
X
দেশব্যাপী আলোচিত সাবেক সংসদ আব্দুর রহমান বদির ছোট ভাই ও টেকনাফ পৌরসভার প্যানেল মেয়র মৌলভী মুজিব শুধু নিজের এনআইডি জালিয়াতি করে থেমে যায়নি, করেছে শতাদিক রোহিঙ্গাদের ভোটার। এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য আসছে দৈনিক বাংলাদেশ বুলেটিন এর কাছে। এনআইডিতে প্যানেল মেয়রের জালিয়াতি-শিরোনামে একটি অনুসন্ধানি প্রতিবেদন ৫ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ বুলেটিনে প্রকাশ হওয়ার পর টেকনাফ উপজেলা এবং পৌরসভার একাদিক সচেতন নাগরিক, উপজেলা আওয়ামী লীগের কিছু সিনিয়র নেত্ববৃন্ধের কাছ থেকে আরো কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য মিলেছে।
যদি ও প্যানেল মেয়র মুজিব নিজে এবং জেলার সিনিয়র কয়েকজন সাংবাদিক, সরকার দলের শীর্ষ দু’একজন নেতা দিয়ে তদবির করে নিজেকে নির্দোষ প্রকাশ করার চেষ্টা করেছেন। কাউন্সিলর নির্বাচিত হওয়ার পরে লক্ষ লক্ষ টাকার বিনিময়ে একের পর এক রোহিঙ্গাদের ভোটার করার প্রতিযোগিতায় প্যানেল মেয়র মুজিব এমন অভিযোগ দে স্থানীয় সচেতন নাগরিক। মুজিবের বিরুদ্ধে এমন তথ্য ও আসছে, তার দ্বিতীয় স্ত্রী রোহিঙ্গা হওয়ার সত্বে ও টাকা এবং ক্ষমতা ব্যবহার করে তাকে বাংলাদেশী ভোটার করিয়ে দিয়েছেন।
বাংলাদেশ বুলেটিনের কাছে আসা তথ্যে দেখা যায়, শফিক নামের একজন রোহিঙ্গা দীর্ঘদিন ধরে প্যানেল মেয়র মৌলভী মুজিবুর রহমানের চাচা মোজাহার কোম্পানির সবাড়িতে থাকেন। মোঠা অংকের টাকার বিনিময়ে সেই রোহিঙ্গা শফিককেও বাংলাদেশী এনআইডি করে দিয়েছেন মুজিব। টেকনাফ উপজেলা আওয়ামী লীগের নবনির্বাচিত সভাপতি মৌলভী বশর বাংলাদেশ বুলেটিন কে জানান, প্যানেল মেয়র মৌলভী মুজিব কাউন্সিলর নির্বাচিত হওয়ার পরে লক্ষ টাকার বিনিময়ে প্রত্যায়নসহ পৌরসভার গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্ট দিয়ে রোহিঙ্গাদের ভোটার করান।
তিনি আরো জানান, মুজিবের অবৈধ টাকা এবং প্যানেল মেয়রের ক্ষমতার কারণে প্রতিবাদ করার সাহস নেই স্থানীয় পৌরবাসীসহ উপজেলার কারও। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পৌসভার এক কর্মকর্তা ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বাংলাদেশ বুলেটিনকে বলেন, পৌরসভার মেয়র ইসলাম হলে ও ক্ষমতা চলে প্যানেল মেয়র মুজিবের।
তিনি আরো বলেন, মুজিব কাউন্সিলর হওয়ার পরে রোহিঙ্গা ভোটারের অনেক অভিযোগ আমরা নিজেরাই শনেছি।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, প্যানেল মেয়র-১ মুজিবুর রহমান প্রকাশ মৌলভী মুজিব টেকনাফ পৌরসভার ৭নং ওয়ার্ডস্থ চৌধুরী পাড়ার বাসিন্দা মরহুম এজাহার মিয়ার ছেলে। মরহুম এজাহার মিয়ার স্ত্রীদের মধ্যে , প্রথম স্ত্রী মালকা বানু, মালকা বানুর মৃত্যুর পর এজাহার মিয়া মিয়ানমারের মংডু থানার সুধার পাড়ার মৌলভী মোহাম্মদ ছিদ্দিকের ২য় মেয়ে হামিদা বেগম ওরফে হামিদা খাতুনকে বিয়ে করেন। পরবর্তী সময়ে এজাহার মিয়া হ্নীলার মুছনি এলাকার রাখাইন মেয়ে লাইসু রাখাইনকে ইসলামী শরিয়া মতে বিয়ে করলে লাইসু রাখাইন ধর্মান্তরিত হলে রাখাইন নাম পরিবর্তন করে মুসলিম নাম আয়েশা খাতুন রাখা হয়। সেই থেকে আয়েশা বেগম ওরফে আয়েশা খাতুন এজাহার মিয়ার স্ত্রী। এজাহার মিয়া মৃত্যু বরণ করার পর আয়েশা বেগম ওরফে আয়েশা খাতুন মৃত্যু বরণ করেন। আয়েশা বেগম ওরফে আয়েশা খাতুন ওয়ারিশ সনদ পাওয়ার আবেদনের প্রেক্ষিতে টেকনাফ পৌরসভার মেয়র সাক্ষরিত একখানা ওয়ারিশ সনদ প্রদান করেন।
টেকনাফ পৌরসভার মেয়র প্রদত্ত আয়েশা বেগম ওরফে আয়েশা খাতুনের ওয়ারিশ সনদ মতে দেখা যায়, মরহুমা আয়েশা বেগম ওরফে আয়েশা খাতুনের ওয়ারিশ সনদে বর্ণিত তথ্যাদির সঠিকতা নিরূপণ করেন সংশ্লিষ্ট ( ৭নং) ওয়ার্ড কাউন্সিলর মুজিবুর রহমান। মরহুমা আয়েশা খাতুনের ওয়ারিশ সনদে মুজিবুর রহমান নামের কোন ওয়ারিশানের নাম উক্ত ওয়ারিশ সনদে উল্লেখ নেই। আরো জানা যায়, মিয়ানমারের মংডু থানার সুধার পাড়ার বাসিন্দা মৌলভী মোহাম্মদ ছিদ্দিকের ৩ ছেলে ৫ মেয়ে। তন্মধ্যে হামিদা বেগম মৌলভী মোহাম্মদ ছিদ্দিকের ২য় মেয়ে। বড় ছেলে জমিল হোসন বর্তমানে মিয়ানমারের মংডুর সুধার পাড়াতে বসবাস করছে এবং সলিম নামের আরেক ছেলে সৌদি আরব রয়েছে বলে জানা যায়। ছৈয়দ হোছন নামের অপর ছেলে কোথায় আছে সঠিক ভাবে জানা যায়নি।
অনুসন্ধানে আরো জানা যায়, মিয়ানমারের নাগরিক মৌলভী মোহাম্মদ ছিদ্দিকের ২য় মেয়ে হামিদা বেগমকে টেকনাফ পৌরসভার চৌধুরী পাড়ার বাসিন্দা এজাহার মিয়া প্রকাশ এজাহার কো. বিয়ে করেন। এজাহার মিয়ার মৃত্যুর পর টেকনাফ পৌরসভায় থাকে।
বাবু/জাহিদ