ভূঞাপুরে বিধবার বাড়িতে হামলা, নগদ অর্থ সহ স্বর্ণালঙ্কার লুট

কোরবান আলী তালুকদার, ভূঞাপুর (টাঙ্গাইল)

সারাবাংলা

টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে জমি সংক্রান্ত বিরোধে বিধবা চায়না বেগমের বাড়িতে হামলার অভিযোগ উঠেছে মো.বিপ্লবের বিরুদ্ধে। গত রবিবার (১৪ আগস্ট)

2022-08-16T17:22:51+00:00
2022-08-16T18:41:48+00:00
বুধবার ৫ আগস্ট ২০২৬ ২১ শ্রাবণ ১৪৩৩
বুধবার ৫ আগস্ট ২০২৬
   
ভূঞাপুরে বিধবার বাড়িতে হামলা, নগদ অর্থ সহ স্বর্ণালঙ্কার লুট
কোরবান আলী তালুকদার, ভূঞাপুর (টাঙ্গাইল)
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১৬ আগস্ট, ২০২২, ৫:২২ পিএম  আপডেট: ১৬.০৮.২০২২ ৬:৪১ পিএম  (ভিজিট : ৫৪৫)
X

টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে জমি সংক্রান্ত বিরোধে বিধবা চায়না বেগমের বাড়িতে হামলার অভিযোগ উঠেছে মো.বিপ্লবের বিরুদ্ধে। গত রবিবার (১৪ আগস্ট) সন্ধ্যায় উপজেলার ঢেপাকান্দি গ্রামের মৃত মোস্তাফিজুর রহমানের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। বিপ্লব ঢেপাকান্দি গ্রামের মৃত ফটিক ভূঁইয়ার ছেলে। এসময় নগদ অর্থ সহ স্বর্ণালঙ্কার লুটপাট করারও অভিযোগ উঠেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়রা জানান, গত রবিবার আনুমানিক সন্ধ্যা ৭টায় ঢেপাকান্দি গ্রামের মৃত ফটিক ভূঁইয়ার ছেলে মো. বিপ্লব হোসেন (২৭) ও তার সহযোগী একই গ্রামের আ. বাছেদ খানের ছেলে বাবু খান (২৫), মৃত ফটিক মিয়ার ছেলে মুক্তার আলী (২৪), মৃত কাজল ভূঁইয়ার ছেলে মোকা ভূঁইয়া (৩২), আনু ভূঁইয়ার ছেলে কান্দু ভূঁইয়া (২৫), জয়নাল শেখের ছেলে শাকিল শেখ (৩০) সহ আরো ৫/৭ মিলে হামলা চালায়। এসময় তারা ঘরে ঢুকে নগদ ২৫ হাজার টাকা ও আট আনা ওজনের স্বর্ণের চেন ছিনিয়ে নেয়। এছাড়াও প্রায় এক লক্ষ টাকার আসবাবপত্র ভেঙে তছনছ করে দেয়। এসময় চায়না বেগম ও তার পুত্রবধু বাঁধা দিলে তাদেরকে এলোপাথাড়ি মারতে শুরু করে বিপ্লব ও তার সঙ্গীরা। পরে তাদের চিৎকারে এলাকাবাসী ছুটে আসলে তারা পালিয়ে যায়। বর্তমানে গুরুত্বর আহত অবস্থায় চায়না বেগম ভূঞাপুর হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে।

চায়না বেগমের প্রতিবেশী মোকলেস মিয়া ও রিপন শেখ বলেন, স্বামী হারা চায়না বেগমের একমাত্র ছেলে সাদ্দাম হোসেন বিজিবিতে চাকরি করেন। তিনি ও তার ছেলের বৌ বাড়িতে থাকেন। বাড়িতে কোন ছেলে মানুষ না থাকায় বিপ্লব মাঝে মধ্যেই নানা ভয়ভীতি দেখিয়ে হুমকি ধামকি দিত। গতকাল বিপ্লব ও তার সঙ্গীরা রাতে চায়না বেগমের বাড়িতে হামলা চালায়। তার ১০ মাসের নাতিকে মেরে ফেলার হুমকি দেয়।

ঢেপাকান্দি গ্রামের মোনায়েম হোসেন বলেন, গত ৫ আগস্ট শুক্রবার ৩টার সময় আমি গরু কেনার জন্য পিকনা হাটে যাচ্ছিলাম। এসময় বিপ্লব হোসেন ও তার চাচাতো ভাই মোকা ভূঁইয়া রেল লাইনে উপরে পিছন থেকে এসে আমার উপর হামলা করে গরু কেনার ১ লাখ ২০ হাজার টাকা সহ মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয়। ওদের জ্বালায় আমরা গ্রামবাসী আতঙ্কে রয়েছি। কিছু বলেতে গেলে দলবল নিয়ে মারতে আসে। গত রবিবার আমার এই প্রতিবেশীর বাড়িতে হামলা করে ও তাদেরকে মারধর করে।তারা এখন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।

চায়না বেগমের ছেলের বউ সুমি খাতুন বলেন, বিপ্লব সহ আরো ১০/১২ জন লোক সন্ধ্যা রাতে আমাদের বাড়িতে হামলা করে। আমার গলায় থাকা স্বর্ণের চেইন ও নগদ ২৫ হাজার টাকা জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেয়। বাঁধা দিলে আমার কোলে থাকা ১০ মাসের শিশুকে গলা টিপে ধরে মেরে ফেলার হুমকি দেয়। এসময় তারা আমার শাশুড়ী ও আমাকে মারধর করে। আমি প্রশাসনের কাছে এর সঠিক বিচার চাই।

হাসপাতালে ভর্তি থাকা চায়না বেগম বলেন, আমার কেনা সম্পত্তির ৬ শতাংশ জমি জোর করে দখল করার জন্য বিভিন্ন ভাবে হুমকি ধামকি দিত বিপ্লব। জমি দিতে অস্বীকার জানালে রবিবার সন্ধ্যা রাতে বিপ্লব তার দলবল নিয়ে আমার বাড়িতে অতর্কিত হামলা চালায়। এসময় তারা আমাকে ও আমার ছেলের বৌকে বেধম মারধর করে। এসময় নগদ টাকা ও স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেয়। আমাদের চিৎকারে এলাকাবাসী ছুটে আসলে তারা পালিয়ে যায়। এবিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থার জন্য আমরা এসআই রফিকুল ইসলামের মাধ্যমে একটি অভিযোগ পত্র দিয়েছি। আমরা এর সঠিক বিচার চাই।

তবে পুরো ঘটনা অস্বীকার করে অভিযুক্ত বিপ্লব হোসেন বলেন, চায়না বেগমের বাড়ির পাশে একটি ভাড়া ঘরে আমি প্রাইভেট পড়াই। ঘটনার দিন আমি পড়াতে এসে দেখি রুমের সামনে টিনের বেড়া দেয়া। পরে আমি সেখান থেকে দুই একটি টিন খুলে ফেলি। এর পরে আমি কিছু জানিনা।

এবিষয়ে ভূঞাপুর থানার এসআই রফিকুল ইসলাম বলেন, গতকাল দুই পক্ষের লোকজন থানায় এসে অভিযোগ দিয়েছেন। ঘরোয়াভাবে বসে বিষয়টির মীমাংসার প্রক্রিয়া চলছে। ওসি স্যার বিষয়টি আমলে রেখেছেন।

-বাবু/ফাতেমা





Loading...
Loading...


সারাবাংলা এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : bulletinadbd@gmail.com
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy