বারহাট্টা উপজেলায় অভিযুক্ত শিক্ষকই হলেন শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক

সোহেল খান দূর্জয়, নেত্রকোণা

সারাবাংলা

অসংখ্য অভিযোগ থাকার পরও নেত্রকোণার বারহাট্টা উপজেলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষক নির্বাচিত হয়েছেন কুমারপাড়া হিলোচিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক

2022-09-25T17:26:04+00:00
2022-09-25T17:26:04+00:00
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬ ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬
   
বারহাট্টা উপজেলায় অভিযুক্ত শিক্ষকই হলেন শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক
সোহেল খান দূর্জয়, নেত্রকোণা
প্রকাশ: রোববার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২২, ৫:২৬ পিএম   (ভিজিট : ৩০৯)
X

অসংখ্য অভিযোগ থাকার পরও নেত্রকোণার বারহাট্টা উপজেলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষক নির্বাচিত হয়েছেন কুমারপাড়া হিলোচিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মামুন মিয়া। তার বিরুদ্ধে স্কুল ফাঁকি দেওয়া, স্কুলে গিয়েও নানা অজুহাতে চলে আসাসহ অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে। এ নির্বাচন প্রক্রিয়াকে স্বজনপ্রীতি ও অনিয়ম বলছেন অন্য প্রধান শিক্ষকেরা।

এর আগে জাতীয় শিক্ষা পদক (২০২২) উপলক্ষ্যে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ শিক্ষক নির্বাচন করা হয়। এতে কুমারপাড়া হিলোচিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মামুন মিয়া উপজেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ প্রধান শিক্ষক নির্বাচিত হন। এদিকে এ নির্বাচন প্রক্রিয়ায় স্বজনপ্রীতি ও অনিয়মের অভিযোগ এনে এর প্রতিকার চেয়ে উপজেলার দুজন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইউএনও বরাবর লিখিত অভিযোগও দিয়েছেন।

জানা গেছে, অভিযুক্ত শিক্ষক ২০১৭ সালের নভেম্বরে যোগদান করেন। দুই মাস চাকরি করার পর ডিপিএড করতে চলে যান ময়মনসিংহে। দেড় বছর পর ডিপিএড শেষে ২০১৯ সালের জুলাইয়ে তিনি স্কুলে যোগ দেন। পরে প্রায় দুই বছর করোনার কারণে স্কুল বন্ধ থাকে। ২০২১ সালের শেষের দিকে ফের তিনি অন্য একটি প্রশিক্ষণে তিন মাসের জন্য চলে যান। এই প্রশিক্ষণ শেষে চলতি বছরের মার্চে তিনি স্কুলে যোগদান করেন। তার চাকরির বয়স প্রায় পাঁচ বছর হলেও বিদ্যালয়ে তিনি ক্লাস নিয়েছেন মাত্র ৯ মাস। মামুন মিয়া চলতি বছরের ছয় মাসের (মার্চ থেকে আগস্ট) মধ্যে ২৪ দিন নৈমিত্তিক ছুটি ভোগ করেছেন। ১৪ দিন মেডিকেল ছুটি ভোগ করেন। যদিও একজন শিক্ষকের বছরে ২০ দিন নৈমিত্তিক ছুটি ভোগের বিধান রয়েছে। বন্যাকালীন ছাড়াও অন্য সময় স্কুলে না এসেও উপস্থিত খাতায় স্বাক্ষর করেছেন।

বিদ্যালয়ের মুভমেন্ট খাতায় দেখা গেছে, গত আগস্ট মাসে নানা অজুহাতে ১৩ দিন মুভমেন্ট লিখে বিদ্যালয় ত্যাগ করেন। এখানেও একই বিষয়ে একাধিকবার মুভমেন্ট লিখেছেন তিনি। বিদ্যালয়ে না এলেও নানা অজুহাতে চলে যাওয়ার কারণে অভিভাবকরা সম্প্রতি তার বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসকের কাছে অভিযোগ দিয়েছেন। গত আগস্টে ৬৪ জন অভিভাবক মিলে কুমারপাড়া হিলোচিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মামুন মিয়ার বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। এতে নানা অজুহাতে স্কুল ফাঁকি দেওয়া, বিদ্যালয়ে এসেও বিভিন্ন কাজ দেখিয়ে চলে যাওয়াসহ বিভিন্ন অভিযোগ তোলেন প্রধান শিক্ষক মামুন মিয়ার বিরুদ্ধে। প্রধান শিক্ষক মামুন মিয়া থাকেন ময়মনসিংহে। সেখান থেকে এসে বারহাট্টায় স্কুল করেন। সে কারণে নিয়মিত তিনি আসেন না। এছাড়া যাওয়ার সময় ট্রেন ধরার কারণে দুপুরেই নানা কারণ দেখিয়ে স্কুল থেকে চলে যান।

এ বিষয়ে জানতে বারহাট্টা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বিনয় চন্দ্র শর্মাকে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। তবে এ বিষয়ে বারহাট্টা উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা রহুল আমিন বলেন, যথাযথ ভাবেই শ্রেষ্ঠ শিক্ষক নির্বাচন করা হয়েছে। এখানে কোন অনিয়ম হয়নি। তবে প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আছে তা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে তদন্তাধীন আছে। এতে দোষী প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রধান শিক্ষক মামুন মিয়া বলেন, আমার বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো সত্য নয়। এলাকার একটা মহল ইচ্ছে করে এর আগেও আমার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ করেছেন। যার কোনো সত্যতা মেলেনি। এসব আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র।

এ বিষয়ে বারহাট্টা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এসএম মাজহারুল ইসলাম বলেন, শ্রেষ্ঠ শিক্ষক নির্বাচিত করার ক্ষেত্রে লিখিত পরীক্ষা, ভাইভাসহ বেশ কিছু নিয়ম আছে। এসব কিছুতে উত্তীর্ণ হয়েছেন তিনি। নিয়মগুলো যথাযথভাবে মেনেই তাকে শ্রেষ্ঠ শিক্ষক নির্বাচন করা হয়েছে। শিক্ষক মামুন মিয়ার বিরুদ্ধে যদি স্কুল ফাঁকি দেওয়া বা আরও অন্য কোনো অভিযোগ থাকে সে বিষয়ে কর্তৃপক্ষ যথাযথ ব্যবস্থা নেবে।

বাবু/জাহিদ





Loading...
Loading...


সারাবাংলা এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy