প্রকাশ: শনিবার, ২০ আগস্ট, ২০২২, ৪:২১ পিএম (ভিজিট : ৩৪৮)

X
পুরোনো কাঁচি, বটি, চাকু কিংবা দাঁ ধার করে ব্যবহার উপযোগী করাই তার কাজ। গ্রামের ভাষায় ধার কাজে ব্যবহার করা এই মেশিনের নাম শান মেশিন।
নিজের তৈরি এই শান মেশিনে প্রতিটি পাড়া মহল্লায় এবং বিভিন্ন হাট বাজারে গত ৩৫ বছর ধরে শান দেওয়ার কাজ করে সংসার চালিয়ে আসছেন লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার একজন ষাটোর্ধ বয়সের ভূমিহীন আমিরুল ইসলাম।
তিনি উপজেলার ভোটমারী ইউনিয়নের ভূল্ল্যারহাট ডাঙ্গাপাড়া ৩ নং ওয়ার্ডের মৃত ছমির উদ্দিন পাইকারের ছেলে। তার নিজের বলতে কিছুই নেই, ছেলের জমিতে একপাশে ঘর করে রাতযাপন করেন তিনি।
শনিবার (২০ আগস্ট) সরেজমিনে কালীগঞ্জ বাজারে দেখা যায়, শান দেওয়া মেশিনটির চাকা সাইকেলের প্যাডেল পা দিয়ে সজোরে ঘুরিয়ে শান দিচ্ছেন তিনি। এতে একটি পাথরের প্লেট সজোরে ঘুরতে হচ্ছে তাকে। ঘূর্ণায়মান ওই পাথরের প্লেটের কার্ণিশে লোহার চাকু,দা ও কাঁচি স্পর্শ করলে ঘর্ষণে ধার উঠে যায়। এভাবে দুই পায়ে প্যাডেল ঘোরানোর কাজ খুবই পরিশ্রমের। শরীর না কুলালেও জীবিকার তাগিদে তাকে শান দেওয়া মেশিনের প্যাডেল ঘোরাতে হচ্ছে।
আমিরুল ইসলাম বলেন, আমি একজন ভূমিহীন মানুষ। শেষ বয়সে এসে বসবাস করতে হচ্ছে ছেলের জমিতে। তাও আবার দুর্বিষহ অবস্থা। নেই মাথাগোঁজার ভাল ঠাইটুকুও। মরার আগ পর্যন্ত শান দেওয়ার কাজ করে বাঁচতে হবে। অন্য কোন ব্যবসায় যাওয়ার মত কোন টাকা পয়সা নেই। তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে একটি সরকারি ঘরের আকুতি জানিয়েছেন।
-বাবু/শোভা