প্রকাশ: রোববার, ১৪ আগস্ট, ২০২২, ১১:৪৭ এএম (ভিজিট : ৩১৮)

X
গতবছরের ২৩ ডিসেম্বর ঢাকার সদর ঘাট থেকে বরগুনার উদ্দ্যেশ্যে ছেড়ে আসা অগ্নিদগ্ধ সেই অভিযান-১০ লঞ্চটি মালিকের জিম্মায় দেয়া হয়েছে। নৌ আদালতের নির্দেশক্রমে তদন্ত কর্মকর্তা ও সদর থানার উপপুলিশ পরিদর্শক (এসআই) নজরুল ইসলাম লঞ্চ মালিক হামজালাল শেখ’র জিম্মায় প্রদান করেন।
শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টায় এ জিম্মানামা চুড়ান্ত করে হস্তান্তর করা হয়। অগ্নিদগ্ধ লঞ্চের নিখোঁজ যাত্রীর স্বজনের দায়ের করা এ মামলায় আলামত হিসেবে সুগন্ধা নদীর তীরে শহরের ডিসি পার্ক চরে জব্দ করে রাখা হয়েছিলো। জিম্মাদার চুড়ান্ত হবার পরে দুটি বল্কহেডের সহযোগিতায় ঢাকার উদ্যেশ্যে ঝালকাঠি ছেড়ে রওনা দিলেও প্রতিক‚ল আবহাওয়ার কারণে আর যেতে পারেনি। রোববার সকালে নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন এসআই নজরুল ইসলাম।
জিম্মানামায় উল্লেখ করা হয়, গতবছরের ২৩ ডিসেম্বর লঞ্চে অগ্নিকান্ডের ঘটনায় স্বজনহারা মনির হোসেন ঝালকাঠি সদর থানায় ২৭ ডিসেম্বর ২৮০/২৮৫/২৮৭/৩০৪-ক/১৯ ধারায় মামলা (নং-১২) দায়ের করেন। এ মামলার আলামত হিসেবে ঝালকাঠি ডিসি পার্ক সংলগ্ন সুগন্ধা নদীর তীরে ভাসমান অবস্থায় নোঙ্গর করে রাখা হয়। মামলার জব্দকৃত আলামত এমভি অভিযান-১০ লঞ্চ ঢাকার নৌ আদালতের স্মারক নং-১৪৫/২২, তারিখ-২৪-০৭-২২ইং অনুযায়ী আদেশ মূলে পুলিশের হেফাজত থেকে লঞ্চের মালিক হামজালাল শেখ’র নিকট জিম্মা প্রদান করা হলো। যার পিআর নং-১৫৬/২১। শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে এ জিম্মানামা চুড়ান্ত হলে লঞ্চের মালিক দুটি বল্কহেডের সহযোগিতায় ঢাকার উদ্যেশ্যে ঝালকাঠি ছেড়ে রওনা দিলেও কিছুদূর গিয়ে প্রতিক‚ল আবহাওয়ার কারণে আর যেতে পারেনি। পুনরায় ঝালকাঠি ডিসি পার্ক সংলগ্ন সুগন্ধা নদীর তীরে ভাসমান অবস্থায় নোঙ্গর করে রাখা হয়।
লঞ্চ নেয়ার জন্য মালিক হামজালাল শেখ ঝালকাঠিতেই অবস্থান করছেন। রোববার সকালে নেয়া হতে পারে বলে জানিয়েছেন এসআই নজরুল ইসলাম।
উল্লেখ্য, অগ্নিকান্ড ও হতাহতের ঘটনায় চারটি মামলা হয়েছে। তার মধ্যে দুটি হয়েছে ঝালকাঠি থানায়। বরগুনার আদালতে হয়েছে আরেকটি মামলা। আর সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তর থেকে ঢাকার নৌ আদালতে হয়েছে অন্য মামলাটি। ২৪ ডিসেম্বর শুক্রবার রাতে পোনাবালিয়া ইউনিয়নের গ্রাম পুলিশ সদস্য মো. জাহাঙ্গির হোসেন বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামাদের আসামী করে অপমৃত্যু মামলা ও ২৭ ডিসেম্বর সকালে স্বজনহারা মনির হোসেন নামে এক ব্যক্তি বাদী হয়ে পুড়ে যাওয়া এমভি অভিযান-১০ লঞ্চের মালিক হামজালাল শেখসহ লঞ্চটির আট কর্মচারীর নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাত পরিচয় ২০ জন কর্মচারীকে আসামি করে এ মামলা দায়ের করেন। বাদী মনির হোসেন ঢাকার ডেমরা থানার বক্সনগর এলাকার বাসিন্দা। তাঁর বোন তাসলিমা আক্তার, ভাগ্নি সুমাইয়া আক্তার, সুমনা আক্তার তানিসা ও ভাইয়ের ছেলে জুনায়েদ ইসলাম পুড়ে যাওয়া লঞ্চের মধ্যে ছিল। তারা সবাই নিখোঁজ রয়েছে।
ঝালকাঠি থানার দুটি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই নজরুল ইসলাম বলেন, ঝালকাঠি থানার মামলা দুটির তদন্তে দগ্ধ এমভি অভিযান-১০ হেফাজতে নেয় পুলিশ। তাছাড়া পুলিশ লঞ্চ থেকে দুটি পোড়া মটরসাইকেলও আলামত হিসেবে থানায় নেয়া হয়। নৌ আদালতের নির্দেশক্রমে পোড়া লঞ্চটির মালিক হামজালাল শেখ’র নিকট জিম্মায় দেয়া হয়েছে। পোড়া মটোর সাইকেল দুটির বিষয়ে আদালতের কোন নির্দেশনা না পাওয়া জব্দ রাখা হয়েছে।
-বাবু/শোভা