিফাত ও গাংধাইর গ্রামের লালনের ছেলে শহীদ।
মামলার এজাহারে নিজাম উদ্দিন উল্লেখ করেছেন, আসামীরা পূর্ব শত্রুতার জের ধরে গত ৩ ফেব্রুয়ারি তার ভাঙ্গারি দোকানে অনধিকার প্রবেশ করে প্রায় ৯ লাখ ৫৭ হাজার টাকার তামা, পিতল ও কাস্টিং এর মালামাল ও ক্যাশ বাক্স থেকে নগদ দুই লাখ টাকা চুরি করে নিয়ে যায়। পাশাপাশি তারা দোকানের টিনের বেড়া ভেঙ্গে ১ লাখ টাকার ক্ষতি সাধন করে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিজাম উদ্দিন রুপসা বাজারের পাশেই জনৈক মো: আলামিনের একটি বাড়ি ভাড়া নিয়ে সেখানে ভাঙ্গারি মালের ব্যবসা করেন। ভাই ভাই ভাঙ্গারি স্টোর নামের সেই দোকানে তিনি বেশ কয়েকজন হকারের মাধ্যমে ভাঙ্গারি মাল কিনে তা অন্যত্র বিক্রি করে থাকেন।
সম্প্রতি ঘিওর উপজেলার ধুলন্ডি গ্রামের আব্দুর রহমান নামের এক ব্যক্তির ব্যাটারিসহ একটি ভ্যানগাড়ি (আনুমানিক মূল্য ৩০ হাজার টাকা) চুরি হয়। গত ৩ ফেব্রুয়ারি আব্দুর রহমানের চুরি যাওয়া ভ্যানটি নিজামের ভাঙ্গারি দোকানে দেখতে পায়। ওই সময় তার দোকানে আরো কয়েকটি ভ্যান গাড়িও তিনি দেখতে পান। পরে বিষয়টি বাজার বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম, ওই ওয়ার্ডের ইউপি মেম্বার আফতাব উদ্দিনসহ কয়েকজনকে অবহিত করেন তিনি। পরে তারা নিজামের দোকানে তল্লাশি করে ভ্যানটি শনাক্ত করে। উপস্থিত গণ্যমান্য ব্যক্তিদের কাছে নিজাম এক হকারের কাছ থেকে ভ্যানটি কিনেছে বলে স্বীকার করেন। এসময় উপস্থিত ব্যক্তিসহ এলাকার অনেক মানুষ নিজামের এমন কর্মকান্ডের প্রতিবাদ জানিয়ে তার বিচার দাবী করেন। পরে ইউপি সদস্য এই বিষয়টি নিয়ে ৫ ফেব্রুয়ারি ইউনিয়ন পরিষদে বিচারের দিন ধার্য করেন।
স্থানীয় ইউপি সদস্য আফতার উদ্দিন জানান, স্থানীয় কয়েকজন ফোন করে জানায় যে, নিজামের ভাঙ্গারি দোকানে চুরির মাল পাওয়া গেছে। খবর পেয়ে আমি কয়েকজনকে সাথে নিয়ে ঘটনাস্থলে যাই। চুরি যাওয়া ভ্যানের মালিকসহ অনেক উপস্থিত জনতা সেখানে ছিল। পরে নিজাম চুরি যাওয়া ভ্যানটি হকারের কাছ থেকে কিনে রেখেছে বলে স্বীকার করে। তার দোকানে মাঝে মাঝেই চুরির মাল পাওয়া যায়। এবিষয়ে স্থানীয়রা তার বিচার দাবী করলে ৫ ফেব্রুয়ারি ইউনিয়ন পরিষদে বিচারের দিন ধার্য করা হয়। কিন্তু ওই দিন নিজাম বিচারে উপস্থিত হননি।
মামলার আসামী বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক শফিকুল ইসলাম জানান, নিজামের ভাঙ্গারি দোকানে এর আগেও একাধিক চুরির মাল পাওয়া গেছে। সম্প্রতি তার দোকানে চুরির ভ্যান পাওয়া গেছে। গত নির্বাচনে তার পক্ষে কাজ না করার কারণে এবং চুরির মালামালের ব্যাপারে ঘটনাস্থলে যাবার কারণেই তাদের নামে মামলা দেয়া হয়েছে। এছাড়াও এই মামলা যাদেরকে আসামী করা হয়েছে তারা সবাই রুপসা বাজারের প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ি। এমনকি দুই তিনজন যারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেননা তাদের নামেও মামলা দেয়া হয়েছে।
সেলিম নামের আরেক আসামী জানান, এর আগে নিজাম উদ্দিন তাদের আমাদের ঘর ভাড়া নিয়ে ভাঙ্গারি ব্যবসা করতো। মাঝে মাঝেই চুরির মালামাল পাওয়া যেত তার দোকানে। যে কারণে তাকে আমাদের ঘর থেকে উঠিয়ে দেয়া হয়। মিথ্যা একটি মামলা দিয়ে আমাদের হয়রানি করা হচ্ছে। আমরা প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু তদন্ত দাবী করছি।
উলাইল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনিসুর রহমান জানান, চুরি ও লুটের অভিযোগে করা মামলার আসামীরা এই ঘটনার সাথে জড়িত নন। যাদের নামে মামলা দেয়া হয়েছে তারা বাজারের প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ি।
এব্যাপারে শিবালয় থানার পরিদর্শক (তদন্ত) খালেদ মনসুর জানান, সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। পরে কয়েকজন সনাক্তকারীদের চুরি যাওয়া মালামাল স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে দিয়ে দেওয়া হয়েছে। ওই ঘটনায় ভুক্তভোগীরা কোন অভিযোগ করেনি। এদিকে নিজাম উদ্দিনের করা আদালতের অভিযোগের বিষয়ে থানায় তদন্ত চাওয়া হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।
এব্যাপারে মামলার বাদী নিজাম উদ্দিন জানান, আমরা হকারের কাছ থেকে বিভিন্ন ভাঙ্গারির মালামাল কিনে থাকি। অনেক দিন আগে এক হকার আমার দোকানে একটি ভ্যান তার নিজের বলে বিক্রি করে। ঘটনার দিনই আমি ওই হকারসহ আরেকজনকে ধরে পুলিশের কাছে তুলে দেই। কিন্তু আসামীরা ঘটনার দিন আমার দোকানে অনধিকার প্রবেশ করে বিভিন্ন মালামাল চুরি করে নিয়ে যায়। যে কারণে আমি মামলা করেছি।