
X
নেত্রকোণার কেন্দুয়া উপজেলার রোয়াইলবাড়ি আমতলা ইউনিয়নের রাজনগর গ্রামের বুক ছিঁড়ে বয়ে গেছে সুতী নদী। সেই নদী পার হয়ে শিশু শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন স্কুলে আসা যাওয়ার একমাত্র মাধ্যম বাঁশের সাঁকো।
জানা যায়, ঐ নদীর উত্তর পাড়ে ১৯৩৮ সালে রাজনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করেন স্থানীয় শিক্ষানুরাগীগণ। বর্তমানে বিদ্যালয়টি ইউনিয়নের মডেল ক্লাস্টার হিসেবে উন্নীতকরণ করা হয়েছে। বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠার পর থেকেই নদীর ওপারের রাজনগর ও রোয়াইলবাড়ি গ্রামের শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি। বর্ষায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কলাগাছের ভেলা, ডিঙ্গি নৌকায় পাড়ি দিয়ে স্কুলে যাওয়া-আসা করতে হয় শিক্ষার্থীদের। শুকনো মৌসুমে পানি কমলে নদীতে দেওয়া হয় বাঁশের চিকন সাঁকো। প্রতিদিন খুদে শিক্ষার্থীদের এই বাঁশের সাঁকোতে হামাগুড়ি দিয়ে পাড় হতে হয়। প্রায় সময় সাঁকো পার হতে গিয়ে নদীতে পড়ে যায় শিশুরা। এসময় তাঁদের বই-খাতা খোয়া যায়, ভিজে নষ্ট ও শিক্ষার্থীরা আহত হয়। তাদের এ সমস্যা নিত্যদিনের।
এলাকাবাসী জানান,যুগ যুগ ধরে এ এলাকার শিক্ষার্থীদের কষ্ট-দুঃখের কথা স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, প্রশাসনের কাছে জানিয়ে আসলেও কর্ণপাত করছেন না কেউ-ই। নদীর ওপর একটি ব্রিজ না থাকায় চরম দুর্ভোগে শিক্ষার্থী ও এলাকার মানুষ। একটি ব্রীজ হলে বদলে যাবে এলাকার দৃশ্যপট এমনকি এলাকাবাসির দাবী।
পঞ্চম শ্রেনির শিক্ষার্থী সিয়াম জানায়, নদীর দক্ষিণ পাড়েই তার বাড়ি। স্কুল থেকে তাঁর বাড়ির দুরত্ব কয়েকশ গজ। তাদের বাড়ির কাছে আর কোন বিদ্যালয় নেই। তাই বাধ্য হয়ে তারা প্রতিদিন জীবনের ঝঁকি নিয়ে এই এক বাঁশের সাঁকো পেরিয়ে প্রতিদিন স্কুলে যাই। বর্ষা মৌসুমে নদীতে যখন প্রবল স্রুত ও ভরা পানি থাকে, তখন দুই-তিন মাস প্রায় দেড় কিলোমিটার পথ ঘুরে স্কুলে আসতে হয় । নদীতে একটা ব্রীজ হলে আমারা নিশ্চিন্তে স্কুলে আসা-যাওয়া করতে পারতাম।
রাজনগর গ্রামের শহীদুল্লাহ মাস্টার জানান, আমাদের বাচ্চাদের স্কুলে পাঠিয়ে সবসময়ই ভয়, আতংক ও দুশ্চিন্তায় থাকি। কারণ, কখন কোন দূর্ঘটনার খবর আসে। প্রায়ই ছেলে-মেয়েরা বই-খাতা ভিজে যাওয়ায় কান্না করে বাড়িতে ফেরে। একটি ব্রীজের জন্য যুগ যুগ ধরে বিভিন্ন জায়গায় ধর্ণা দিয়েও কাজ হচ্ছে না। এখানে একটি ব্রীজ হলে শিক্ষার্থীরা যেমন নির্বিঘ্নে স্কুলে আসা-যাওয়া করতে পারতো তেমনি এলাকার সাধারণ মানুষের চলাচলের পথ সুগম হতো।
রাজনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক তাজুল ইসলাম জানান, তাঁর বিদ্যালয়ে সিংহভাগ ছাত্র-ছাত্রীই নদীর ওই পাড়ের বাসিন্দা। সীমাহীন কষ্ট করে প্রতিদিন তারা স্কুলে আসে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা বৃষ্টি বাদলের দিন তাদের কষ্টের আর সীমা থাকে না। স্কুলে আসা-যাওয়ার সময় প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হয় তারা। বহুদিন ধরে শুনছি নদীতে একটি ব্রীজ হবে। ব্রীজ আর হয় না। স্কুল সংলগ্ন একটি ব্রিজ নির্মাণের জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেন তিনি।
এব্যাপারে রোয়াইলবাড়ি আমতলা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান লুৎফর রহমান আকন্দ জানান, আমি পরিষদে দ্বায়িত্ব নেওয়ার পরপরই শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের জন্য একটি মাটির রাস্তা করে দিয়েছি। স্কুলের শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের দুর্দশার বিষয়টি এমপি মহোদয়ও জানেন। তিনি ডিওলেটারও দিয়েছেন। আশা করছি খুব শিঘ্রই ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় হতে স্কুল সংলগ্ন ব্রীজ নির্মাণ করা হবে।
কেন্দুয়া উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) তাসলিমা বেগম লিপি বলেন, স্কুলের শিক্ষার্থীদের নদী পারাপারের বিষয়টি খুবই কষ্টের। কিন্তু আমাদের করার কিছুই নাই, বিষয়টি উর্ধতন কতৃপক্ষকে জানানো হবে।
-বাবু/এ.এস