নেত্রকোনায় কৃষিতে পড়েছে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব

সোহেল খান দূর্জয়, নেত্রকোনা

সারাবাংলা

ধান আমাদের নেত্রকোনার প্রধান ফসল৷ আর কৃষি ব্যবস্থা সম্পূর্ণ প্রকৃতি নির্ভর৷ এখন পর্যন্ত আউশ আমন ধান পুরোপুরিই বৃষ্টির

2022-08-26T17:41:02+00:00
2022-08-26T17:41:02+00:00
শনিবার ৮ আগস্ট ২০২৬ ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
শনিবার ৮ আগস্ট ২০২৬
   
নেত্রকোনায় কৃষিতে পড়েছে জলবায়ু পরিবর্তনের নেতিবাচক প্রভাব
সোহেল খান দূর্জয়, নেত্রকোনা
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৬ আগস্ট, ২০২২, ৫:৪১ পিএম   (ভিজিট : ৪৬৭)
X

ধান আমাদের নেত্রকোনার প্রধান ফসল৷ আর কৃষি ব্যবস্থা সম্পূর্ণ প্রকৃতি নির্ভর৷ এখন পর্যন্ত আউশ আমন ধান পুরোপুরিই বৃষ্টির উপর নির্ভরশীল৷ নেত্রকোনায় জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব পড়তে শুরু করেছে৷ কৃষি ও কৃষক ক্ষতির মুখোমুখি৷

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে শস্যের গুণাগুণ ও উৎপাদনের পরিমাণে পরিবর্তন আসতে পারে৷ বর্তমান চাষ এলাকায় উৎপাদন হ্রাস পাচ্ছে৷ পানির স্বল্পতা ঘটছে, হ্রাস পাচ্ছে মাটির উর্বরতা৷ নতুন নতুন বালাই দেখা দিচ্ছে৷ ফলে কৃষিতে কীটনাশক ও সারের প্রয়োগ বাড়াতে হবে৷ সেচের ব্যাপকতা, ভূমিক্ষয়, মৎস্য বৈচিত্র্য কমে যাওয়া, রাসয়ানিকের ব্যবহার পরিবেশের উপর বিরূপ প্রভাব ফেলেছে৷ দারিদ্র বাড়েছে এবং সমাজে এর বিরূপ প্রভাব পড়েছে৷ এর ফলে ২১ শতকে সার্বিকভাবে কৃষির উৎপাদন শতকরা ৩০ শতাংশ কমে যেতে পারে৷ এলেই ধারাবাহিকতায় ২০৫০ সাল নাগাদ নেত্রকোনা সহ সারাদেশে ধান ও গমের উৎপাদন আশঙ্কাজনক হারে কমে যেতে পারে৷

এই সবই হচ্ছে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে৷ জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে তাপমাত্রা, বৃষ্টিপাতের পরিমাণ এবং ধরণ পরিবর্তিত হচ্ছে৷ এর বিরূপ প্রভাব পড়ছে কৃষি কাজে৷ ফলে প্রয়োজনীয় খাদ্য উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে৷ তাই জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে প্রভাব পড়ছে কৃষি কাজে।

নেত্রকোনা সহ সারাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বহুলাংশে কৃষি খাতের প্রবৃদ্ধির ওপর নির্ভরশীল৷ মানুষের মৌলিক প্রয়োজন অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জোগান দিয়ে থাকে কৃষি৷

নেত্রকোনা সহ সারাদেশের মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপি প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কৃষি খাতের অবদানের প্রায় ৫৫ শতাংশ৷ সেই সঙ্গে নেত্রকোনা সহ সারাদেশের প্রায় ৫৪ শতাংশ মানুষ কৃষি পেশায় নিয়োজিত আছেন৷ কিন্তু সাম্প্রতিক দশকগুলোতে নেত্রকোনা সহ সারাদেশের কৃষি বৈরী জলবায়ুর কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে৷জানা যায়, বিশ্বব্যাপী জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বৈরী জলবায়ুর সৃষ্টি হয়েছে৷

নেত্রকোনায় তাপমাত্রা বৃদ্ধি জলবায়ুর ও আবহাওয়ার স্বাভাবিক অবস্থাকে অস্বাভাবিক ও অস্থিতিশীল করে তুলেছে, যার বিরূপ প্রভাব পড়ছে কৃষির ওপর৷ কেননা কোনো একটি নির্দিষ্ট শস্যের বেড়ে ওঠার জন্য একটি পরিমিত মানের জলবায়ুর তাপমাত্রা, বৃষ্টিপাত, আর্দ্রতা, বায়ুপ্রবাহ প্রভৃতি উপাদানগুলোর প্রয়োজন হয়৷

নেত্রকোনা সহ সারাদেশে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ইতোমধ্যেই শুরু হয়ে গেছে, এ কথা আগেই বলেছি৷ বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে নেত্রকোনায় হাওরের পানির উচ্চতা ইতোমধ্যেই বৃদ্ধি পেতে শুরু করেছে৷ বিভিন্ন গবেষণা রিপোর্ট পর্যালোচনা করে দেখা যায়, নেত্রকোনায় ২০২১ সালে হাওর পৃষ্ঠ সর্বোচ্চ ১ মিটার উঁচু হতে পারে, যার ফলে নেত্রকোনা জেলার মোট আয়তনের প্রায় ১৮.৩ শতাংশ এলাকা নিমজ্জিত হতে পারে৷ এ পূর্বাভাস সত্যে পরিণত হলে নেত্রকোনাকে উক্ত এলাকার কৃষিসহ সব কিছুই হারাতে হবে, যা নেত্রকোনা সহ দেশের খাদ্য নিরাপত্তাকে মারাত্মক ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দেবে৷

নেত্রকোনার কয়েকজন কৃষিবিদ জানিয়েছেন, নেত্রকোনা সহ দেশের জলবায়ু পরিবর্তনের অন্যতম একটি নিদর্শন বৃষ্টিপাতের ধরন পাল্টে যাওয়া৷ আষাঢ়-শ্রাবণ মাসে তেমন বৃষ্টি হয় না৷ আশ্বিন মাসে ৪-৫ দিন এমন পরিমাণে বৃষ্টিপাতে যে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়৷ খরাসহ বিভিন্ন কারণে নেত্রকোনার সহ দেশের ভূগর্ভস্থ পানির স্তর দিনে দিনে নিম্নমুখী হয়ে সেচকাজে ব্যাঘাত সৃষ্টি করছে৷ এর ফলে বিভিন্ন কৃষির উৎপাদন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে৷

অন্যদিকে, স্বাভাবিক বৃষ্টিপাত বিঘ্নিত হওয়ায় ঘন ঘন বন্যা ও খরার সম্মুখীন হতে হচ্ছে নেত্রকোনা সহ সারাদেশকে৷ প্রাকৃতিক দুর্যোগ যেন নেত্রকোনা সহ সারাদেশের কৃষির জন্য অবধারিত নিয়তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে৷ ১৯৭৩-১৯৮৭ সাল পর্যন্ত ২১ দশমিক ৮ লাখ মেট্রিক টন শুধু ধান নষ্ট হয়েছে খরায়৷ বন্যা, খরা, লবণাক্ততা প্রভৃতি দেশের কৃষির ধরনকে বদলিয়ে দিয়েছে৷ এক সময় নেত্রকোনা সহ দেশে কয়েক হাজার প্রজাতির ধান চাষ হতো৷ বর্তমানে তা গেছে অনেক কমে৷

বন্যার কারণে আউশ ও আমন ধানের ব্যাপক ক্ষতি হওয়ায় কৃষক পড়েছে নানান বিপাকে৷ অপর দিকে নেত্রকোনায় ধানের দিকে কৃষক বেশি ঝুঁকে পড়ায় ডাল চাষের জমি হ্রাস পেয়েছে৷ ফলে ডালশস্যের আবাদ তাৎপর্যপূর্ণভাবে হ্রাস পেয়েছে৷ তাছাড়াও পাট, গম ও আখের চাষ উৎপাদন উভয়ই লক্ষণীয়ভাবে হ্রাস পেয়েছে৷ সব কিছু মিলিয়ে নেত্রকোনা সহ সারাদেশের সামনে যে ভবিষ্যৎ অপেক্ষা করছে, তা সত্যিই দুঃখের বিষয় বলে জানিয়েছেন কৃষি বিশেষজ্ঞরা৷

-বাবু/ফাতেমা





Loading...
Loading...


সারাবাংলা এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy