কালীগঞ্জে ভুল চিকিৎসায় প্রসূতির মৃত্যু, তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন

রফিক সরকার, কালীগঞ্জ (গাজীপুর)

সারাবাংলা

গাজীপুরের কালীগঞ্জে জনসেবা জেনারেল হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ডাক্তারের ভুল চিকিৎসায় প্রসূতির মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতালের পরিচালক বন্যা বেগমের

2022-08-23T18:30:04+00:00
2022-08-23T18:30:04+00:00
সোমবার ১০ আগস্ট ২০২৬ ২৬ শ্রাবণ ১৪৩৩
সোমবার ১০ আগস্ট ২০২৬
   
কালীগঞ্জে ভুল চিকিৎসায় প্রসূতির মৃত্যু, তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন
রফিক সরকার, কালীগঞ্জ (গাজীপুর)
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৩ আগস্ট, ২০২২, ৬:৩০ পিএম   (ভিজিট : ২৫৭)
X

গাজীপুরের কালীগঞ্জে জনসেবা জেনারেল হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ডাক্তারের ভুল চিকিৎসায় প্রসূতির মৃত্যুর ঘটনায় হাসপাতালের পরিচালক বন্যা বেগমের পক্ষে নানাভাবে সমযোতার জোর চেষ্টা করছে স্থানীয় একটি মহল। তবে এরইমধ্যে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের গাইনী ডাক্তার সানজিদা পারভীনকে আহ্বায়ক করে গঠন করা হয়েছে তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি। তবে এরইমধ্যে অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে চমকপ্রদ বেশ কিছু তথ্য।

নিহতের স্বামী বলেন, রোববার সকালে আমার স্ত্রী শিরিন হঠাৎ ব্যথা অনুভব করলে জনসেবা হাসপাতালে নিয়ে যাই। সেখানে কোনো ডাক্তার না থাকলেও হাসপাতালের এক নার্স রোগীর কাগজপত্র দেখে বলে সিজার হবে রোগী নিয়ে আসেন। এরপর মাসুদ নামের এক ডাক্তারকে মোবাইলে ডেকে আনেন। তিনি সকাল সাড়ে ১০টা থেকে দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত দুই ঘণ্টা সময় ধরে সিজার করেন। অপারেশনের পর ডাক্তার জানায় প্রচুর ব্লিডিং হচ্ছে, বি পজিটিভ রক্ত লাগবে। এরই মধ্যে ওই হাসপাতালের নার্স শামীমা বি পজিটিভের রক্ত পুশ করে। রক্ত চলা অবস্থায় রোগীর শুরু হয় খিচুনি। এর কারণ জানতে চাইলে হাসপাতালের ল্যাব সহকারী শাওন মিয়া বলে কোনো সমস্যা নেই। পুনরায় রোগীর রক্তের গ্রুপ পরীক্ষা করে এ পজিটিভ রক্ত জোগাড় করতে বলে। রক্ত পুশ করার কিছুক্ষণ পরই রোগীর অবস্থা আরো খারাপ হতে থাকে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সন্ধ্যা পর্যন্ত দেখে রাত ৮টার দিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকার উত্তরার সিএম হাসপাতালে পাঠায়। হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানকার চিকিৎসক রোগীর পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে জানান রোগীকে মৃত অবস্থায় এখানে নিয়ে আসা হয়েছে। 

জানা যায়, মেয়াদোত্তীর্ণ কাগজে চিকিৎসা সেবা চালিয়ে যাচ্ছিল জনসেবা হাসপাতাল। ডাক্তার মাসুদুর রহমান মাসুদ একজন অ্যানেস্থেসিয়া চিকিৎসক। তিনিই করেছেন রোগীর সিজার। জানা গেছে, অ্যানেস্থেসিয়া চিকিৎসক মাসুদের স্ত্রী শামীমা জাহান নূপুর একজন গাইনী ডাক্তার। আর রোগীর কাগজপত্রে সিজারিয়ান চিকিৎসক হিসেবে ব্যবহার করা হয় তার স্ত্রীর নাম। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কোনোদিন এই হাসপাতালে সিজার করতে আসেননি গাইনী ডাক্তার শামীমা। অন্যদিকে, আলট্রাসনো করার যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও ঘটনার দিন তা করেছেন হাসপাতালের সহকারী আশিকুর রহমান। শুধু এটা নয়, তিনি নিয়মিতই এ হাসপাতালে আলট্রাসনো করেন।  

থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আনিসুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ আসেনি। তবে অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান পুলিশের ওই কর্মকর্তা। 

উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মনজুর-ই-এলাহী বলেন, এ ব্যাপারে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের গাইনী বিভাগের চিকিৎসক সানজিদা পারভীনকে আহ্বায়ক ও ডা. মুনমুন আক্তার, অ্যানেস্থেসিয়া মো. এমরানকে সদস্য করে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। ওই তদন্ত কমিটিকে আগামী তিন কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। 

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসসাদিকজামান বলেন, তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রতিবেদন হাতে পেলে দোষী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

-বাবু/ফাতেমা





Loading...
Loading...


সারাবাংলা এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy