প্রকাশ: শনিবার, ২০ আগস্ট, ২০২২, ৪:২২ পিএম (ভিজিট : ৩২৮)

X
বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার পাদ্রীশিবপুর ইউনিয়নের একতা বাজার সংলগ্ন কাটাখালী ও দশমী খালের উপর নির্মিত সেতুটি এখন মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। ইউনিয়নের রঘুনাথপুর ও পারশিবপুর এর সাথে সংযোগ সেতুটির মাঝখানে দুটি স্থানে পলেস্তারা খসে পরে রড বেরিয়ে গেছে। ফলে প্রতিনিয়ত ঘটছে ছোটখাটো দুর্ঘটনটা। বড় রঘুনাথপুর, ছোট রঘুনাথপুর, শাকবুনিয়া, দূর্গাপুর, পাদ্রিশিপুর, কানকি এই ৬ গ্রামের প্রায় ১৫ হাজার মানুষ এই সেতু দিয়ে চলাচল করেন। বিকল্প কোনো সড়ক না থাকায় প্রতিদিন ওই সেতু দিয়ে শত শত কোমলমতি শিশু ও স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীসহ হাজার হাজার মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করতে গিয়ে প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন। অথচ সেতুটি মেরামতের জন্য কোনো উদ্যোগ নেই স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের।
স্থানীয়রা সাংবাদিকের কাছে অভিযোগ করে বলেন, কিছুদিন আগেও সেতুর মাঝখানে পলেস্তারা খসে গিয়ে গর্তের সৃষ্টি হওয়ার পর ওখানে রাতে গর্তে পরে গিয়ে পথচারী দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে। পরে স্থানীয় লোকজন ওই গর্তে কাঠের তৈরি পাটাতন বানিয়ে এখন চলাচল করছে। এই ভাঙাচোরা সেতুটি নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
স্থানীয়রা আরো অভিযোগ করে বলেন, রঘুনাথপুর ও পারশিবপুর সড়কে দশমী খালের ওপর প্রায় ১০ বছর আগে বিএনপি নেতা ঠিকাদার কাজী বশির এর মাধ্যমে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সেতুটি নির্মাণ করেন। এই সেতু দিয়ে জেলা উপজেলা সদরের সঙ্গে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ যাতায়াত করেন। বর্তমানে সেতুটি দিয়ে কোনো প্রকার যানবাহন চলাচল করতে পারছেনা। তেতুটির নিরাপত্তা রেলিং ধসে পরেছে। সেতুটির পিলার খসে পড়ে এক দিকে কাত হয়ে পরেছে। বর্তমানে সেতুটি এমন ভগ্নদশায় যানবাহনের যাত্রীসহ পথচারীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন।
এ বিষয়ে পাদ্রীশিবপুর ইউপি চেয়ারম্যান মো.জাহিদ হাসান বাবু বলেন, সেতুটি প্রায় ১০ বছর আগে নির্মিত হয়েছে। কাজের মান হয়তো ভালো না হওয়ায় খুব কম সময়ে সেতুটির এই পরিস্থিতি হয়েছে। সেতুটি এখন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সেতুর মাঝখানে একাধিক স্থানে গর্তের সৃষ্টি হওয়ায় নতুন করে নির্মাণ করা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী আবুল খায়ের মিয়া বলেন, পাদ্রীশিবপুর একতা বাজার সংলগ্ন আয়রন সেতুটির বিষয়ে আমরা কোনো অভিযোগ পাইনি। সরেজমিনে গিয়ে সেতুর বর্তমান পরিস্থিতি দেখে প্রয়জনিয় ব্যাবস্থা গ্রহন করা হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সজল চন্দ্রশীল বলেন, এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলীর সঙ্গে কথা বলবো। বর্তমানে সেতুটি সংস্কার করতে বা নতুন করে নির্মাণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নির্দেশ দেয়া হবে।
-বাবু/ফাতেমা