প্রকাশ: বুধবার, ৩১ আগস্ট, ২০২২, ১:৪৯ পিএম (ভিজিট : ৪৩৩)

X
ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে এক মহিলা কবিরাজের অপচিকিৎসায় লিমা আক্তার তামান্না (১৪) নামের এক মাদ্রাসা শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠেছে। মেয়েটি স্থানীয় জাটিয়া দাখিল মাদ্রাসার অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী। সে আজ মঙ্গলবার বেলা ১২.৩০ টায় মারা যায়।
স্থানীয় এলাকাবাসী ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, উপজেলার জাটিয়া ইউনিয়নের ভাসাটি গ্রামের আব্দুর রশিদের মেয়ে তামান্না দীর্ঘদিন ধরে কোমড়ে ব্যথা নিয়ে চিকিৎসা করছিলো। ডাক্তারি চিকিৎসায় মেয়েটি সুস্থ্য না হওয়ায় তার পরিবার জানতে পারেন আমেনা খাতুন (৫৫) নামে এক মহিলা কবিরাজের কথা। যার বাড়ি নেত্রকোনা জেলার সুসং দুর্গাপুর। ঐ মহিলা কবিরাজের মেয়ের স্বামীর বাড়ি ভাসাটি গ্রামে হওয়ায় এখানে আসা যাওয়া এবং ঐ এলাকার অনেকের চিকিৎসা করতেন। তখন ঐ মহিলা কবিরাজের দ্বারস্থ হলে রোগী দ্রুত সুস্থ্য হবে এবং বিনিময়ে পাঁচ হাজার টাকা দিতে হবে বলে জানান তিনি। তাতে ওই মেয়ের পরিবার রাজি হলে তিনি চিকিৎসা শুরু করেন। তাবিজ-কবজ ও ঝাড়ফুকের পাশাপাশি কবিরাজের সহকারি মুখে হাত চাপা দিয়ে রাতে ধুপ, আগরবাতি, কাপড়ের শলতা, গন্ধক, চুনসহ অনেককিছু দিয়ে ধোঁয়া সৃষ্টি করে নাকে-মুখে শুকতে বলে। ধারণা করা হয়, এতে মেয়ের শ্বাসকষ্টসহ অন্যান্য জঠিল সমস্যার সৃষ্টি হয়। পরবর্তীতে আজ মঙ্গলবার অবস্থার অবনতি হলে ঈশ্বরগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক রোগীর অবস্থা বেগতিক দেখে ময়মনসিংহ হাসপাতালে রেফার্ড করে। পরবর্তীতে ময়মনসিংহ হাসপাতালে নেয়ার পথে মেয়েটির মৃত্যু হয়।
মেয়েটির বাবা আব্দুর রশিদের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে, কবিরাজের চিকিৎসার কথা উল্লেখ করে বলেন, আমার ধারণা মহিলা কবিরাজের চিকিৎসার কারণেই আমার মেয়েটির মৃত্যু হয়েছে। আমি ভুল করেছি- ঐ কবিরাজের কাছে চিকিৎসা করিয়ে। তবে এ বিষয়ে আমাদের কারো উপর কোন অভিযোগ নেই।
ঐ মহিলা কবিরাজের মেয়ে আকলিমা আক্তার বলেন, আমার মা গতকালকে আমার বাড়ি থেকে চলে গেছেন। আমার মা ভাসাটি ও আশপাশের এলাকার অনেক জঠিল রোগীর চিকিৎসা করে তাদেরকে সুস্থ্য করেছেন। ওই মেয়ের চিকিৎসার জন্য আমার মাকে অনেক জোর করে নিয়ে যায় মেয়েটির বাবা আব্দুর রশিদ। ঐ মেয়ের মৃত্যুতে আমার মায়ের চিকিৎসার কোন দোষ নেই।
এ বিষয়ে ঐ গ্রামের বাসিন্দা জাটিয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা হাবিবুর রহমান আকন্দ হলুদ বলেন, গ্রামের মানুষের অন্ধ বিশ্বাস এবং কুসংস্কারের কারণে ঐ মাদ্রাসা ছাত্রীটির মৃত্যু হয়েছে। এ ধরণের অপচিকিৎসা বন্ধ হওয়া জরুরী।
স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ নুরুল হুদা খাঁন বলেন,বর্তমান অত্যাধুনিক প্রুযুক্তির যুগেও কবিরাজি চিকিৎসার কথা শুনতে হবে, এটা চিন্তা করাও কঠিন। এসব কুসংস্কার ও অপচিকিৎসা রুখতে গ্রাম গঞ্জের আবাল বৃদ্ধ বণিতাদের সচেতন হওয়ার পরামর্শও দেন তিনি।
-বাবু/এ.এস