প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া ঘর পেয়ে মুখে হাসি ফুটেছে গৃহহীন মানুষের

রুবেল আহমেদ, আখাউড়া (ব্রাহ্মণবাড়িয়া)

সারাবাংলা

দিনমজুরির কাজ করে খাই। জায়গা-জমি নেই। পরের বাড়িতে থাকি। স্বপ্নেও ভাবিনি আমাকে উপহারের ঘর দেবে সরকার। একটা পাকা

2022-07-27T16:11:29+00:00
2022-07-27T16:34:26+00:00
শনিবার ৮ আগস্ট ২০২৬ ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
শনিবার ৮ আগস্ট ২০২৬
   
প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া ঘর পেয়ে মুখে হাসি ফুটেছে গৃহহীন মানুষের
রুবেল আহমেদ, আখাউড়া (ব্রাহ্মণবাড়িয়া)
প্রকাশ: বুধবার, ২৭ জুলাই, ২০২২, ৪:১১ পিএম  আপডেট: ২৭.০৭.২০২২ ৪:৩৪ পিএম  (ভিজিট : ৩৪৬)
X

দিনমজুরির কাজ করে খাই। জায়গা-জমি নেই। পরের বাড়িতে থাকি। স্বপ্নেও ভাবিনি আমাকে উপহারের ঘর দেবে সরকার। একটা পাকা বাড়ি পেলাম। জীবনের শেষ দিনগুলো নিশ্চিন্তে কাটাতে পারবো।’ এভাবেই কথাগুলো বলেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার মোগড়া ইউনিয়নের খলাপাড়ায় অন্যের জমিতে বসবাস করা রশিদ মিয়া(৬৫) ৪ ছেলে ১ মেয়ে। মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন। ৩ ছেলে বিয়ে করে অন্যনতর চলেগেছে। ১ ছেলে প্রতিবন্ধি, থাকেন তার সাথেই।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, খলাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা এই গ্রামেই বসতবাড়ি ছিল রশিদ মিয়ার পরিবারের।ছোটবেলায় তার পিতা তাদের পৈত্রিক বসতবাড়ি বিক্রি করেদেয় এরপর থেকে উপজেলার বিভিন্ন জায়গায় স্থায়ী-অস্থায়ীভাবে বসবাস করতে হয়েছে। সর্বশেষ খলাপাড়ায় অন্যের জমিতে ঝুপড়ি ঘরে আশ্রয় নেন। আপনজন বলতে কেউ নেই। এ অবস্থায় সরকারি ঘর পেয়ে মুখে হাসি ফুটেছে রশিদ মিয়ার।

রশিদ মিয়ার মতো অভাব-অনটনের মধ্যে জীবন চলছে একই ইউনিয়নের আব্দুল মমিনের তার বয়সও সত্তুরের ওপরে। বিভিন্ন সময় আশ্রয় নিতে হয়েছে অন্যের জায়গায়।সবশেষে গঙ্গাসাগড় এলাকায় মোতালেব মিয়ার বাড়িতে আশ্রিত হিসেবে বসবাস করতেন। আব্দুল মমিন এখানে স্থানীয় একটি ‘স’ মিলে কাজ করে পরিবারের জীবিকা নির্বাহ করে আসছিলেন।বৃদ্ধ বয়সেও কঠোর পরিশ্রমের কাজ করে সংসার চালাতে হয়। কোনো রকমে জীবনযাপন করলেও থাকার জায়গা ছিল না। অবশেষে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উপলক্ষে আশ্রয়ণ প্রকল্পের পাকা ঘর পেয়েছেন তারা। পাকা ঘরে এখন শান্তিতে বসবাস করছেন।

তাদের মতো উপহারের ঘর পেয়েছেন এই উপজেলার ১৮১ পরিবার। মাথা গোঁজার ঠাঁই পেয়ে সংসারে সচ্ছলতা আনতে কেউ শাকসবজি বিক্রি করছেন, কেউ দর্জির কাজ করছেন, মুদি দোকান দিয়েছেন, আবার কেউবা করছেন হাস-মুরগি পালন। তাদের অধিকাংশই এখন স্বাবলম্বী। বাকিরাও স্বাবলম্বী হওয়ার সংগ্রাম করছেন।

রশিদ মিয়া বলেন, ‘অভাবের সংসারে একাকী জীবন নিয়ে ঝুপড়ি ঘরে থাকতে হতো। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাদের পাকা ঘর দিয়েছেন। এখানে এসে পেয়েছি আমার মতো আরও অসহায় ৫৮ পরিবারকে। এখন একাকী মনে হয় না। শান্তিতে বসবাস করছি আমরা।’

আয়নাল হক বলেন, ‘অবসর সময়ে আমরা বয়স্ক ব্যক্তিরা পাকা ঘরের বারান্দায় বসে সময় কাটাই। গল্প করি, স্মৃতিচারণ করি। এভাবে সময় কেটে যায়।’

আব্দুল মমিন বলেন, ‘আমি কিছুটা অসুস্থ। এখানে এসে অনেক আপনজন পেয়েছি। বয়স্ক ব্যক্তিরা বন্ধুত্ব গড়ে তুলেছি। অন্যের জায়গায় ঝুপড়ি ঘরে জীবনের দীর্ঘ সময় কাটিয়েছি। ঝুপড়ি ঘরে থেকে কখনও ভাবিনি পাকা ঘর পাবো, ওই ঘরের বারান্দায় বসে সময় কাটাতে পারবো। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কল্যাণে তা সম্ভব হয়েছে। আল্লাহর কাছে শেখ হাসিনার জন্য দীর্ঘায়ু কামনা করি। তিনি যেন আমাদের মতো সব অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারেন।’

খুদেজা বিবি বলেন, ‘উপহারের ঘরের পাশে লাউ গাছ ও বিভিন্ন শাকসবজি চাষাবাদ করেছি। হাঁস-মুরগি পালন করছি। আমি এখন স্বাবলম্বী। এখানের বাসিন্দারা সুখে-শান্তিতে আছেন।’

দেশের কোনও মানুষ যেন গৃহহীন না থাকে এমন নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তারই ধারাবাহিকতায় আখাউড়া উপজেলায় গৃহহীনদের পাকা ঘর দেওয়া হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সব গৃহহীনকে দেওয়া হবে এই ঘর।

-বাবু/নুর





Loading...
Loading...


সারাবাংলা এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy