
X
কক্সবাজারের টেকনাফ থানার ঐহিত্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হ্নীলা শাহ মজিদিয়া ইসলামিয়া আলিম মাদ্রাসায় রাজাকারের দুবৃত্তায়নে থেকে অদ্যাবধি রেহাই পাচ্ছে না ছাত্র-শিক্ষক। বরাবরই থেকে গেছে জামাতের দাপট।বর্তমান সময়ে পরিস্থিতি অনুকূল না থাকলেও জামায়াতের রাজনৈতিক কূট-কৌশলে আধিপাত্য বজায় রেখেছে। জামায়াত নেতা মৌলানা আবদুস ছোবহানের লাঞ্চনার শিকার হয়েছে অনেক শিক্ষক সর্বশেষ লাঞ্চনার শিকার একজন নিরীহ সহকারি অধ্যাপক।
মাদ্রসা সূত্রে জানা যায়, গত ২ আগষ্ট সকাল সাড়ে এগারটার সময় মৌলানা আবদুস ছোবহান মাদ্রাসার অফিস কক্ষে ঢুকে অজুহাতের ছলে তেলে বেগুনে জ্বলে উঠে রাগে অগ্নিশর্মা হয়ে প্রিন্সিপ্যালসহ অপরাপর শিক্ষকদের সামনে সহকারি অধ্যাপক নুরুল আমিনকে মারধর শুরু করে।একপর্যায়ে টেবিলে থাকা হ্যান্ড স্যানিটাইজারের বোতল ছুড়ে মারলে, বাম চোখে লেগে মারাত্মক ক্ষতি হয়। এরপর আরও ক্ষিপ্ত হয়ে কিল, ঘুষি, লাথি মেরে তাঁর পরনের পাঞ্জাবী ছিড়ে ফেলে।
পরবর্তীতে ২য় দফায় মাদ্রাসার অধ্যক্ষ এবং সভাপতি রাশেদ মোহাম্মদ আলী ও শিক্ষকদের সামনে বিচারিক আলোচনার এক মুর্হুতে বিতর্কিত শিক্ষক মৌলানা আবদুস ছোবহান আবারও তার হাতে থাকা মোবাইল মৌলানা আবদুস ছোবহানকে ছুড়ে মারলে মোবাইলটি তার মুখে লেগে আঘাত করে। এসময় অশ্রাব্য ও অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন।
সহকারী শিক্ষক মৌলানা আবদুস ছোবহানের দাপটে এসময় মাদ্রাসার সভাপতি অধ্যক্ষ সহ সবাই নিরব ও নিরীহ দর্শকের ভুমিকা পালন করে!
ঘটনার বিষয়ে প্রত্যক্ষদর্শির বরাতে জানাযায়, মাদ্রাসার সহকারি অধ্যাপক নুরুল আমিন অপরাপর শিক্ষকের সহযোগিতায় শিক্ষার্থীদের ক্যান্টিন ব্যবহার ও নামাজের বিষয়ে নিয়ম শৃঙ্খলা ঠিক করে দেয়। এতেই উক্ত জামায়াত নেতা মাওলানা আবদুস ছোবহান ক্ষিপ্ত হয়ে বলে এ প্রতিষ্ঠানে আমি সবকিছু অধ্যক্ষসহ সবাই আমার কথায় উঠে এবং বসে। সেখানে এ শিক্ষক কেন আমার কথা ছাড়া কোন নিয়ম চালু করেছে। এতে তার চরম ক্ষোভ এবং ক্ষোভের বর্হি:প্রকাশ। এই ঘটনার বিষয় নিয়ে একজন শিক্ষক মন্তব্য করে বলেন, মৌলানা আবদুস ছোবহানের মতে এতে তার রাজনৈতিক প্রভাবে আঘাত লেগেছে। যার জন্য তার ছেলে শিবির নেতা তার সাঙ্গপাঙ্গসহ অফিস ঘেরাও করে রাখে।
জামায়াতের রাজনৈতিক শক্তি ও স্থানীয় প্রভাব দেখায়। বাধ্য হয়ে সভাপতি, অধ্যক্ষ তাৎক্ষণিক সংশ্লিষ্ট দুথজন শিক্ষককে ১৫ (পনেরো) দিনের জন্য কার্যক্রম থেকে স্থগিত ঘোষণা করে।
সূত্র জানান, মজিদিয়া মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষক মৌলানা আবদুস ছোবহান টেকনাফ উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারী এবং তারই পুত্র আবদুল্লাহ আল মামুন টেকনাফ উপজেলা শিবিরের সভাপতি। এহেন রাজাকারি ক্ষমতা ও স্থানীয় পেশিশক্তির কারণে এ প্রতিষ্ঠানের সকল স্তরে দুর্বৃত্তায়নে ভরে গেছে।
তাদের মতের অমিল হলেই মাদ্রাসায় কোন না কোনভাবেই শারীরিক ও মানসিক হেনস্থার করছে এমনকি গালিগালাজ থেকেও রেহাই পাচ্ছে না।
মাদ্রাসার একজন শিক্ষক নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সাবেক প্রিন্সিপাল মাওলানা কামাল উদ্দিন, বর্তমান এবতেদায়ী শিক্ষক মাষ্টার আবদুর রহিমসহ অনেকে তার সরাসরি আঘাতের শিকার হয়েছিল। সর্বশেষ শারীরিক আঘাতের শিকার হয়েছেন অত্র প্রতিষ্ঠানের সহকারি অধ্যাপক মোহাম্মদ নুরুল আমিন।
সবশেষে মাদ্রাসার সভাপতি চলে গেলে ৩য় দফায় অধ্যক্ষ, শিক্ষক ও উপস্থিত পাবলিকের সামনে হাতুড়ি দিয়ে নুরুল আমিনকে পেটায়। ইংরেজী প্রভাষক শহিদুল মোস্তফা, আরবী প্রভাষক ইয়াছিন তড়িৎ পদক্ষেপে প্রাণে রেহাই পেয়ে যায়। মাদ্রাসা ক্যাম্পাসে তার ছেলে শিবির নেতা ও তার দলবল দা, কিরিচ, লাঠি নিয়ে হামলা চালাতে চেষ্টা করে। গোটা ক্যাম্পাসে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করে বাপ-ছেলে।
ঘটনার এমন অবস্থা দেখে কোন উপায় না দেখে অধ্যক্ষসহ উপস্থিত সকলেই প্রাণপণ চেষ্টায় কোন রকমে জান নিয়ে পালিয়ে যায়।
ভুক্তভোগী সহকারি অধ্যাপক নুরুল আমিন জানান, মৌলানা আবদু ছোবহানের সাথে তার এমন ঘটনার ঘটার মতো কারণ নাই। তিনি শুধুমাত্র প্রতিহিংসা আর গোপন রাজনৈতিক এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতেই প্রকাশ্যে বারবার আঘাত করে যাচ্ছে। বর্তমানে তিনি খুবই নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তদন্তপূর্বক শাস্তি চান বলে উল্লেখ করেন।
ঘটনায় বিষয়ে নুরুল আমিনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে টেকনাফ মডেল থানার অভিযোগ গ্রহণ করেছে বলে জানা যায়।
মাদ্রাসা সূত্রে জানাযায়, বর্তমানে ছাত্র-শিক্ষক প্রশাসনের কাছে তাদের নিরাপত্তার জোর দাবী জানায়। যে কোন সময় তারা বড় ধরনের বিপদের আশংকাসহ জিম্মি দশা থেকে মুক্তি চান।
-বাবু/ফাতেমা