প্রকাশ: রোববার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২২, ৩:৫১ পিএম (ভিজিট : ৩২২)

X
নরসিংদীর রায়পুরায় বিয়ের ৮ মাস পর আরজিনা বেগম (১৮) নামে গৃহবধূর রহস্য জনক মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) আরজিনা বেগম নামে এই গৃহবধূর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে রায়পুরা থানা পুলিশ। নিহতের পরিবার ও স্বজনদের অভিযোগ আরজিনাকে শারীরিক নির্যাতন করে হত্যার পর সিলিং ফ্যানের সাথে ঝুলিয়ে রেখেছে তার স্বামী জীবন মিয়া (২৩)।
শনিবার দিবাগত রাতে মহেষপুর গ্রামে গৃহবধূর স্বামী বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। থানা পুলিশ খবর পেয়ে রাত আনুমানিক ১১টায় ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতালে মর্গে প্রেরণ করেন। নিহত গৃহবধূ রায়পুরা ইউনিয়নের আশরাফপুর গ্রামের মদনের বাড়ির জিল্লাহ মিয়ার মেয়ে। নিহতের স্বামী জীবন মিয়া মহেষপুর ইউনিয়নের মহেষপুর গ্রামের মো. মালো হোসেন মিয়ার ছেলে। এ ঘটনার পর থেকে নিহতের স্বামী ও স্বজনরা বাড়ি ঘর ছেড়ে আত্মগোপনে রয়েছেন।
পুলিশ ও নিহতের স্বজনদের সূত্রে জানা গেছে, শনিবার রাত আনুমানিক ৮টায় ওই গৃহবধূর স্বজনরা স্বামীর ঘরে ওড়না দিয়ে সিলিংফ্যানের সাথে ঝুলন্ত থাকার খবর পান। নিহতের স্বজনরা রায়পুরা থানা পুলিশকে খবর দেন। গত ৮ মাস আগে উভয় পরিবারের সম্মতিতে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন পাশের গ্রামের ছেলে মো. জীবন মিয়া (২৩) এর সঙ্গে। বিয়ের কয়েক দিন যেতে না যেতেই ওই গৃহবধূকে যৌতুকের জন্য প্রতিনিয়ত অস্বাভাবিক নির্যাতন চালাতো বলে অভিযোগ আরজিনার স্বজনদের। নিহতের ভাই খাজা বলেন, 'বোন আমার সাথে প্রায়ই বলতো জীবন পরকীয়া প্রেমে আসক্ত ছিলো। বিয়ের পর আমি আমার বোন দুজনে ৫-৭ জন মেয়ের সাথে প্রেমের সম্পর্ক ভেঙেছি। কোনো মতেই তাকে এ থেকে ফেরানো যাচ্ছিল না। জীবন প্রায়ই আনার বোনকে মেরে ফেলার হুমকি দিত। আমি বোন হত্যার বিচার চাই।'
নিহতের মা নাজমা বেগম বলেন, 'গতকাল বিকেলে মেয়ে ও জামাইকে আমাদের বাড়িতে আসার জন্য দাওয়াত দেই। এতে মেয়েকে আমার বাড়িতে দিবেনা বলে, আমাদের সামনেই মারধর শুরু করে। মেয়েকে বাঁচাতে গেলে আমাকেও মারধর করে তাদের বাড়ি থেকে বের করে দেয়। বাড়িতে আসার পথেই জানতে পারি মেয়েকে হত্যা করে ঝুলিয়ে রেখেছে। আমরা গরীব মানুষ প্রধানমন্ত্রীর দেয়া উপহারের ঘরে বসবাস করে আসছি। বিয়ের পর থেকে জীবন বিভিন্ন সময় যৌতুকের জন্য আমার মেয়েকে মারধর করতো। এ নিয়ে থানায় একটি লিখত অভিযোগও করেছিলাম। মেয়ের সুখের কথা চিন্তা করে দুটো মোবাইল ফোন ও কিছু টাকা দেয়া হয়েছে। মেয়েকে হত্যা করে ঝুলিয়ে রেখেছে জীবন। প্রধানমন্ত্রীর নিকট মেয়ে হত্যার কঠিন শাস্তি দাবি করছি।'
রায়পুরা থানার উপপরিদর্শক রাকিবুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে নরসিংদী সদর হাসপাতালে মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। রিপোর্ট আসার পর পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে।
বাবু/জাহিদ