প্রকাশ: বুধবার, ২৪ আগস্ট, ২০২২, ২:০৫ পিএম (ভিজিট : ২৭৩)

X
নীলফামারীর ডোমার পৌর মেয়র ও ব্যবসায়ী আলহাজ মনছুরুল ইসলাম দানুসহ অগ্রণী ব্যাংকের সাবেক দুই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
মঙ্গলবার (২৩ আগস্ট) দুদক রংপুর কার্যালয়ের উপ-পরিচালক হোসাঈন শরীফ বাদী হয়ে রংপুর দুদক কার্যালয়ে মামলাটি দায়ের করেন।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, মেয়র মনছুরুল ইসলাম দানু ‘শাওন অটো ব্রিকস্ লিমিটেড’র এর নামে ১৫কোটি ৭৫লাখ টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। ঋণের মঞ্জুরিপত্রের শর্ত মোতাবেক ঋণের প্রথম কিস্তি বিতরণের পর ওই অর্থের ব্যবহার বিষয়ে নিশ্চিত হয়ে দ্বিতীয় কিস্তির অর্থ ছাড়ের নির্দেশনা ছিল। তবে অগ্রাণী ব্যাংক নীলফামারী ও ডোমার শাখার সাবেক দুই শাখা ব্যবস্থাপক ঋণের মঞ্জুরি পত্রের শর্ত না মেনে মনছুরুল ইসলাম দানুর চাহিদা মোতাবেক মঞ্জুরিকৃত ঋণের পুরো টাকা বিতরণ করেন। এতে চলতি বছরের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত ব্যাংকের সুদাসলে পাওনা ২৩কোটি ৩৪লাখ টাকা ক্ষতিসাধন হয়, যা সরকারি অর্থ আত্মসাতের শামিল।
মনছুরুল ইসলাম দানু এলসির মাধ্যমে ২০১৬সালের ২৩জুন ও ১৩আগস্ট মালামাল আমদানি করলেও চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ওই মালামাল গ্রহণ করে নাই। এতে চলতি বছরের ৩১জানুয়ারি পর্যন্ত চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের পোর্ট ড্যামারেজ বাবদ ২৭কোটি এবং শুল্ককর বাবদ ৪কোটি ১০লাখ টাকাসহ মোট ৩১কোটি ১০ লাখ টাকা পাওনা হয়। এই টাকা পরিশোধ না করে সরকারের আর্থিক ক্ষতিসাধন সরকারি অর্থ আত্মসাতের শামিল, যা দন্ড বিধির ৪০৯/৪২০/১০৯ ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫ (২) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
এ বিষয়ে দুদক রংপুর কার্যালয়ের উপ পরিচালক হোসাঈন শরীফ জানান, মেয়র মনছুরুল ইসলাম চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের পোর্ট ড্যামারেজ বাবদ ২৭কোটি এবং শুল্ককর বাবদ ৪কোটি ১০লাখ টাকাসহ মোট ৩১কোটি ১০লাখ টাকা এবং অগ্রাণী ব্যাংক নীলফামারী শাখার সাবেক ব্যবস্থাপক রথীন্দ্র নাথ ও ডোমার শাখার সাবেক ব্যবস্থাপক শফিকুল ইসলাম এবং মেয়র মনছুরুল ইসলাম যৌথভাবে ২৩কোটি ৩৪লাখ সরকারি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। সবকিছু খতিয়ে দেখার পর দুদক আইনে তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, মনছুরুল ইসলাম দানু নীলফামারীর ডোমার পৌরসভার টানা তিন বার মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
-বাবু/শোভা