প্রকাশ: শনিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর, ২০২২, ৪:৪৫ পিএম (ভিজিট : ৪৯০)

X
নীলফামারীর ডোমারে বাবার লাশ বাড়িতে রেখেই চলতি এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন নমিতা রানী ঝাঁ নামে এক পরিক্ষার্থী। শনিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) ডোমার উপজেলার বোড়াগাড়ী ইউনিয়নের বাকডোকরা শিয়ালডাঙ্গা গ্রামে ঘটনাটি ঘটে।
নমিতা রানীর বড়ভাই বিপুল কুমার ঝাঁ জানান, সকাল ছয়টায় মারা যায় আমার বাবা সুনীল চন্দ্র ঝাঁ। নমিতা আমার ছোট বোন, সে এবার এসএসপি পরিক্ষা দিচ্ছে। আজ সকাল ১১টায় পরীক্ষায় অংশ নেন নমিতা রানী, পরীক্ষা শেষে বাড়িতে এসে বাবার অন্তোষ্টি ক্রিয়ার অনুষ্ঠানে অংশ নেয় সে। সুনীল চন্দ্র ঝাঁ বাকডোকরা শিয়ালডাঙ্গা এলাকার সচ্চিকা নন্দ ঝাঁ সচিনের মেঝো ছেলে।
নমিতা রানী উপজেলার নিমোজখানা বাকডোকরা স্কুল এ্যান্ড কলেজ থেকে এ বছর এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন। তার রোল নম্বর-৫৩০৭৬২। শনিবার বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্ব সভ্যতা পরীক্ষা ছিল। হঠাৎ করে সকালে মারা যান তার বাবা, একদিকে বাবা মারা গেছে অন্যদিকে পরীক্ষা। বাবার মারা যাওয়ায় একবারে ভেঙ্গে পড়েছে নমিতা রানী। পরে স্বজনদের পরামর্শে পরীক্ষা কেন্দ্রে গিয়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহন করে সে।
স্থানীয়রা জানায়, শনিবার সকাল ৬টার দিকে হৃদ যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মারা যান নমিতার বাবা সুনিল চন্দ্র ঝাঁ। বাবাকে হারিয়ে ভেঙ্গে পড়েন তিন ভাইবোনের মধ্যে সবচেয়ে ছোট নমিতা রানী। অপরদিকে সকাল ১১টায় তার বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্ব সভ্যতা পরীক্ষা। বাবার মৃত্যু শোকে বারবার মুর্ছা যাওয়া নমিতার পক্ষে পরীক্ষা দেওয়া অসম্ভব হয়ে দাড়িয়েছিলো, এ সময় তার পরিবারের সদস্য ও আত্মীয় স্বজনরা তাকে বুঝিয়ে পরীক্ষা কেন্দ্রে পাঠায় এবং সে ডোমার বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করে।
ডোমার বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক রুহুল আমিন বাবা মারা যাওয়ার পরও নমিতা রানীর পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, খবরটি পেয়ে আমরাও শোকাহত। আমরা ওই পরিক্ষার্থীকে বুঝিয়ে তার বিষয়টি অনুধাবন করে তার পরীক্ষা গ্রহণ করি। খবর পেয়ে ডোমার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রমিজ আলম নমিতা রানীর কাছে এসে তার প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করেন। পরীক্ষা শেষ হলে তাকে নিরাপদে বাড়িতে পৌছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে বলেও তিনি জানান। পরীক্ষা শেষে বাড়ি পৌছে নমিতা রানী তার বাবার লাশের পাশে বসে বারবার মুর্ছা যাচ্ছিলেন। বাড়ি পৌছার আধাঘন্টা পর তার বাবার লাশ অন্তোষ্টি ক্রিয়ার জন্য শ্মশানে নিয়ে যাওয়া হয়।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রমিজ আলম বলেন, খবরটি শুনে আমি পরীক্ষা কেন্দ্রে গিয়ে নমিতা রানীর সাথে দেখা করে তার প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করি। পরীক্ষা কেন্দ্রে তার যেন কোন অসুবিধা না হয় সে বিষয়ে কেন্দ্র সচিবকে ব্যবস্থা নিতে বলি। বিকালে নমিতার পরিবারের সাথে দেখা করার জন্য তার বাড়িতে যাবেন বলেও তিনি জানিয়েছেন।
বাবু/জাহিদ