প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৩ আগস্ট, ২০২২, ১০:০৬ এএম (ভিজিট : ২৮৮)

X
নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলায় শোকজ করার ঘটনাকে কেন্দ্র এক মাদরাসা অধ্যক্ষকে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে আহত করেছেন একই মাদরাসার হিসাব সহকারি।
সোমবার (২২ আগস্ট) দুপুরের দিকে উপজেলার সান্দিকোণা ইউনিয়নের মডেল বাজার মোড়ে ঘটেছে এমন ঘটনাটি। আহত মাদরাসা অধ্যক্ষ এএমএম মুহিববুল্লাহ (৫০) কে কেন্দুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। তিনি উপজেলার রোয়াইল বাড়ি আমতলা ইউনিয়নের রাজনগর গ্রামের মৃত শামছুদ্দিনের ছেলে এবং উপজেলার মনকান্দা এম ইউ আলিম মাদরাসার অধ্যক্ষ।
অভিযুক্ত হলেন, একই মাদরাসার হিসাব সহকারি জাহাঙ্গীর ভূইয়া জুয়েল। তিনি গন্ডা ইউনিয়নের গাড়াদিয়া গ্রামের গোলাম মোস্তফা ভূইয়ার ছেলে।
কেন্দুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন আহত মাদরাসা অধ্যক্ষ এএমএম মুহিববুল্লাহর সাথে বিকালে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি বলেন, ২০২০ সালে মাদরাসার হিসাব সহকারি পদে চাকরি হওয়ার পর থেকেই মাদরাসায় অনুপস্থিত থাকতেন জাহাঙ্গীর ভূইয়া জুয়েল।
তিনি আরোও বলেন,এরই মধ্যে সে একটি হত্যা মামলার আসামী হয়ে যায়। তাকে মাদরাসায় আসার কথা বললে সে জানায়- মাদরাসায় এসে আমার বেতন নিতে হবে নাকি? এসব কারণে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
দিনের পর দিন অনুপস্থিত থাকার কারণে গত ২০ আগস্ট তাকে শোকজ করি। এরপর থেকে সে শোকজের জবাব না দিয়ে উল্টো হুমকি দিয়ে আসছিল। সোমবার সকালে মাদরাসায় যাওয়ার পথে দুপুরের দিকে মডেল বাজার মোড়ে দেশীয় অস্ত্রাদি নিয়ে জুয়েল ও তার লোকজন আমার ওপর অতর্কিত হামলা করে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে আহত করে এবং আমার মোটরসাইকেলের চাবিসহ আমার সাথে থাকা মাদরাসার গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র ছিনিয়ে নিয়ে যায়।
তবে অভিযুক্ত জাহাঙ্গীর ভূইয়া জুয়েলের সাথে কথা হলে তিনি অধ্যক্ষকে মারপিটের অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, এ ঘটনার সাথে আমি জড়িত নই। উল্টো অভিযোগ করে জুয়েল বলেন, ২০২১ সালের ১০ জুলাই আমাকে অন্যায়ভাবে সাময়িক বরখাস্ত করা হয় এবং গত ২০ আগস্ট শোকজ করা হয়। তারা আমাকে মাদরাসা থেকে বের করে দিতে ষড়যন্ত্র করছে।
এ বিষয়ে কেন্দুয়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আলী হোসেন পিপিএম বলেন, ঘটনাটি শুনেছি। ঘটনাস্থলে পুলিশও পাঠানো হয়েছে। অভিযোগের প্রেক্ষিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এঘটনায় স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা শিক্ষক মধ্যে চরম উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।
-বাবু/শোভা