
X
গাজীপুরের কালীগঞ্জের বেলাই বিল ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান চালিয়ে ৯ হাজার মিটার কারেন্ট ও ১০টি অবৈধ চায়না দুয়ারী ( ম্যাজিক) জাল জব্দ করা হয়েছে। এ সময় মো. সিয়াম (৩৫) নামের এক মৎস্য শিকারীকে ১ হাজার টাকা অর্থদণ্ড করা হয়। এছাড়া একই অভিযানে মাদক সংশ্লিষ্টতায় ৭ যুবককে ৩ মাসের কারাদণ্ড ও প্রত্যেকের ৫ হাজার টাকা করে ৩৫ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।
বুধবার (৩১ আগস্ট) সকালে কারাদণ্ড ৭ যুবককে গাজীপুর জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কালীগঞ্জ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. মাজহারুল হক। এর আগে মঙ্গলবার (৩০ আগস্ট) সন্ধ্যায় উপজেলার বেলাই বিলে এ অভিযান পরিচালিত হয়।
কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলো গাজীপুর জেলার পূবাইল থানার মাজুখান মধ্যপাড়া গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে সজীব (২০), মোসলেম উদ্দিনের ছেলে সাজিদ রহমান (১৯), মাজুখান দক্ষিণপাড়া গ্রামের আলতাফের ছেলে শান্ত (১৯), মারুকা গ্রামের মো. জাহিদ হোসেনের ছেলে মো. মেহেদী হাসান মারুফ, একই গ্রামের মৃত জামাল উদ্দিনের ছেলে মো. ফারুক হোসেন (৫২), নোয়াখালির বেগমগঞ্জ থানার কুতুবপুর গ্রামের মোকলেছুর রহমান টিপুর ছেলে বায়েজিদ শান্ত (১৮) ও নাটোরের বাগাতিপাড়া থানার লক্ষণহাটিয়া গ্রামের বাবুল শেখের ছেলে মো. রবিন (১৯)।
উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা সাদিয়া রহমান জানান, উপজেলার বক্তারপুর এলাকায় অবৈধ কারেন্ট ও চায়না দুয়ারী ( ম্যাজিক) জাল দিয়ে মাছ শিকার করছে, এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বেলাই বিলে অভিযান চালায় ভ্রাম্যমাণ আদালত। ভ্রাম্যমান আদালতের অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উম্মে হাফছা নাদিয়া।
মৎস্য কর্মকর্তা আরো জানান, অভিযানে ৯ হাজার মিটার অবৈধ কারেন্ট ১০টি চায়না দুয়ারী (ম্যাজিক) জাল জব্দ করা হয়। এ সময় উপজেলার বক্তারপুর এলাকার মোফাজ্জল হোসেনের ছেলে মৎস্যজীবি সিয়ামকে মৎস্য রক্ষা ও সংরক্ষণ আইন ১৯৫০ এর ০৫ ধারার ২(খ) উপধারায় ১ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। পরে অভিযান শেষে রাতে জব্দকৃত অবৈধ জাল বিল পাড়ে জনসম্মুখে পুড়িয়ে ফেলা হয় বলেো জানান তিনি।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উম্মে হাফছা নাদিয়া জানান, অবৈধ কারেন্ট ও চায়না দুয়ারী ( ম্যাজিক) জাল দিয়ে মাছ শিকার রোধে বেলাই বিলে অভিযান চালায় ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় দেখা যায় বেলাই বিলে একটি পিকনিকের ইঞ্জিনচালিত নৌকায় (ট্রলার)৩২ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক ছেলে-মেয়ে উচ্চ বাজনায় অশ্লীল নাচানাচি করছে। পরে তাদের ট্রলারে অভিযান চালায় ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় ট্রলারে মাদকের আলামত পাওয়া যায়। পরে ট্রলারে অবস্থানকৃত ৩২ জনের মধ্যে প্রাপ্তবয়স্ক ৭ জনেক মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন ২০১৮ এর ৩৬(১) সারনী ২১ ধারায় ৭টি মামলায় প্রত্যেকের ৩ মাসের জেল ও ৫ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়।
তিনি আরো জানান, ট্রলারে অবস্থানকৃত বাকি ২৫ জন অপ্রাপ্তবয়স্ক হাওয়ায় তাদেরকে মুচলেকা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। অভিযানে মোট ৮টি মামলায় ৩৬ হাজার টাকা জরিমানা করা হয় এবং ৭ যুবককে ৩ মাসের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। এছাড়াও একই অভিযানে জব্দকৃত ৯ হাজার মিটার অবৈধ কারেন্ট ও ১০টি চায়না দুয়ারী ( ম্যাজিক) জাল জনসম্মুখে পুড়িয়ে দেওয়া হয়।
এ সময় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, মৎস্য কর্মকর্তা ছাড়াও , বেঞ্চ সহকারী মাহবুবুল ইসলাম, পুলিশ ও আনসার সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
বাবু/এসএম