প্রকাশ: শনিবার, ২০ আগস্ট, ২০২২, ১২:৩০ পিএম (ভিজিট : ২৫৫)

X
টাঙ্গাইলের ভূঞাপুরে চলতি বছরে যমুনা চরাঞ্চল সহ উপজেলায় পাট চাষের লক্ষমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে। উপজেলায় সাড়ে ৪ হাজার হেক্টর জমিতে পাট চাষ করা হয়েছে। গত বছর ৪ হাজার ২'শ হেক্টর জমিতে পাট চাষ হলেও এবছর আরো ৩'শ হেক্টর জমিতে পাট চাষ বৃদ্ধি পেয়েছে।
তবে চলতি বছরের বন্যায় উপজেলার যমুনা চরাঞ্চলে বেশ কিছু পাট পানিতে তলিয়ে নষ্ট হয়ে যায়। এর ফলে চরাঞ্চলের বেশ কিছু কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এখানকার মাটি ও আবহাওয়া পাট চাষের অনুকূলে থাকায় এবছর পাটের ফলন ভালো হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপজেলা কৃষি সম্পসারণ অধিদপ্তর।
সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজার গুলোতে দেখা যায়, উপজেলার চরাঞ্চলের কৃষকেরা কাক ডাকা ভোরে ইঞ্জিন চালিত নৌকায় পাট বিভিন্ন হাটে বিক্রির জন্য নিয়ে আসতে শুরু করেন। সেখান থেকে ব্যাটারি চালিত অটো ভ্যানে উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে নিয়ে যান। স্থানীয় হাটগুলোতে প্রতি মন পাট বিক্রি হচ্ছে ৩০০০ হাজার থেকে ৩৩০০ টাকায়।
গাবসারা গ্রামের পাট চাষী মিনহাজ উদ্দিন বলেন, অন্যান্য বছরের চেয়ে এবছর আমাদের চরাঞ্চলে পাটের আবাদ ভালো হয়েছে। পাট আবাদে খরচ ও ঝুঁকি অনেক কম। আমদের স্থানীয় হাটগুলোতে পাটের দাম মোটামুটি ভালো।
গোবিন্দাসী হাটে পাট বিক্রি করতে আসা কৃষক তারা মিয়া বলেন, আজকে গোবিন্দাসী হাটে পাটের বাজার মোটামুটি ভালো। আমি আজকে ১৪ মন পাট নিয়ে এসেছিলাম। প্রতি মন ৩১০০ টাকা দরে বিক্রি করেছি। তবে এবছর পাটের বাজার ভালো পাওয়ায় আমি খুশি।
তারা মিয়ার মতো পাট বিক্রি করতে আসা কৃষক লাল মিয়া বলেন, আজকে আমি ৯ মন পাট হাটে নিয়ে এসেছি। এরমধ্যে একটু নিম্ন মানের ৩ মন পাট বিক্রি করেছি ২৮০০ টাকা করে এবং বাকি ৬ মন ভালো মানের পাট বিক্রি করেছি ৩১০০ টাকা করে। এবছর পাট আবাদ করে আমরা অনেকটা লাভবান হয়েছি।
হাটে আসা পাটের পাইকার (ক্রেতা) জুয়েল রানা বলেন, পাটের আরোদ মালিদের রেটে বিভিন্ন হাট থেকে আমরা পাট কিনছি। বর্তমানে আমরা ভালো মানের প্রতি মন পাট ৩ হাজার থেকে ৩ হাজার ৩ শত টাকা এবং একটু নিম্ন মানের পাট ২৭'শ থেকে ৩ হাজার টাকায় কিনতেছি। তবে যমুনা তীরবর্তী গোবিন্দাসীর এই হাটটিতে ভালো মানের পাট বেশি আমদানি হয়।
এবিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোঃ হুমায়ুন কবীর বলেন, গত বছরের চেয়ে এবছর যমুনা চরাঞ্চল সহ উপজেলায় পাটের আবাদ বৃদ্ধি পেয়েছে। আমরা কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে পাটের উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য কৃষকদেরকে মাঠদিবস ও বিভিন্ন পরামর্শ সহ বিনামূল্যে সার ও বীজ দিয়েছি। আমাদের উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা মাঠ পর্যায়ে গিয়ে নিয়মিত পরিদর্শন ও কৃষকদের পরামর্শ দিয়েছেন। তিনি আরো বলেন, উপজেলায় সাড়ে ৪ হাজার হেক্টর জমিতে পাট চাষ করা হয়েছে। যার লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৭ হাজার ৫৮৯ বেল। এবছর পাটের দাম ভালো হওয়ায় আগামীতে আরো বেশি জমিতে পাটের আবাদ হবে বলে আশাবাদী।
-বাবু/শোভা