
X
চট্রগ্রামের সীতাকুণ্ডে ভূমিদস্যু ও অবৈধ দখলদারদের সাম্রাজ্য হিসেবে পরিচিত জঙ্গল সলিমপুর ও আলীনগরের বাসিন্দারা বন্ধ করা বিদ্যুৎ সংযোগ পুনরায় সংযোগ দেওয়া এবং অবৈধ বসতিদের উচ্ছেদ কার্যক্রম বন্ধ করার দাবিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সীতাকুণ্ডে ফৌজদারহাট-বায়েজীদ সংযোগ সড়কের বিআইটিআইডি হাসপাতালে গেইট এলাকায় সকাল ১১টা থেকে এ অবরোধ করেন।
সন্ধা ৬ টা পেরিয়ে গেলেও তাদের অবরোধ তুলে নেওয়া হয়নি। মহাসড়কে অবরোধের ফলে রাস্তা উভয় পাশে প্রায় ৩০ কিলোমিটার অধিক যানজট সৃষ্টি হয়েছে। এতে চরম দুর্ভোগের মধ্যে পড়েছে দূরপাল্লার যাত্রী সাধারণ।
মঙ্গলবার সকাল ১১টার পর থেকে বায়েজিদ-ফৌজদারহাট লিংক রোডের সীতাকুণ্ড অংশে সড়ক কেটে অবস্থান নেয় কয়েক হাজার নারী-পুরুষ। বেলা ৬টার সময় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তারা সড়কে অবস্থান করছেন কয়েক হাজার বসতি।
মহাসড়কের অবরোধের ফলে রাস্তার দু’পাশে প্রায় ৩০ কিলোমিটার জুড়ে যানজট সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাবাজার থেকে উত্তরে বাড়বকুণ্ড পর্যন্ত ও দক্ষিণে অলংকার হালিশহর পর্যন্ত এই যানজট দীর্ঘ হয়।
সড়ক অবরোধকারী করা জঙ্গল সলিমপুরের বাসিন্দাদের দাবি, এক মাস ধরে আলীনগরে বিদ্যুৎ না পাওয়ায় খাবার পানি সংকটে ভুগছেন। এ কারণে রাস্তা অবরোধ করতে বাধ্য হয়েছেন তারা। এছাড়া ওই এলাকায় সরকারের নেওয়া মহা পরিকল্পনা বাস্তবায়নের বন্ধ করে অবৈধ বসতিদের উচ্ছেদ বন্ধের দাবিও জানান তিনি।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহাদাত হোসেন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) আশরাফুল আলম সীতাকুণ্ড থানা পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে। এছাড়া চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের সদস্যরাও ঘটনাস্থলের পাশে সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন।
এর আগে সরকারের নেয়া গৃহীত মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে গতকাল সোমবার বিকালে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মমিনুর রহমান নেতৃত্বে প্রশাসনের কর্মকর্তারা সীতাকুণ্ডের জঙ্গল সলিমপুর পরিদর্শন করেন।
অবরোধকারীদের মধ্যে মোহাম্মদ আবদুর রহিম বলেন, জঙ্গল সলিমপুর ও আলীনগরে প্রায় ২০ থেকে ২৫ হাজার লোক বসবাস করে আসছে দীর্ঘদিন থেকে। সরকার ওই এলাকায় যে উচ্ছেদ অভিযান করছে তা বন্ধ করতে হবে। অবৈধভাবে বসতিদের ঘরে বিচ্ছিন্ন করা বিদ্যুৎ সংযোগ পুণরায় দিতে হবে।
প্রশাসনিক কর্মকর্তারা জানান, জঙ্গল সলিমপুর ও জালালাবাদ এলাকার সার্বক্ষণিক নিরাপত্তার স্বার্থে বায়েজিদ লিংক রোডের দুপাশে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের জন্য জায়গা চূড়ান্ত করা হয়। বায়েজিদ লিংক রোড সংলগ্ন জঙ্গল সলিমপুর ও আলীনগরে প্রবেশের দুপাশে দুটি নিরাপত্তা চৌকি স্থাপনের জায়গা সীমানা পিলার দিয়ে নির্দিষ্ট করা হয়। এছাড়া লিংক রোড সংলগ্ন কর্ণফুলী গ্যাস পাইপ লাইনের উপর নির্মিত সকল অবৈধ স্থাপনা আগামী ৩০ আগস্টের মধ্যে সরিয়ে নেয়ার জন্য মাইকিং করা হয়।
পরিদর্শনকালে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মমিনুর রহমান বলেন, বর্তমান সরকার জঙ্গল সলিমপুরে বসতি স্থাপনকারী ৬ হাজার পরিবারকে পূনর্বাসন এবং সরকারি বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এখানে আর কোনো ভূমিদস্যু, কোনো সন্ত্রাসীর জায়গা হবে না। জনগণের অসুবিধা হয় এমন কিছু করা হবে না। মনে রাখতে হবে দেশটা আমাদের। তাই আইন মানতে হবে। কারও যাতে অসুবিধা না হয় সেভাবে কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে।
অবরোধকারীদের দাবি স্থানীয় সাংসদ ঘটনাস্থলে এসে উচ্ছেদ অভিযান বন্ধের ঘোষণা দিতে হবে। বিদ্যুৎ সংযোগ পুণরায় দিতে নির্দেশ দিতে হবে। অবরোধকারীরা সাংসদ দিদারুল আলমের নাম ধরে বিভিন্ন শ্লোগানও দেন।
তবে সাংসদ আলহাজ্ব দিদারুল আলমের মোবাইল বন্ধ থাকায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
অবরোধ বিষয়টি জানতে সীতাকুণ্ড মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা, হাইওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ একাধিক পুলিশ কর্মকর্তাদের মোবাইলে ফোন করলেও রিসিভ হয়নি।
তবে সলিমপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সালাহউদ্দিন আজিজ বলে অবৈধ বসতিরা সরকারি মহা পরিকল্পনা বাস্তবায়নে যে উচ্ছেদ অভিযান চলছে তা বন্ধ করতে অবরোধ করার ফলে ৩০ কিলোমিটারের অধিক যানজট সৃষ্টি হয়।
সন্ধা ৬ টার পরও অবরোধ চলছে। অবরোধকারি ও প্রশাসনের সাথে মুখোমুখি অবস্থান রয়েছে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত এখনো অবরোধ ঢাকা-চট্রগ্রাম মহাসড়কের সীতাকুণ্ড অংশ। এতে হাজার যাত্রী দুর্ভোগে পড়েছে।
-বাবু/ফাতেমা