প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৫ আগস্ট, ২০২২, ৩:২৪ পিএম (ভিজিট : ৭৪৬)

X
চলছে শিক্ষক রাজনীতি, ক্লাস বাদ দিয়ে তারা মেতে উঠেছেন শিক্ষক সমিতির রাজনীতি নিয়ে। কে হবেন কমিটির নেতা। চলছে কমিটি নিয়ে গ্রুপিং, ক্লাসে যাওয়ার সময় নেই তাদের হাতে।স্কুল সকাল ৯ টা থেকে শুরু হয়ে চলবে সোয়া চারটা পর্যন্ত। এই সময় মেনে উপজেলা সদরের আশপাশের সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষক থাকলেও গ্রামের ভিতরের বিদ্যালয়গুলো কখন খোলা হয় আর কখন বন্ধ হয় সে খবর কেউ রাখে না।এতে করে প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা দিন দিন নাজুক হয়ে পড়েছে। আর এজন্য অভিভাবকরা দায়ী করেছেন শিক্ষকদের অবহেলা ও নিয়মিত স্কুলে না আসাকে। ঠেলা ধাক্কায় চলছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া সরকারি প্রাথমিক শিক্ষা ব্যবস্থা।
স্যার আপনি আজ আমার ক্লাসটা নিয়ে নিয়েন, কাল আপনার ক্লাসটা আমি নিয়ে নিব। স্বাক্ষর দিয়েছি আমি এখন যাই। কাল কিন্তু আমার ক্লাসটা নিতে হবে। স্যার যদি কাল না আসি পিওন ছেলেটা ক্লাসটা নিবে টেনশন কইরেন না, হেডস্যারতো আমাদেরই। হেড স্যার আমাদের নেতা।’ এমন নিয়মেই চলছে আখাউড়ার বেশিরভাগ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
অভিযোগ রয়েছে, কিছু শিক্ষক উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা, সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা ও অফিস ম্যানেজ করে রীতিমতো স্কুল ফাঁকি দিচ্ছেন। তাদের মধ্যে অনেক শিক্ষককেই মাসের পর মাস স্কুল চলাকালীন দল বেঁধে উপজেলা সদরে শিক্ষা অফিস সংলগ্ন বিভিন্ন চায়ের স্টলে আড্ডা দিতে দেখা যায়। অভিযুক্ত শিক্ষকদের জিজ্ঞাসা করলে উত্তর একটাই-স্কুলের কাজে সদরে এসেছেন। প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা কোন বিদ্যালয় পরিদর্শনে যান না, গেলেও আগের দিন তাদের বলে যান। এ পর্যন্ত তিনি কোন বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের শোকজও করেননি বরং গতকাল বুধবার(২৪ আগষ্ট) স্কুল চলাকালীন সময়ে দুপুর দুইটায় উপজেলার তন্তর বাজারে খন্দকার মার্কেটের একটি কফি হাউজে ৭-৮ জন শিক্ষকদের সাথে নিয়ে বসে খুশগল্প করতে দেখা যায় খোদ শিক্ষা কর্মকর্তাকেই।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে আখাউড়া উপজেলা সহকারী শিক্ষা অফিসার মোঃ লুৎফর রহমান বলেন স্কুল চলাকালীন সময়ে স্কুল ফাঁকি দিয়ে উপজেলা সদরে ঘুরাফেরা করেন এমন কিছু শিক্ষকের নাম আমার কাছে এসেছে।আমি তাদের মৌখিক ভাবে সতর্ক করেছি। এতে যদি কাজ না হয় আমি তাদের বিরুদ্ধে অফিসিয়ালী ব্যবস্থা নিবো। প্রাথমিক শিক্ষার মান উন্নয়নে আমরা সবসময় আন্তরিক। গতকালের বিষয়টি আমরা একজনের আমন্ত্রণে ওখানে গিয়েছিলাম। আমরা যখন চা খেতে বসেছি তখন অফিসটাইম ছিলো না বলেও দাবি করেন তিনি।
-বাবু/শোভা