লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলাধীন হায়দরগঞ্জ রোকেয়া হাসমতেন্নেছা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ইংরেজি শিক্ষক কবির হোসেনের বিরুদ্ধে স্কুলের ছাত্রীদেরকে যৌন হয়রানির অভিযোগ করেছেন এক শিক্ষার্থীর পরিবার।
অভিযোগের প্রেক্ষিতে জানাযায়, যৌন নিপিড়নকারী ঐ শিক্ষকের বিরুদ্ধে একই বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণীর ছাত্রী কামরুন নাহার প্রতিবাদ জানালে শিক্ষক কবির হোসেন ক্লাসের অন্যান্য ছাত্রীদের সামনেই তাকে বেদম মারধর করেন। ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী কামরুন নাহার ও তার পরিবারের দাবি বেশ কয়েকদিন ধরেই উক্ত বিদ্যালয়ের শ্রেণী শিক্ষক কবির হোসেন পড়ারচ্ছলে ছাত্রীদের গায়ে হাত দিয়ে আসছেন, এতেকরে স্কুলের ছাত্রীরা ভিষণ বিব্রত বোধ করে আসলেও লাজ-লজ্জার ভয়ে নিরবে সহ্য করে আসছিলো,কিন্ত এক পর্য্যায়ে গত সোমবার (২২ আগষ্ট) ক্লাসের অন্যান্য শিক্ষার্থীরা তাদের ক্যাপ্টেন কামরুন নাহার -কে জানিয়ে এর প্রতিবাদ দাবি করলে কামরুন নাহার অভিযুক্ত সেই শিক্ষকের সামনা-সামনি দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ জানায়। এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে কবির হোসেন প্রাতিবাদি শিক্ষার্থী কামরুন নাহারকে স্কুলের বেত দিয়ে বেদম মারধর করে। বেধড়ক মারের প্রভাবে সেই শিক্ষার্থী বর্তমানে অসুস্থ হয়ে বাড়িতে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
এবিষয়ে জানতে উক্ত বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জাকির হোসেনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ঘটনার সত্যতা শিকার করে ৩ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানান। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন হাতে পেলে অভিযুক্ত শিক্ষক কবির হোসেনের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে এই প্রতিবেদককে জানান।
যৌন হয়রানির অভিযোগে অভিযুক্ত শিক্ষক কবির হোসেনের সাথে এব্যপারে জানতে চাইলে তিনি ঘটনার পাশ কাটিয়ে বলেন, আসলে কামরুন নাহার (শিক্ষার্থী) কথাগুলো এমন ভাবে আমাকে বলেছিল,তাতে করে আমার মেজাজ একটু গরম হয়ে যাওয়ায় তাকে আমি একটা চড় মেরেছিলাম, তবে বর্তমানকার পরিস্থিতি আমাকে সুধরানোর সুযোগ করে দিয়েছে।
এদিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে ঐ বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তারাও অভিযুক্ত শিক্ষকের তীব্র সমালোচনা করে তার পদত্যাগ দাবি করেন। অন্যদিকে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ভুক্তভোগী কামরুন নাহারের বাড়িতে গিয়ে এসব নিয়ে বাড়া-বাড়ি না করার জন্য হুমকি দিয়ে আসেন বলে জানান শিক্ষার্থীর পরিবার,অন্যথায় তাকে স্কুল থেকে বের করে দেওয়া হবে বলে ভয়-ভীতি প্রদর্শন করে আসেন বলে জানাযায়।
এ ব্যাপারে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায় নি।