নেত্রকোনায় প্রচন্ড তাপ ও খরায় ফসলি জমি শুকিয়ে চৌচির আমন চাষীদের মাথায় হাত

সোহেল খান দূর্জয়, নেত্রকোনা প্রতিনিধি

সারাবাংলা

নেত্রকোনায় এক মাসেরও বেশি সময় ধরে দেখা নেই বৃষ্টির আমন চাষে প্রতিকূল পরিবেশ ফসল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা, হতাশ

2022-08-23T12:57:53+00:00
2022-08-23T12:57:53+00:00
সোমবার ১০ আগস্ট ২০২৬ ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩
সোমবার ১০ আগস্ট ২০২৬
   
নেত্রকোনায় প্রচন্ড তাপ ও খরায় ফসলি জমি শুকিয়ে চৌচির আমন চাষীদের মাথায় হাত
সোহেল খান দূর্জয়, নেত্রকোনা প্রতিনিধি
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৩ আগস্ট, ২০২২, ১২:৫৭ পিএম   (ভিজিট : ৭৪০)
X


নেত্রকোনায় এক মাসেরও বেশি সময় ধরে দেখা নেই বৃষ্টির আমন চাষে প্রতিকূল পরিবেশ ফসল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা, হতাশ হচ্ছে কৃষক কাঙ্ক্ষিত বৃষ্টি না হওয়ায় ফসলের মাঠে পানি সংকট এবং তীব্র দাবদাহে নেত্রকোনা সহ সারা দেশেই ব্যাহত হচ্ছে আমন ধানের চাষ। নেত্রকোনার কিছু কিছু এলাকায় ধানের চারা রোপণ করা হলেও পানির অভাবে চারার আশানুরূপ বৃদ্ধি হচ্ছে না। একে পানির অভাব, তার ওপর চড়া রোদ ও তাপের কারণে ফেটে যাচ্ছে ফসলের খেত, ধানের চারার সবুজ পাতা হলুদ হয়ে যাচ্ছে। ফসলের মাঠের এই পরিস্থিতি দেখে হতাশায় ভেঙে পড়ছেন জেলার সকল কৃষক। তারা ফসল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা করছেন। এতে করে তাদের দিশাহারা হয়ে যাওয়ার অবস্থা।

নেত্রকোনার কৃষকরা জানান, আমন ধান চাষ সাধারণত বৃষ্টির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু এক মাসেরও বেশি সময় ধরে প্রয়োজনীয় বৃষ্টির দেখা নেই নেত্রকোনায়। তীব্র তাপ ও পানির অভাবে আমনের চারা রোপণের ক্ষেত্রে প্রতিকূল পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে।

নেত্রকোনার বারহাট্টা থেকে কৃষক আকিকুল ইসলাম জানান, বারহাট্টা উপজেলার বেশির ভাগ মানুষ কৃষির ওপর নির্ভরশীল। শ্রাবণ-ভাদ্র মাসে সাধারণত হরহামেশাই বৃষ্টির দেখা মিলে কিন্তু চলতি বছর সম্পূর্ণ উল্টো চিত্র। এক মাসেরও বেশি সময় ধরে প্রচণ্ড দাবদাহ ও খরা বিরাজমান। ফলে চলতি আমন মৌসুমে ধান চাষ অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। দীর্ঘ সময় ধরে প্রচণ্ড দাবদাহ ও খরা অব্যাহত থাকায় উপজেলার বিভিন্ন জমির পানি শুকিয়ে মাটি ফেটে যাচ্ছে। এতে করে আমন ধান রোপণ করতে চরম বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা।

উপজেলার বিভিন্ন জায়গায় সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, এক মাস আগে যেসব জমিতে পানি ছিল, সেসব জমিতেও এখন পানির অভাবে ফাটল দেখা দিয়েছে। প্রথমদিকে বৃষ্টিময় আবহাওয়া দেখে বিভিন্ন এলাকায় ধান রোপণ করলেও টানা কয়েক দিনের প্রখর রোদে মাটি শুকিয়ে ফেটে গেছে। রোপণ করা ধানের গাছগুলোও পানির অভাবে বিবর্ণ হয়ে মরে যাচ্ছে। এমন খরার কারণে সেচপাম্পের ওপর নির্ভর করতে হবে কৃষকদের। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি পাওয়ায় বাড়বে ধানের উৎপাদন ব্যয়।বারহাট্টা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ রাকিবুল হাসান বলেন, বৃষ্টি না হলে রোপণ করা আমন নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, তা ছাড়া এখনো রোপণের বাকি রয়েছে, আমরা কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছি, গতরাতে বৃষ্টি হয়েছে আশা করছি বৃষ্টি হলেই সব ঠিক হয়ে যাবে।

নেত্রকোনা থেকে সোহেল খান দূর্জয় জানান, সার ও জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিতে দিশাহারা নেত্রকোনার কৃষকরা। কৃষিনির্ভর এই নেত্রকোনার অর্থনীতির মূল ভিত্তি কৃষিতে চরম অস্থিরতা বিরাজ করছে। আমন ধান চাষাবাদ নিয়ে চোখে অন্ধকার দেখছেন কৃষকরা। সার ও তেলের মূল্য কমানো না হলে কৃষি খাত ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে আশঙ্কা করেছেন কৃষিসংশ্লিষ্টরা।

নেত্রকোনা সদর উপজেলার চল্লিশা গ্রামের কৃষক আবদুল্লাহ মিয়া বলেন, এ বছর বৃষ্টিপাত কম হয়েছে। তাই আমন ধান আবাদ হয়ে গেছে অনেকটা সেচনির্ভর। স্যালো ইঞ্জিন দিয়ে জমিতে সেচ এবং ট্রাক্টর দিয়ে চাষাবাদ করতে গিয়ে কৃষকের খরচ অনেক বেড়ে যাচ্ছে।

আটপাড়া উপজেলার স্বরমুশিয়া ইউনিয়নের রূপচন্দ্রপুর গ্রামের কৃষক আকিকুর রেজা খোকন বলেন, আগে এক কাটা জমি ট্রাক্টর দিয়ে চাষাবাদ করতে যেখানে লাগত ২০০ টাকা। তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় এখন সেই জমি চাষ করতে লাগছে ৩৫০-৪০০ টাকা।

কলমাকান্দা থেকে আনোয়ার হোসেন জানান, সদ্য রোপণ করা রোপা আমন বিবর্ণ হয়ে যাচ্ছে এবং ধানখেত ফেটে চৌচির হচ্ছে। এতে বিপাকে পড়েছেন কৃষকরা। তারা বলছেন, এ সময় খেতে পানি থাকা দরকার। কিন্তু পানি না থাকায় চারা রক্ষায় দু-এক দিন দিন পর স্যালো মেশিন, বৈদ্যুতিক পাম্প বসিয়ে সেচ দেওয়া হচ্ছে।

তারা আরো বলছেন, তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় ঘন ঘন সেচ দেওয়াও অসম্ভব হয়ে পড়েছে। এতে ঋণের বোঝা মাথায় নিয়ে আমন চাষ করতে হচ্ছে। এ বছর আমন চাষ যেন মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

মোহনগঞ্জ উপজেলার মাঘান শিয়াধার ইউনিয়নের মাইনশ্রী গ্রামের বর্গাচাষি কেদার বর্মণ বলেন, টাকার অভাবে পানি দিতে না পারায় খেত ফেটে চৌচির হয়ে গেছে। কমে গেছে চারার বৃদ্ধি। ধান না হলে বাঁচার উপায় থাকবে না। এমন চিন্তায় মাথায় হাত দিয়ে খেতেই মুষড়ে পড়েন তিনি।

পূর্বধলা উপজেলার ধলামূলগাও ইউনিয়নের ধলা গ্রামের জামেনুর বলেন, বৃষ্টির অপেক্ষায় থেকে চারা রোপণ পিছিয়েছে। বিভিন্ন উপায়ে চারা রোপণ করলেও বৃষ্টির পানি না পাওয়ায় জমি ফেটে যাচ্ছে। একদিকে তেল, ইউরিয়ার দাম বেড়েছে। এতে সেচ দেওয়ার অতিরিক্ত খরচ জোগাতে গিয়ে হিমশিম অবস্থা। কিছুদিন আগে ঘণ্টা দরে সেচে টাকা লাগত ৮০ থেকে ৯০ টাকা। এখন লাগছে ১৫০ টাকা। একবার স্যালো মেশিন, বৈদ্যুতিক পাম্পে এক বিঘা আমনখেতে সেচ দিতে খরচ হচ্ছে ৭৫০ টাকা। বৃষ্টি না হলে এভাবে সেচ দিয়ে ফসল রক্ষা করা কঠিন হয়ে পড়বে।

নেত্রকোনা সদর উপজেলা কৃষি অফিসার সাবিনা ইয়াছমীন বলেন, বৈরী আবহাওয়ায় এমন হচ্ছে। কৃষক বিভিন্ন উপায়ে পানি দিচ্ছেন। তবে বৃষ্টির পূর্বাভাস দেখা যাচ্ছে। আশা করা যাচ্ছে, দু-এক দিনের মধ্যে আরও বৃষ্টি নামবে। তাপদাহ মোকাবিলা করে আমন চাষে মাঠপর্যায়ে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা কৃষকদের পরামর্শ দিচ্ছেন।

নেত্রকোনা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ নুরুজ্জামান বলেন, কৃষি খাতে যান্ত্রীকরণ হচ্ছে, কৃষকরা এর নানা সুফল ভোগ করছেন। তার পরও সার ও তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে কৃষি খাতে এর নেতিবাচক কিছুটা প্রভাব পড়েছে। তবে এই সংকট কেটে যাবে খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে।গত রাতে হালকা ও বৃষ্টি হয়েছে, দু-একদিনের ভিতরে আরো বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

-বাবু/শোভা






Loading...
Loading...


সারাবাংলা এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy