
X
আগামী ১৭ অক্টোবর জেলা পরিষদ নির্বাচন। এ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বগুড়া জেলায় দুইজন চেয়ারম্যান পদে এবং সদস্য পদে ৬১ জন মনোনয়ন পত্র দাখিল করেছেন। এর মধ্যে সাধারণ সদস্য পদে ১২টি ওয়ার্ডে ৪৪ জন এবং বাকি ১৭ জন সংরক্ষিত মহিলা আসনের। (১৫ সেপ্টেম্বর) বৃহস্পতিবার বিকালে জেলা নির্বাচন অফিসের সহকারি রিটার্নিং কর্মকর্তা এ এস এম জাকির হোসেন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
চেয়ারম্যান পদে দুইজন প্রার্থী হলেন, আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ডা: মকবুল হোসেন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল মান্নান আকন্দ। এ নির্বাচনে দুজনই জেলায় বেশ পরিচিত মুখ। এর মধ্যে এক দফা জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান থেকে সততায় এগিয়ে আছেন ডা. মকবুল হোসেন। অন্যদিকে জেলায় সমাজসেবা ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী আব্দুল মান্নান আকন্দ আলোচিত হয়েছেন।
এ ছাড়া সাধারণ সদস্য পদে ১২টি ওয়ার্ডে যারা মনোনয়ন পত্র জমা দিয়েছেন তাদের মধ্যে - ১নং ওয়ার্ডে শামছুননাহার আকতার বানু, মাহমুদুল হাসান এবং মারুফ রহমান মঞ্জু। ২নং ওয়ার্ডে রুহুল কুদ্দুস সাহেদ, মাফুজুল ইসলাম রাজ, কামরুল বাশার খান, আবু জাফর মাহমুদন্নবী রাসেল এবং সৈয়দ সার্জিল আহমেদ টিপু। ৩নং ওয়ার্ডে এস এম রুহুল আমিন এবং নাছরিন রহমান। ৪নং ওয়ার্ডে আবু সাইদ ফকির, ৫নং ওয়ার্ডে মঞ্জু আরা বেগম, ৬ নং ওয়ার্ডে রাশেদুল ইসলাম, মুকুল মিয়া, সানোয়ার হোসেন এবং মোস্তারীন সরকার। ৭নং ওয়ার্ডে রুবেল সরকার, আছাদুর রহমান দুলু, তালেবুল ইসলাম এবং উমর ফারুক। ৮ নং ওয়ার্ডে শিল্পী বেগম, মোস্তাফিজার রহমান(ভুট্ট) এবং মানিক উদ্দিন।
৯নং ওয়ার্ডে- ছাইফুল ইসলাম, সুজাউদ্দৌলা, মোহসীন আলম মিন্টু, ফজলুল হক এবং তাছলিমা আকতার। ১০ নং ওয়ার্ডে- ফয়সাল খান, মঞ্জুরুল হক মঞ্জু এবং আব্দুল্লাহেল বাকী। ১১নং ওয়ার্ডে, রাকিবুল হাসান, আব্দুল খালেক, মমতাজুর রহমান, আব্দুর রশিদ ফারাজী, আব্দুস সালাম এবং ফরিদুর রহমান। ১২নং ওয়ার্ডে, জুলফিকুর রহমান, মিজানুর রহমান, অসীম কুমার জৈন, আব্দুল মালেক, জাকিরুল ইসলাম, মহিদুল ইসলাম এবং আবুল হাসান মো: আশরাফুদৌলা। চারটি ওয়ার্ডে সংরক্ষিত মহিলা আসনে যে ১৭ জন মনোনয়ন পত্র দাখিল করেছেন। ১নং ওয়ার্ডে রুলি বিবি, মাহফুজা খানম এবং শাহানা খাতুন। ২নং ওয়ার্ডে শামীমা আখতার, আলো গুপ্তা এবং হাসনা আকতার। ৩নং ওয়ার্ডে নাজলীন নাহার, ফিরোজা খাতুন, সুমাইয়া খানম, সুইটি মল্লিক এবং রওশন আরা। ৪নং ওয়ার্ডে শামছুন নাহার, রুনুফা খাতুন, দিলরুবা আমিনা আকতার বানু, আমিনা খাতুন, আছমা বেগম এবং রহিমা আকতার।
এ প্রসঙ্গে বগুড়া জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মাহমুদ হাসান বলেন, জেলা পরিষদ নির্বাচনে আগামী ১৭ অক্টোবর ইলেকট্রিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) ভোট গ্রহণ হবে। নির্বাচনে ভোটারসংখ্যা ১ হাজার ৬২৫। এর মধ্যে দুজন মারা গেছেন। ভোটারদের মধ্যে আছেন উপজেলা পরিষদের ১২ জন চেয়ারম্যান, ২৪ ভাইস চেয়ারম্যান, বগুড়ার ১২ পৌরসভার ১২ মেয়র, ১৬০ কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর, ১০৯ ইউপি চেয়ারম্যান এবং ১ হাজার ৩০৮ জন সাধারণ ও সংরক্ষিত ওয়ার্ড সদস্য।
বগুড়া জেলা পরিষদের নির্বাচন নিয়ে আওয়ামী লীগ মনোনিত চেয়ারম্যান প্রার্থী ডা. মকবুল হোসেন জানান, বিগত দিনে তিনি চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে সততা দেখিয়েছেন। সেই সততার পুরস্কার হিসেবে দলীয়ভাবে তাকে আবারো মনোনীত করা হয়েছে। দায়িত্ব হবে নির্বাচিত হয়ে জেলার সার্বিক উন্নয়নে নজর দেওয়া। জেলার উন্নয়নমূলক কাজের জন্য সাধ্যমত চেষ্টা করে যাবেন বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
অপরদিকে আওয়ামীলী গের মনোনয়ন চেয়ে ব্যর্থ হয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী আবদুল মান্নান আকন্দ জানান, এক সময় বগুড়া পৌর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। বর্তমানে দলের কোন পদে না থাকলেও তিনি আওয়ামী লীগের সঙ্গে আছেন। সমাজের অবহেলিত মানুষদের নিয়ে কাজ হিসেবে যেকোন সমস্যায় পাশে দাঁড়ান তিনি। সাধারণ মানুষের কথা ভেবে ও তাদের উন্নয়নের জন্য তিনি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছেন। নির্বাচিত হলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশব্যাপী উন্নয়নের অংশ হিসেবে এ জেলার অভূতপূর্ব উন্নয়নের শরীক হবো।
বাবু/জাহিদ