প্রকাশ: সোমবার, ২৯ আগস্ট, ২০২২, ৬:২৫ পিএম (ভিজিট : ৩০১)

X
নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলার একজন সফল মাছচাষী আবু হারেছ। তিনি শিং মাছের চাষ করে সফলতা লাভের পাশাপাশি এলাকায় আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন।
কেন্দুয়া পৌরশহরের ভাটিরকোনা আইথর গ্রামের বাসিন্দা আবু হারেছ। ৫টি পুকুরে শিং মাছ চাষ করে এক বছরে তিনি আয় করেছেন ৭৫ লাখ টাকা।
জানা গেছে,,কেন্দুয়া বাজারের একজন পরিচিত ব্যবসায়ী আবু হারেছ। বাড়ির পেছনে তার নিজস্ব ৩ একর জমিতে ২০১৫ সালে গড়ে তুলেছেন মৎস্য,গবাদি পশু ও কৃষি খামার। ৭ বছর ধরে মাছ চাষ করলেও এবারের মত সফলতা তিনি আর কখনো পাননি।
দেড় একর জায়গাতে তার ৫টি ফিসারি পুকুর রয়েছে। গত এক বছর আগে ওই পুকুরগুলোতে শিং মাছের পোনা ছাড়েন। শিং মাছ চাষ করতে গিয়ে তার প্রায় এক কোটি টাকা খরচ হয়েছে। প্রথমে ৩০০ টাকা আর বর্তমানে ৩৫০ টাকা কেজি দরে গত এক সপ্তাহ ধরে মাছ বিক্রয় করছেন তিনি। এ পর্যন্ত প্রায় ১২’শ মণ মাছ বিক্রয় হয়েছে তার। একটি পুকুরে কিছু মাছ রয়েছে। যে পরিমাণ মাছ রয়েছে এতেও আরো ৩০/৩৫ মণ মাছ হবে বলে জানান তিনি।
আবু হারেছ জানান, এপর্যন্ত ১ কোটি ৬০ লাখ টাকার মাছ বিক্রয় করেছেন। মাছ চাষ করতে তার খরচ হয়েছে ৮৫/৮৬ লাখ টাকা। খরচ বাদে ৭৫ লাখ টাকার বেশি লাভ হয়েছে বলে জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, মাছ চাষে খরচ অনেক বেড়ে গিয়েছে। মাছের খাদ্য ও ঔষধ বর্তমানে চড়া দামে কিনতে হয়। মাছ চাষ হলো জুয়া খেলার মতো, লাগলে বাম্পার না লাগলে সর্বনাশ। মাছের খাদ্য ও ঔষধ চাষিরা যাতে কম মূল্যে ক্রয় করতে পারে সেই পদক্ষেপ নিতে এবং ক্ষতিগ্রস্ত চাষিদের জন্য প্রণোদনার ব্যবস্থা করতে সরকারের প্রতি জোর দাবি জানান তিনি।
মাছ ব্যবসায়ী আমিনুল ইসলাম জানান, সব মাছ আমি কিনে নিয়েছি। দীর্ঘদিন ধরে মাছের ব্যবসা করি। ওজনে ৫/৬ কেজি হয় একসাথে ১২’শ মণ কেনা এটাই প্রথম।
উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা আজহারুল আলম বলেন, আবু হারেছ কয়েক বছর ধরে সফলতার সাথে মাছ চাষ করে আসছেন। এবার শিং মাছ চাষ করে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন। এতে আমরা খুশি। তিনি যাতে পরবর্তীতে সফলতা ধরে রাখতে পারেন সেই কামনা করি পাশাপাশি সরকারি সহযোগিতারও আশ্বাস প্রদান করেন তিনি।
বাবু/এসএম