এ সময় উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মুফতি আনোয়ার হোসেন, উপজেলা পপ কর্মকর্তা ডাক্তার মো. হুমায়ুন কবির, কালিয়াজুরী অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রবিউল ইসলাম, ইউপি চেয়ারম্যানগণ, বিভিন্ন দপ্তরের সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারী, স্কুল-কলেজের ছাত্র-ছাত্রী, প্রিন্ট ও ইলেকট্রিক মিডিয়ার সাংবাদিকগণ উপস্থিত ছিলেন।
মদন উপজেলাকে কি করে মাদকমুক্ত করা যায়, এবং আমাদের তরুণ সমাজ মাদকের হাত থেকে রক্ষা করা যায়, এ নিয়ে ছিল বিভিন্ন জনের ভিন্ন বক্তব্য ও আলোচনা। বর্তমান তরুণ প্রজন্ম ভয়াবহ রকমের মাদক ঝুঁকিতে রয়েছে। মাদকদ্রব্যের সহজলভ্যতার কারণে সহজেই তাদের হাতে মাদকদ্রব্য চলে আসছে প্রশাসনের চোখের আড়ালে। এভাবে ধীরে ধীরে মাদকের প্রতি আসক্ত হয়ে নিজেদের জীবনকে ভয়ানক হুমকির দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এ প্রবণতা রোধ করা না গেলে প্রশাসন শক্ত হাতে দমন না করলে একটি প্রজন্মের সব সম্ভাবনা ধূলিসাত হয়ে যাবে। এবং দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম মাথা তুলে দাঁড়াবার শক্তি হারিয়ে ফেলবে। তাই মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে বিবেচনা করতে হবে।
মাদকাসক্তর বিষয়ের উপর উপজেলা পপ কর্মকর্তা ডাক্তার হুমায়ুন কবীর বলেন, মাদকাসক্তির ফলে বিভিন্ন শারীরিক, মানসিক ও সামাজিক জটিলতা সৃষ্টি হয়। শারীরিক সমস্যার মধ্যে খাদ্যে অরুচি, পুষ্টিহীনতা, শরীরের বিভিন্ন স্থানে সংক্রমণ, যকৃত, অন্ত্র, কিডনিসহ বিভিন্ন অঙ্গে ক্ষতিকর রোগ সৃষ্টি হয় যার শেষ পরিণতি মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে মাদকের কারণে। মানসিক সমস্যার মধ্যে অন্যতম হলো ব্যক্তিত্বের পরিবর্তন হওয়া। মাদকাসক্তির ফলে ব্যক্তি তার স্বাভাবিক আচরণ হারিয়ে ফেলে। স্মরণশক্তি কমে যাওয়া, খিটখিটে মেজাজ, ধৈর্যচ্যুতি ইত্যাদি নেতিবাচক আচরণ ব্যক্তির মধ্যে প্রকট হয়ে উঠে যা ক্রমাগত তাকে মানসিক রোগীতে পরিণত করে।
মদনে, মাদকের কারণে , বেশিরভাগ সামাজিক সমস্যার মধ্যে একটি হলো চুরি, ছিনতাই, সামাজিক-সহিংসতা, বিবাহ বিচ্ছেদ ইত্যাদি অন্যতম কারণ। মাদকাসক্তি কোনো দিক থেকেই ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য কোনো সুফল বয়ে আনতে পারে না, বরং সমাজকে গভীর অন্ধকারের দিকে ধাবিত করে। মাদকের ভয়াবহতা থেকে যুবসমাজকে রক্ষা করার জন্য মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত যথাযথ আইন থাকা জরুরি, যা একজনকে শাস্তি প্রয়োগ করলে অন্যজন করতে দ্বিধাবোধ করে।
এ বিষয়ে খালিয়াজুরী সার্কেল অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. রবিউল ইসলাম তিনি বলেন, মদনে বিভিন্ন জায়গায় অগোচরে মাদক সেবন হচ্ছে, পুলিশ প্রশাসন মাঠে রয়েছে। তাদেরকে গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যহতে আছে। এবং মাদক কারবারী ইতিমধ্যে অনেকেই গ্রেপ্তার হয়েছে। পুলিশ প্রশাসন মাদকের ওপর জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেছেন।
বাবু/জাহিদ