
X
নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় বাঙালির চেতনায় কবি কাজী নজরুল ইসলামকে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে 'স্মৃতি কথন' সাম্য, প্রেম ও বিদ্রোহের কবি কাজী নজরুল ইসলামের অসম্ভব হৃদয়স্পর্শী গান-কবিতায় ৪৬তম মৃত্যুবার্ষিকী পালন করা হয়েছে।
শনিবার (১২ ভাদ্র) রাত ৮ টায় কেন্দুয়া রিপোর্টার্স ক্লাবের উদ্যোগে বাঙালির চেতনার কবি কাজী নজরুল ইসলামকে শ্রদ্ধা নিবেদন করতে ক্লাব কার্যালয়ে কবি নজরুলের'স্মৃতি কথন' এর মাধ্যমে ৪৬তম মৃত্যুবার্ষিকী পালন করা হয়েছে।
এতে রিপোর্টার্স ক্লাবের সভাপতি দৈনিক বাংলাদেশ বুলেটিন কেন্দুয়া প্রতিনিধি আসাদুল করিম মামুনের সভাপতিত্বে সাবেক সাধারণ সম্পাদক দৈনিক ইত্তেফাক কেন্দুয়া প্রতিনিধি মোঃ জিয়াউর রহমান জীবনের সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা, লেখক, গবেষক কেন্দুয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ নূরুল ইসলাম।
বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, কেন্দুয়া কলেজের সাবেক ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও প্রগতি পাঠক চক্রের সভাপতি রণেন সরকার, কেন্দুয়া সাহিত্য সংসদের সভাপতি এডভোকেট আ.ক.ম বজলুর রহমান তুলিপ, রিপোর্টার্স ক্লাবের সাহিত্য ও সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক কবি নেহাল হাফিজ, কেন্দুয়া উপজেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি সাংবাদিক সমরেন্দ্র বিশ্ব শর্মা, কেন্দুয়া প্রেসক্লাবের সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক এবং উদীচীর সভাপতি রাখাল বিশ্বাস, শিক্ষক ও সংগীতশিল্পী সুসেন সাহা রায়।
এ সময় অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, রিপোর্টার্স ক্লাবের সাবেক সভাপতি যুগান্তর প্রতিনিধি মামুনুর রশিদ মামুন, সাবেক সভাপতি ভোরের ডাক প্রতিনিধি আবুল কাশেম আকন্দ, রিপোর্টার্স ক্লাবের সদস্য ও গণকণ্ঠ প্রতিনিধি সৈয়দ মুখলেছ উজ জামান।
বিদ্রোহী কবি নজরুলোর জীবন-কর্ম নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে প্রধান অতিথি মোঃ নূরুল ইসলাম বলেন, নজরুল বাংলা ভাষা সাহিত্য অনুরাগীদের কাছে বিদ্রোহী কবি হিসেবে পরিচিত হলেও তিনি কবিতা, সংগীত, উপন্যাস, গল্প, নাটক, প্রবন্ধ, চলচ্চিত্রে নিজস্ব স্বাক্ষর রেখেছেন। ছিলেন সাংবাদিক, গায়ক এবং অভিনেতাও। সংগীতে তার অজস্র রাগ-রাগিনী অমরত্বের আসনে অধিষ্ঠিত হয়ে আছে।
বিশেষ অতিথি কেন্দুয়া সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ বাবু রনেন সরকার কবি নজরুলের আলোচনায় বলেন -প্রেম, দ্রোহ, সাম্যবাদ ও জাগরণের কবি কাজী নজরুল ইসলামের কবিতা ও গান শোষণ ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে সংগ্রামে জাতিকে উদ্বুদ্ধ করেছে। মুক্তিযুদ্ধে তার গান ও কবিতা ছিল প্রেরণার উৎস। নজরুলের কবিতা, গান ও সাহিত্য কর্ম বাংলা সাহিত্যে নবজাগরণ সৃষ্টি করেছিল। তিনি ছিলেন অসাম্প্রদায়িক চেতনার পথিকৃৎ লেখক। তার লেখনী জাতীয় জীবনে অসাম্প্রদায়িক চেতনা বিকাশে ব্যাপক ভূমিকা পালন করে।
বিশেষ অতিথি কেন্দুয়া রিপোর্টার্স ক্লাবের সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক কবি নেহাল হাফিজ বলেন,জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ৪৬তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ১৯৭৬ সালের ২৭ আগস্ট শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে (সাবেক পিজি হাসপাতাল) শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) কেন্দ্রীয় মসজিদের পাশে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় কবিকে সমাহিত করা হয়।
পশ্চিমবঙ্গের বর্ধমান জেলার চুরুলিয়া গ্রামে ১৩০৬ বঙ্গাব্দের ১১ জ্যৈষ্ঠ (২৪ মে, ১৮৯৯ খ্রিষ্টাব্দ) জন্মগ্রহণ করেন স্বাধীনতাকামী এ কবি। ছোটবেলায় তার ডাকনাম ছিল ‘দুখু মিয়া’। পিতার নাম কাজী ফকির আহমেদ ও মাতা জাহেদা খাতুন।
ক্লাবের সভাপতি দৈনিক বাংলাদেশ বুলেটিন কেন্দুয়া প্রতিনিধি আসাদুল করিম মামুন বলেন,বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জন্মের পর ১৯৭২ সালের ২৪ মে স্বাধীন বাংলাদেশের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের উদ্যোগে ভারত সরকারের অনুমতি নিয়ে কবি নজরুলকে সপরিবারে ঢাকায় নিয়ে আসা হয়। তাকে দেওয়া হয় জাতীয় কবির মর্যাদা। বাংলা সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে অবদানের জন্য ১৯৭৪ সালের ৯ ডিসেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এক বিশেষ সমাবর্তনে কবিকে সম্মানসূচক ডি-লিট ডিগ্রি দেয়। একই বছরের ২১ ফেব্রুয়ারি একুশে পদকে ভূষিত হন কবি।
"স্মৃতি কথন" আয়োজনে মোজাফরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাকির আলম ভূইয়া, আলহাজ্ব আতিকুর রহমান ভূইয়া একাডেমির শিক্ষক অনুকূল চন্দ্র সরকার, বেস্ট লাইফ ইন্সুরেন্সের কেন্দুয়া অফিসের ইনচার্জ কাউসার হোসেন জানু, রিপোর্টার্স ক্লাবের সদস্য শিক্ষক আনোয়ার উদ্দিন হিরণ ও মনিরুজ্জামান রাফিসহ সাহিত্যপ্রেমীরা উপস্থিত ছিলেন।
-বাবু/শোভা