প্রকাশ: বুধবার, ১৭ আগস্ট, ২০২২, ৫:০৪ পিএম (ভিজিট : ৪০৫)

X
উন্নয়নের ছোঁয়ায় বদলে যাচ্ছে নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলার বড়কাশিয়া বিরামপুর ইউনিয়ন। প্রধানমন্ত্রীর অঙ্গীকার গ্রাম হবে শহর তার দৃষ্টান্ত এক সময়ের অবহেলিত এই ইউনিয়ন। নান্দনিক এই ইউনিয়নের গ্রাম গুলো এখন দূর থেকে মানুষকে হাতছানি দেয়। সুন্দর সুন্দর পাকা রাস্তা প্রবেশ করেছে প্রত্যেক গ্রামে। রাস্তার পাশে বসানো হয়েছে সোলার পথ লাইট। দুপাশে সামাজিক বনায়নের আওতায় লাগানো হয়েছে নানা ধরণের গাছ। প্রত্যেক গ্রামের প্রবেশ মুখে স্থাপন করা হয়েছে হাত ধোয়ার বেসিন। ব্যবস্থা করা হয়েছে বিশুদ্ধ পানির। এই ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে অরাজনৈতিক বিনোদন ক্লাব যেখানে কিশোর থেকে বৃদ্ধরাও আনন্দ করতে পারে।
ইউনিয়নবাসীর বসার জন্য পরিষদের রাস্তার পাশে নির্মান করা হয়েছে পাকা বেঞ্চ। মানুষের সুবিধার জন্য বসানো হয়েছে নতুন বাজার। সব মিলিয়ে এ ইউনিয়নে একেবারেই অন্যরকম জনপদ। কয়েক বছর আগেও এই ইউনিয়নের কোনো গ্রামে বা রাস্তার পাশে তেমন কোন পাকা রাস্তা ছিল না। বর্ষার দিনে এক হাঁটু কাঁদা মারিয়ে বিভিন্ন গ্রামে ঢুকতে হতো। লোকজনকে রাতে চলতে হতো অন্ধকারে। অভাব ছিল বিশুদ্ধ পানির। সামান্য জিনিসপত্র কিনতেও লোকজনকে ছুটতে হতো দূরের বাজারে। এখন এই ইউনিয়নের ভিতরের সকল রাস্তা অলিগলি সবই এখন পাকা করা হয়েছে। এখন কোন সমস্যা নেই এই ইউনিয়নের কোনো গ্রামের বাসিন্দাদের।
শতভাগ বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়েছে। গ্রামের বাসিন্দারা এখন শহরের মানুষের মতই পাচ্ছেন নানা সুবিধা। অল্প সময়েই পাল্টে গেছে এই ইউনিয়নের চেহারা মানুষের জীবন চিত্র। বুধবার (১৭ আগষ্ট) সরেজমিনে গিয়ে চোখে পড়ে পরিচ্ছন্ন নান্দনিক এই ইউনিয়নের দৃশ্যমান উন্নয়ন ও আধুনিকতার ছাপ। কথা হয় এই ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের বাসিন্দাদের সঙ্গে। এখানকার বাসিন্দা কায়েম উদ্দিন ও সাহেব আলী সরকার জানান, স্বাধীনতা পরবর্তী সময় থেকে ইউনিয়নটি ছিল অন্যন্যা ইউনিয়নের মধ্যে খুবই অবহেলিত। সবচেয়ে বড় সমস্যা ছিল ইউনিয়নের অন্যান্য গ্রামের সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থা ও খাবার পানির। বড়কাশিয়া বিরামপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোতাহার হোসেন চৌধুরী নির্বাচিত হবার পর তার উদ্যোগে এই ইউনিয়নের ভিতরে উন্নয়নের ছোঁয়া লাগে। পাকা করা হয় ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামের প্রবেশ পথ। সংযোগ দেওয়া হয় প্রতিটি বাড়িতে বিদ্যুৎ। বসানো হয় মানুষের হাত ধোয়ার বেসিন ও বিশুদ্ধ পানি উৎপাদনের প্লান্ট। রাস্তার পাশে দেওয়া হয়েছে পথ লাইট। এই ইউনিয়নের সঙ্গে মোহনগঞ্জ উপজেলা সদর ও মহা সড়কের সংযোগ রাস্তা রয়েছে।
এখন মানুষ দিনে-রাতে স্বাচ্ছন্দে যাতায়াত করেন। বিরামপুর গ্রামে বিরামপুর বাজার নামে প্রতিষ্ঠিত বাজারের কারণে মানুষকে তাদের প্রয়োজনে দূরে কোথাও যেতে হয় না। এখানকার শিক্ষার্থীরা পাকা রাস্তার সুবাদে সহজেই পার্শ্ববর্তী স্কুল কলেজে যাতায়াত করতে পারছে। আধুনিক এসব সুবিধায় এই ইউনিয়নের মানুষের জীবন ধারা এখন পাল্টে গেছে। পার্শ্ববর্তী এলাকার মানুষদের এখন এই ইউনিয়নটি যেন হাতছানি দেয়।
এব্যাপারে মোহনগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও বড়কাশিয়া বিরামপুর ইউ.পি চেয়ারম্যান মোতাহার হোসেন চৌধুরী জানান, তিনি নির্বাচিত হবার পর তার ইউনিয়নের গ্রাম গুলোর চেহারা পাল্টে দেওয়ার উদ্যোগ নেন তিনি। প্রাথমিক ভাবে ইউনিয়নের একসময়ের সবচেয়ে অবহেলিত গ্রাম হিসেবে কয়েকটি গ্রামকে তিনি বেছে নেন মডেল গ্রাম প্রতিষ্ঠার জন্য।
এসব গ্রামের নানামুখী উন্নয়ন ও আধুনিকায়নের জন্য প্রস্তুত করেন বিভিন্ন প্রকল্প। পরে নেত্রকোনা ৪ আসনের সংসদ সদস্য রেবেকা মুমিন এমপি মহোদয়ের আন্তরিক সহযোগিতায় আমার এই ইউনিয়নটিকে শহরের আদলে গোড়ে তোলার চেষ্টা করেছি। ইউনিয়নের অন্যান্য গ্রাম গুলোর চেহারাও পাল্টে দেবার জন্য তিনি ইতোমধ্যেই বেশ কিছু কর্মসূচি প্রনয়ণ করেছেন।বর্তমান সরকারের উন্নয়নের ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখতে প্রচেষ্টা করে যাচ্ছি। এব্যাপারে তিনি ইউনিয়নবাসীর সহযোগিতা কামনা করেন।
-বাবু/ফাতেমা