ফুলঝাড়ু শিল্পে স্বচ্ছলতা ফিরেছে চরাঞ্চলবাসীর

সোহেল রানা, কালিহাতী (টাঙ্গাইল)

সারাবাংলা

ঘর পরিস্কার পরিচ্ছন্ন করার কাজে ফুলঝাড়ু (উলুফুল) এর জুড়ি নেই। গ্রামগঞ্জ থেকে শুরু করে শহর বন্দরের প্রায় প্রতিটি

2022-09-03T18:08:05+00:00
2022-09-03T18:08:05+00:00
শনিবার ৮ আগস্ট ২০২৬ ২৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
শনিবার ৮ আগস্ট ২০২৬
   
ফুলঝাড়ু শিল্পে স্বচ্ছলতা ফিরেছে চরাঞ্চলবাসীর
সোহেল রানা, কালিহাতী (টাঙ্গাইল)
প্রকাশ: শনিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২২, ৬:০৮ পিএম   (ভিজিট : ৪৮২)
X


ঘর পরিস্কার পরিচ্ছন্ন করার কাজে ফুলঝাড়ু (উলুফুল) এর জুড়ি নেই। গ্রামগঞ্জ থেকে শুরু করে শহর বন্দরের প্রায় প্রতিটি ঘরেই রয়েছে ঝাড়ুর কদর। পাহাড়ী অঞ্চলে প্রাকৃতিকভাবে জন্মানো এ ফুল ঝাড়ু স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে বিক্রির জন্য দেশের বিভিন্ন জেলায় নেওয়া হচ্ছে। আর এ ফুলঝাড়ু বিক্রি করে আর্থিক ভাবে লাভবান হচ্ছেন এলাকার মানুষেরা।

টাঙ্গাইলের কালিহাতী উপজেলার যমুনা তীরবর্তী এলাকার মানুষের স্বচ্ছলতা ফিরছে ফুলঝাড়ু শিল্পে। যমুনার প্রবল ভাঙ্গনে দুর্গাপুর ও গোহালিয়াবাড়ী ইউনিয়নের নদী পাড়ের বাসিন্দারা প্রতি বছরই বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়। এসব এলাকার মানুষেরা বছরের অর্ধেকটা সময় কর্মহীন হয়ে পড়ে। কিন্তু স্থানীয় কয়েকজন ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ফুল ঝাড়ু তৈরির কারখানা সৃষ্টি করায় এ অঞ্চলের নিম্ন আয়ের মানুষের মধ্যে স্বচ্ছলতা ফিরে এসেছে।

সরেজমিনে এসব এলাকায় দেখা যায় ছোট আকারের প্রায় ৫০টি কারখানা গড়ে ওঠেছে। আর এসব ঝাড়ু শিল্পের বিভিন্ন সেক্টরে প্রায় ৫-৬শ নারী-পুরুষের কর্ম সংস্থানের জোগাড় হয়েছে। এসব শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা জানায়, প্রায় ১০-১২ বছর আগে পটল বাজার এলাকার নজরুল ইসলাম নুরু, আব্দুল  হাই, সোলেমান ও মাজেদ মিলে চট্টগ্রামের খাগড়াছড়ি এলাকা থেকে স্বল্প পরিসরে উলুফুল (ফুল ঝাড়ুর ফুল) এনে স্থানীয় শ্রমিকদের দিয়ে বাঁধাই করে ঢাকায় হকারদের মাধ্যমে বিক্রি করেন। ব্যবসাটি লাভজনক হওয়ায় তারা ব্যবসার প্রসার ঘটায়। এছাড়া শ্রমিকারও উৎপাদনের ভিত্তিতে এসব কারখানায় কাজ করে প্রতিদিন ৪/৫শ টাকা উপার্জন করে। আর তাদের উপার্জিত টাকায় পরিবার-পরিজন নিয়ে তারা সাচ্ছন্দেই আছেন বলে জানান পটল বাজারের শ্রমিক সেলিম, সুজন, পারভেজ, বাছেদ, সাইফুল সহ অনেকেই। পুরুষ শ্রমিকরা উলুফুল ও পাটখড়ির সাথে গুনা দিয়ে বেধে সুন্দর মোঠা (আটি) তৈরি করে। পরে ওই বাঁধাই করা মোঠা গুলোতে কস্টেপ অথবা পিভিসি পাইপ লাগিয়ে নারী শ্রমিকরা বাজারজাত করার উপযোগী করে তোলে। এসব কারখানাগুলো মুলত কালিহাতী উপজেলার মগড়া বাজার, পটল বাজার, দূর্গাপুর, কদিমহামজানী, বঙ্গবন্ধু সেতুর পূর্ব পাড়, শ্যামশৈল, কুর্ষাবেনু ও পাথরঘাট এলাকায় গড়ে ওঠেছে। পটল বাজারের ফুল ঝাড়ু ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম নুরু জানান, একসময় এব্যবসার সুদিন থাকলেও এখন ব্যবসায় কোন শান্তি নেই। পার্বত্য চট্টগ্রাম, খাগড়াছড়ি, বান্দরবন ও রাঙ্গামাটি এলাকা থেকে এসব উলুফুল খুবই কম দামে কিনে আনেন। কিন্তু মহাসড়কে পুলিশ ও বন বিভাগের নানা তালবাহানার ফলে ওই ফুলের দাম বিশ গুণেরও বেশি পড়ে যায়। অপরদিকে তেলের মূল্য বৃদ্ধির কারণে পরিবহন খরচও বেড়েছে। এমতাবস্থায় এখন তাদের এ শিল্প পরিচালনা দুস্কর হয়ে পড়েছে। তাছাড়া এ শিল্প বন্ধ হয়ে গেলে নদী তীরবর্তী প্রায় এক হাজার নারী ও পুরুষ শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়বে। তিনি নিজের বাড়ীতে ৩০ শতাংশ ভূমিতে উলুফুল চাষ শুরু করেছেন। যাতে এসব এলাকার উৎপাদিত উলুফুল দিয়েই কারখানাগুলো সচল রাখা যায়।

দূর্গাপুর ইউপি চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা সিরাজুল ইসলাম জানান, চরাঞ্চলে ফুলঝাড়ু কারখানা সৃষ্টি হওয়ায় যমুনার ভাঙন কবলিত এলাকার কর্মহীন মানুষের মধ্যে স্বচ্ছলতা ফিরে এসেছে। এসব ক্ষুদ্র শিল্প টিকিয়ে রাখার স্বার্থে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি প্রয়োজন।

বাবু/এসএম





Loading...
Loading...


সারাবাংলা এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy