গরমে পুড়ছে নেত্রকোনা,বেড়েছে রোগবালাই, বৃষ্টির জন্য প্রার্থনা

সোহেল খান দূর্জয়, নেত্রকোনা

সারাবাংলা

তখন (১৯ আগষ্ট)শুক্রবার সকাল ১১টা দিনের শুরুর দিকের সময় হলেও সূর্য যেন দ্বিগুন তেজে তাপ ছড়িয়েছে মনে হয়েছিলো।

2022-08-19T18:10:31+00:00
2022-08-19T18:10:31+00:00
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬ ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬
   
গরমে পুড়ছে নেত্রকোনা,বেড়েছে রোগবালাই, বৃষ্টির জন্য প্রার্থনা
সোহেল খান দূর্জয়, নেত্রকোনা
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৯ আগস্ট, ২০২২, ৬:১০ পিএম   (ভিজিট : ২৮৩)
X

তখন (১৯ আগষ্ট)শুক্রবার সকাল ১১টা দিনের শুরুর দিকের সময় হলেও সূর্য যেন দ্বিগুন তেজে তাপ ছড়িয়েছে মনে হয়েছিলো। এমন তাপদাহের মধ্যে পুড়তে পুড়তে শিশু সন্তানকে নিয়ে নেত্রকোনার রাজুর বাজার থেকে মোক্তারপাড়া যাওয়ার জন্য রিকশা  খুঁজে হয়রাণ হচ্ছিলেন জান্নাত সরকার নামে এক শিক্ষিকা।

কিন্তু মাত্র এক কিলোমিটারের পথ যেতে স্বাভাবিকের চেয়ে দ্বিগুন ভাড়া  চান প্রায় প্রতিটি রিকশাওয়ালা। শেষমেষ নিরুপায় হয়ে ১৫ টাকার ভাড়া ৩০ টাকা দিতে রাজি হন শিক্ষিকা জান্নাত।

অতিরিক্ত ভাড়া চাওয়ার কারণ জানতে চাইলে রিক্সা চালক জয়নুল মোল্লা বলেন, এত গরমে অল্প সময় রিক্সা চালিয়ে ক্লান্ত হয়ে যাই। তাই অল্প পথে বেশি টাকা রোজগারের চেষ্টা করি। আবার এমন সময়ও আসে, যখন যাত্রীরা টাকা বেশি দিতে চাইলেও শরীর পেরে ওঠে না।

শুধু নেত্রকোনায় নয়,গরমের কারণে এমনই ‘অস্থির’ অবস্থা বিরাজ করছে সারা দেশে। প্রায় মাসব্যাপী তীব্র গরমে নানা রকম অসুখে আক্রান্ত হচ্ছে শিশুসহ নানাবয়সী মানুষ। অবস্থা এতটাই খারাপ যে, বৃষ্টি চেয়ে নেত্রকোনার বিভিন্ন স্থানে প্রার্থনা চলছে।

এদিকে আবহাওয়াবিদেরাও তেমন সুখবর দিতে পারছেন না। বরং এ তাপমাত্রা আরো বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে নেত্রকোনা আবহাওয়া অধিদপ্তর।

বাতাসের সঙ্গে যেন আগুনের হল্কা বইছে। সূর্যের তাপে গলে যাচ্ছে রাস্তার পিচও। গুরুত্বপূর্ণ কাজ ছাড়া ঘর থেকে বের হচ্ছে না মানুষ।

এমনকি গরমের কারণে স্কুল-কলেজগুলোতেও শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি কমে এসেছে। ভ্যাপসা গরমে খেটে খাওয়া মানুষসহ সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।

গরমের কারণে গত কয়েক দিনে নেত্রকোনা সহ সারা দেশে ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন ধরনের রোগের প্রকোপ বেড়েছে। গত এক সপ্তাহে নেত্রকোনার বিভিন্ন হাসপাতালে সহস্রাধিক রোগী ভর্তি হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৮ আগষ্ট) সন্ধ্যা পর্যন্ত নেত্রকোনার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয় ৪৭০ জন রোগী। এর আগে মঙ্গলবার পর্যন্ত ভর্তি হয় ৪৫৫জন, সোমবার ১১৮ জন, রোববার ১০২ জন, আর শনিবারে ভর্তি হয় ১১৫ জন।

এ বিষয়ে বারহাট্টা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ডাঃ মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, তীব্র তাপমাত্রায় এই গরমে হাসপাতালে বেশিরভাগ রোগী গরমে স্টোক করে ভর্তি হচ্ছে। রোগীদের ২০ থেকে ২৫ শতাংশ তীব্র ডায়রিয়া বা কলেরা নিয়ে ভর্তি হচ্ছে। ভর্তি হওয়া রোগীদের বিরাট একটি অংশ শিশু ও প্রবীণ।

এমন পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকারও সতর্ক রয়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, ১৬২৬৩ নম্বরে ফোন করলে চিকিৎসকের পরামর্শ পাওয়া যাচ্ছে ২৪ ঘণ্টা।

অধিক তাপমাত্রার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ফসলের মাঠও। নেত্রকোনার বিভিন্ন স্থানে টিউবওয়েল ও স্যালো মেশিনে পানি উঠছে না। ফলে পাট ক্ষেত, ধান ক্ষেতে পানির চাহিদা মেটাতে পারছেন না কৃষকেরা।

নেত্রকোনার কৃষক মোতালেব হোসেন বলেন,দীর্ঘদিন ধরে বৃষ্টি নেই। রোদের তাপে পুড়ছে ফসলের মাঠও। এদিকে গভীর নলকূপেও পানি পাচ্ছি না। দারুণ পানি সংকটে আমার পাট ক্ষেত শুকিয়ে যেতে শুরু করেছে। এখন বৃষ্টির জন্য প্রার্থনা ছাড়া কিছুই করার নেই।

তবে তাপমাত্রা নিয়ে কষ্টে থাকলেও ‘বৃষ্টি না হওয়া নিয়ে’ কিছুটা স্বস্তিতে আছেন নেত্রকোনার আমন চাষীরা।

এ প্রসঙ্গে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক নূরুজ্জামান বলেন, এখন আমন ধান রোপণের সময়। এই সময় বৃষ্টি না হওয়ায় বিপাকে পড়েছে জেলার আমন চাষীরা। তাই বৃষ্টি না হওয়ায় বিপাকে পড়েছে চাষীরা।

এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তরও কোনো সুখবর দিতে পারছেনা। তারা বলেন, আগামী ৩ থেকে ৪ দিন নেত্রকোনায় ৩৬ থেকে ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা বহাল থাকবে। আর নেত্রকোনায় যে তাপমাত্রা বয়ে যাচ্ছে তাকে মৃদু বা মাঝারি ধরনের তাপপ্রবাহ বলা যেতে পারে।

গত প্রায় একমাস ধরেই গড়ে তাপমাত্রা ৩৭-৩৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস যাচ্ছে বলে জানান তারা।

আগামী কয়েকদিনও একই তাপমাত্রা বিরাজ করবে জানিয়ে আবহাওয়াবিদেরা বলেন, আগামী ৩-৪ দিনের মধ্যে দু’একটি স্থানে বাদে নেত্রকোনার বৃষ্টির হওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।

আবহাওয়াবিদদের আশঙ্কা এ বছর সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৪৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যেতে পারে। এর আগে ১৯৭২ সালের ৩০ মে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয় ৪৫ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস নেত্রকোনায়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বৈশ্বিকভাবেই তাপমাত্রা বাড়ছে। সামনে আরো খারাপ সময় আসতে পারে।

এ প্রসঙ্গে নেত্রকোনা সরকারি কলেজের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের এক অধ্যাপক বলেন, স্মরণকালের ভয়াবহ গরমের অন্যতম কারণ জলবায়ু পরিবর্তন ও এল নিনোর প্রভাব। এটা আমাদের মত কৃষি প্রধান দেশের জন্য মোটেই ভাল খবর নয়।

তাঁর মতে, বিষয়টি এখন আর অবহেলা করার মতও নয়। সরকারকে এখনই এল নিনো ও জলবায়ুর প্রভাব মোকাবেলার প্রস্তুতি নিতে হবে।

 -বাবু/ফাতেমা





Loading...
Loading...


সারাবাংলা এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy