
X
নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলায় ২১ আগস্ট নৃশংসতম হত্যাকান্ডের প্রতিবাদে কেন্দুয়া উপজেলা ছাত্রলীগ বিক্ষোভ মিছিল সহকারে প্রতিবাদ সভার আয়োজন করা হয়েছে।
রবিবার (২১ আগস্ট) ২১আগষ্ট বিভীষিকাময় গ্রেনেড হামলার প্রতিবাদে কেন্দুয়া উপজেলা ছাত্রলীগের উদ্দ্যোগে এক বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়।
মিছিলটির নেতৃত্ব দেন কেন্দুয়া উপজেলা ছাত্রলীগ নেতা এহসানুল হক ভূইয়া শাফিম।
মিছিলটি কেন্দুয়া জয়হরি স্প্রাই সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ থেকে শুরু হয়ে কেন্দুয়া উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে বঙ্গবন্ধু মুরালের সামনে গিয়ে শেষ হয়।
বিক্ষোভ মিছিল শেষে বঙ্গবন্ধু মুর্যালে সংক্ষিপ্ত প্রতিবাদ সভায় উপজেলা ছাত্র লীগ নেতা এহসানুল হক ভূইয়া শাফিম বলেন, বিএনপি - জামাত জোটবদ্ধ হয়ে ২১ আগষ্ট নারকীয় হামলার মাধ্যমে আওয়ামী লীগ তথা বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনাকে চিরতরে শেষ করার পাঁয়তারার নীল নকশা তৈরি করেছিল, পাশাপাশি আর একটা ১৫ আগস্টের মত বর্বরোচিত হামলার পরিকল্পনা করেছিল কিন্তু রাখে আল্লাহ মারে কে। যাকে শেষ করার জন্যই এত পরিকল্পনা, তিনিই আজকের বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। যে কোন ধরনের যড়যন্ত্র হউক না কেন, আমরা ছাত্রলীগ বিএনপি-জামাত জোটের সকল সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে দাঁত ভাঙ্গা জবাব দিতে সর্বদা প্রস্তুত।
মিছিলে আরো উপিস্থিত ছিলেন কেন্দুয়া উপজেলা ছাত্রলীগনেতা রাজন, ফারুক, আকাশ,শুভ,দিলু,রিমন,জারিফ,ফয়সাল,হৃদয়,ফারাবি বাবু,আলভি,অপু,রানা, শামীমসহ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীবৃন্দ।
আজ একুশে আগস্ট, দেশের ইতিহাসে একটি নৃশংসতম হত্যাযজ্ঞের ভয়াল দিন। ২০০৪ সালের এই দিনে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে দলটির ‘সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ ও দুর্নীতিবিরোধী’ সমাবেশে বর্বরোচিত গ্রেনেড হামলার ঘটনা ঘটে।
ওই ঘটনায় আওয়ামী লীগের মহিলা বিষয়ক সম্পাদক ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের সহধর্মিণী আইভি রহমানসহ সবমিলিয়ে ২৪ জন মারা গিয়েছিলেন। গ্রেনেডের স্প্লিন্টারের আঘাতে আহত হন ৫ শতাধিক নেতা-কর্মী। আহত হন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা। আহত আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মী-সমর্থকদের অনেকে এখনও স্প্লিন্টারের আঘাত নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।
সেদিন যা ঘটেছিল
২০০৪ সালের ২১ আগস্ট ছিল শনিবার। বিকেলে বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাস জঙ্গিবাদ ও দুর্নীতিবিরোধী সমাবেশ ছিল। সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সমাবেশ শেষে মিছিল নিয়ে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর বাসভবনের সামনে যাওয়ার কথা ছিল। এ কারণে মঞ্চ নির্মাণ না করে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে একটি ট্রাককে অস্থায়ী মঞ্চ হিসেবে ব্যবহার করা হয়। বুলেট প্রুফ মার্সিডিজ বেঞ্জে চেপে বিকেল ৫টার একটু আগে সমাবেশস্থলে পৌঁছান শেখ হাসিনা। সমাবেশে কেন্দ্রীয় নেতাদের বক্তব্যের পর তিনি বক্তব্য শুরু করেন।
বিকেল ৫টা ২২ মিনিটে বক্তৃতা শেষ করে শেখ হাসিনা তার হাতে থাকা একটি কাগজ ভাঁজ করতে করতে এগোতে থাকেন ট্রাক থেকে নামার সিঁড়ির কাছে। ঠিক সে মুহূর্তেই শুরু হয় গ্রেনেড হামলা। বিকট শব্দে বিস্ফোরিত হতে লাগল একের পর এক গ্রেনেড। পরিস্থিতির ভয়াবহতা বুঝতে ট্রাকে অবস্থানরত নেতারা ও শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত নিরাপত্তা কর্মকর্তারা মানব ঢাল রচনা করে মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা করেন বঙ্গবন্ধু কন্যাকে। পরে ঘাতকরা শেখ হাসিনার গাড়িকে টার্গেট করে গুলি চালায়। তাকে আড়াল করে বুলেটের সামনে দাঁড়িয়ে জীবন দেন তার ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকর্মী ল্যান্স করপোরাল (অব.) মাহবুবুর রশীদ।
২১ আগস্টের সেই রক্তাক্ত ঘটনায় ঘটনাস্থলেই নিহত হন ১৬ জন। বাকিরা চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। নারী নেত্রী আইভি রহমান ৫৮ ঘণ্টা মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে ২৪ আগস্ট মারা যান। বর্বরোচিত ওই হামলায় নিহতদের মধ্যে রয়েছেন- শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত নিরাপত্তারক্ষী ল্যান্স করপোরাল (অব.) মাহবুবুর রশীদ, আবুল কালাম আজাদ, রেজিনা বেগম, নাসির উদ্দিন সরদার, আতিক সরকার, আবদুল কুদ্দুস পাটোয়ারি, আমিনুল ইসলাম মোয়াজ্জেম, বেলাল হোসেন, মামুন মৃধা, রতন শিকদার, লিটন মুনশী, হাসিনা মমতাজ রিনা, সুফিয়া বেগম, রফিকুল ইসলাম (আদা চাচা), মোশতাক আহমেদ সেন্টু, মোহাম্মদ হানিফ, আবুল কাশেম, জাহেদ আলী, মোমেন আলী, এম শামসুদ্দিন, ইসাহাক মিয়া প্রমুখ।
২০০৪ সালের ২১ আগস্টের ঘটনার ১৪ বছর ১ মাস ২০ দিন পর রায় ঘোষণা করা হয়। মামলায় ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে পলাতক দুইজন, যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত ১২ জন ও বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ডপ্রাপ্ত চারজন পলাতক রয়েছেন।
-বাবু/ফাতেমা