প্রকাশ: রোববার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২২, ৭:১৯ পিএম আপডেট: ২৫.০৯.২০২২ ৭:২২ পিএম (ভিজিট : ৪৬৮)

X
নীলফামারীর ডোমারে সিজারে ছেলে সন্তান লাভের ৩ ঘন্টা পরেই হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে কমলা বেগম (৩৫) নামে এক গৃহবধুর মৃত্যু হয়েছে। তবে নবজাতক শিশুটি সুস্থ রযেছে।
রোববার (২৫ সেপ্টেম্বর) ভোরে ডোমার শহরস্থ ডক্টরস ক্লিনিকে এই হৃদয় বিদারক ঘটনাটি ঘটে। গৃহবধূ কমলা বেগম উপজেলা পাঙ্গা মটুকপুর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ড জলদান পাড়ার মো. সিরাজুল ইসলামের স্ত্রী ও পার্শ্ববর্তী বামুনিয়া ইউনিয়নের জহুরুল ইসলামের মেয়ে । নবজাতক ছাড়াও তার তিনটি মেয়ে সন্তান রয়েছে। এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
কমলা বেগমের বাবা জহুরুল ইসলাম জানান, ছোট বেলাতেই কমলার বিয়ে দিয়ে দেই। বিয়ের পর তার তিনটি মেয়ে জন্মলাভ করে। এর মধ্যে বড়মেয়ে সেলিনার বিয়ে দেয় সে, এবং নাতনীও পায়। মেজো মেয়ে মেরিনা আক্তার (১৩) একটি মাদ্রাসায় ও ছোট মেয়ে রিয়া মনি (১০) স্থানীয় প্রাইমারী স্কুলে ৫ম শ্রেনীতে লেখাপড়া করে। তিনটি মেয়ে সন্তানের পর সে কিছুটা শারিরিকভাবে অসুস্থ্য হয়ে পরে। তারপরও ছেলে সন্তানের আশায় সে সন্তান নিতে চায়। এরেই এক পর্যায়ে সে গর্ভবতী হয়ে পরে।
শনিবার তার প্রসব বেদনা উঠলে আমরা তাকে ডোমারের ডক্টরস ক্লিনিকে নিয়ে যাই। সেখানে রাত দুইটার দিকে সে একটি পুত্র সন্তানের জন্ম দেয়। পুত্র হওয়ার সংবাদে পরিবারের মাঝে খুশির বন্যা বয়ে যায়। সিজারের পর জ্ঞান ফিরে মেয়ে কমলা তার ছেলের মুখ দেখে আনন্দে আত্মহারা হয়ে পরে। হাসিমুখে সে সকলের সাথে কথা বলে। তবে তার এই আনন্দ বেশিক্ষন স্থায়ী হয়নি। এরই এক পর্যায়ে হঠাৎ করে বুকে ব্যাথা শুরু হয়। এর কিছুক্ষন পর ভোরের দিকে হাঁচি দিয়ে তার রক্ত বমি হয়। বিষয়টি ডাক্তারকে অবগত করলে তিনি রংপুর নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিলে, আমরা রংপুর নিয়ে যাওয়ার প্রস্ততির মধ্যেই সে ক্লিনিকে মারা যায়।
তিনি আরো বলেন, তার জীবনের সব থেকে বড় পাওয়া ছিল তার একটি ছেলে সন্তান হবে। তার মনের আশা পুরন হলেও সেই ছেলেকে রেখেই না ফেরার দেশে চলে গেল। কমলা বেগমের মৃত্যুর সংবাদে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। রবিবার বাদ আছর জলদান পাড়ার কারবালার হাটে জানাযার নামাজ শেষে তার দাফন কাজ সম্পন্ন হয়। ডক্টর ক্লিনিকের ব্যবস্থাপক ডা. মাহাবুব উর রশিদ মাসুম গৃহবধুর সিজারের মাধ্যমে ছেলে সন্তান লাভের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ভোরের দিকে হৃদযন্ত্রে আক্রান্ত হয়ে নবজাতকের মা কমলা বেগম মারা যান। বিষয়টি অত্যান্ত দুঃখ জনক।
বাবু/জাহিদ