প্রকাশ: সোমবার, ২২ আগস্ট, ২০২২, ৬:৫৬ পিএম (ভিজিট : ২৮১)

X
সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার রূপবাটি ইউনিয়নের ভূইয়াপাড়া গ্রামের মৃত আ.কাদের ফকিরের ছেলে ডা.আব্দুস সামাদ এর স্ত্রী জুলিয়া পারভিন (২৮) কতৃক মিথ্যা ও ভিত্তিহীন মামলায় হয়রানির শিকার তার আপন ভাসুর ওলি ফকির। এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায় ওলি ফকিরের আপন ছোট ভাই ডা.আব্দুস সালাম এর সাথে দীর্ঘদিন যাবৎ পৈত্রিক সম্পত্তির ভাগ বাটোয়ারা নিয়ে বিরোধ চলছিলো এ ব্যাপারে এলাকায় একাধিকবার সালিশ বৈঠকে মিমাংসাও করে দেয়া হয়েছে কিন্তু ওলি ফকিরের ছোট ভাই আব্দুস সামাদ এর স্ত্রী জুলিয়া সে মিমাংসা মানতে অস্বীকৃতি জানান এবং থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।
এলাকার একাধিক ব্যাক্তির তথ্যসূত্রে জানা যায়, যে ঘটনার বর্ণনা করে জুলিয়া পারভিন থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন সেখানে এমন কিছু ঘটেনি এবং তারা আরও জানান যে জুলিয়া পারভিনের স্বামী সামাদ ও ওলি ফকির আপন দুই ভাই। তাদের মধ্যে পৈত্রিক সম্পত্তির ভাগ বাটোয়ারা নিয়ে সামান্য বিরোধ আছে তবে এটা নিয়ে তেমন কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি গ্রাম্য সালিশ বৈঠকের সমাধান মেনে নিলে জুলিয়া পারভিন এর থানায় অভিযোগ দায়ের এর প্রয়োজন ছিলোনা বলে তারা মনে করেন।
এ ব্যাপারে জুলিয়া পারভিন এর ভাসুর হয়রানির শিকার ভুক্তভোগী ওলি ফকির জানান, তার একটি বোন আছে সেই বোনের বিবাহ দেবার জন্য টাকার প্রয়োজন হলে কয়েক ভাই সিদ্ধান্ত নেই জমি বিক্রি করার এবং ছোট ভাই আব্দুস সালাম সেই জমি ক্রয় করতে ইচ্ছে প্রকাশ করলে আমরা সম্মত হই। পরে আমার ছোট ভাই আব্দুস সালাম জমি লিখে নিতে প্রয়োজনীয় দলিল লেখা সম্পন্ন করে কিন্তু রেজিষ্ট্রি অফিসে গিয়ে দলিল পড়ে জানতে পারি আবাদি জমির পরিবর্তে ছোট ভাই বসত ভিটা লিখে নিচ্ছে এটা জানতে পেরে দলিলে স্বাক্ষর প্রদান করা থেকে বিরত থাকি আর এ কারনে ছোট ভাই আব্দুস সালাম ও তার সাঙ্গপাঙ্গ আমাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করে এবং বিষয়টি আমি গ্রামের প্রধান গণকে অবগত করি পরে বোনের বিয়ের জন্য টাকার প্রয়োজন হলে আমরা অন্য লোকের কাছে জমি বিক্রি করে বোনের বিবাহ দেই এবং ছোট ভাই আব্দুস সামাদ জমির পরিবর্তে বোনের বিয়ের জন্য যে, টাকা দিয়েছিলো সেই টাকা ফেরত নেয় কিন্তু সেটা এখন জুলিয়া পারভিন অস্বীকৃতি জানায় এবং সেই টাকা দাবি করে। আর আমার বাবা ছোট ভাই আব্দুস সামাদকে একটি টিনের ঘর লিখে দিয়েছিলো সেই ঘর সে ভেঙ্গে নিয়ে গেছে পরবর্তীতে আমরা সকলে টাকা দিয়ে আধাপাকা ৩ টি ঘর করেছি যা ৩জন ভোগ করছিলাম কিন্তু বাড়ির ভিটা লিখে না দেয়ায় ছোট ভাইয়ের স্ত্রী ক্ষিপ্ত হয়ে আমাদের সে ঘর থেকে বের করে দিতে চাইছে আর এ কারনেই আমার বিরুদ্ধে এমন মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে আমি এ মিথ্যা অভিযোগের সুষ্ট তদন্তের মাধ্যমে সঠিক বিচার চাই।
এ বিষয়ে, জুলিয়া পারভিনের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, তার শ্বশুর মৃত আঃ কাদের ফকির করশালিকা বাজারের একটি টিনের ঘর তার স্বামী আব্দুস সামাদ এর নামে লিখে দেন সেই টিনের ঘর ভেঙ্গে পরবর্তীতে সকলে মিলে আধাপাকা করে তিনটি ঘর তৈরি করা হয় এবং আমার স্বামী তার অপর ২ ভাইকে ২ টি ঘর ভোগদখল করার সুযোগ দেন কিন্তু তারা আমাদের সাথে অসদাচরণ করার কারণে আমরা এখন আর তাদের সে ঘর ব্যবহার বা ভাড়া প্রদান করতে দিবোনা এটা জানানোর পরে তারা জোড় পূর্বক দোকান ঘরে তালা ঝুলিয়ে দেয় তাই আমি আমার স্বামীর দোকান ঘর এর ভোগদখল বুঝে পেতে চাইলে তারা আমার সাথে খারাপ আচরণ করে আমাকে মারধর করে আর এর প্রতিকার চেয়ে আমি থানায় অভিযোগ দায়ের করেছি।
এ ব্যাপারে, শাহজাদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ নজরুল ইসলাম মৃধার কাছে মুঠোফোনে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, আমি কিছুদিন হলো এ থানায় যোগদান করেছি। এ অভিযোগটির বিষয়ে আমি অবগত নই। তবে, বিষয়টি আগে বিস্তারিত জেনে নেই তারপর সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
-বাবু/ফাতেমা