প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২২, ৫:০৪ পিএম (ভিজিট : ২২১)

X
বিনা নোটিশে কক্সবাজারের কলাতলীর লংবিচ এলাকায় দেড় শতাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান উচ্ছেদ করায় ৫ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ব্যবসায়ীরা। উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকার পরও বিনা নোটিশে তাদের উচ্ছেদ করায় অভিযান কারীদের বিরুদ্ধে মামলার হুমকি দিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা।
বৃহস্পতিবার (২৯ সেপ্টেম্বর) কক্সবাজার প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা এ দাবি করেছেন। একদিনও সময় না দিয়ে উচ্ছেদের কারণে তাদের ৫ কোটি টাকার ক্ষতিপূরণ দেয়ারও দাবি করেন তারা। ব্যবসায়ীদের পক্ষে লিখিত বক্তব্যে ব্যবসায়ী একরামুল হক জুয়েল বলেন, আমরা কক্সবাজার কলাতলী প্রধান সড়কস্থ হোটেল লং বীচের সামনের জমির মালিক গিয়াস উদ্দিনের কাছ থেকে ভাড়া নিয়ে শতাধিক শুটকি দোকানসহ, অন্যান্য দোকান তৈরী করে গত ৩ বছর ধরে শান্তিপূর্ণভাবে ব্যবসা করে আসছি।
কিন্তু গত ২৭ সেপ্টেম্বর বিকেল ৩টার দিকে আমাদের কোন দোকানদারকে না জানিয়ে কক্সবাজার গণপূর্ত অধিদপ্তর কর্তৃক অভিযান চালিয়ে সকল দোকান ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেয়া হয়। এমনকি দোকানের পাশে ব্যবসায়ী ও পর্যটকের জন্য তৈরী ইবাদত খানাটিও ভেঙ্গে তছনছ করে ফেলা হয়েছে। এতে আমাদের অন্তত ৩ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। এ ছাড়াও দোকান ভাঙার সময় আরও ২ কোটি টাকার মাছ, মালামাল ও নগদ টাকা লুট করেছে, দোকান ভাঙতে আসা লোকজন।
ব্যবসায়ীরা দাবি করেন, উচ্ছেদের সময় গণপূর্ত কর্তৃপক্ষের কাছে জমির মালিক কর্তৃক আদালতের বিধি নিষেধের কাগজপত্র উপস্থাপনা করা হয়। তারা যে নির্দেশনার বদৌলতে উচ্ছেদ করেছেন সেই কাগজও মিথ্যে বলে প্রতীয়মান হয়ে। কিন্তু অভিযান কারিরা কিছুই তোয়াক্কা না করে আমাদের এ বিশাল ক্ষতি করেছে। কোন প্রকার দাঙ্গা-হাঙ্গামা আমরা ব্যবসায়ীদের কাজ নয়। আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে, জমির মালিক বনাম গণপূর্তের মাঝে বিরোধ থাকতে পারে। কিন্তু কোন প্রকার নোটিশ বা মালামাল সরিয়ে নেয়ার সময় না দিয়ে অতর্কিত দোকানগৃহ উচ্ছেদ করা কতটুকু বিধি সম্মত হয়েছে? ব্যবসায়ীরা সবাই কোন না কোন ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নিয়ে ব্যবসা চালিয়েছে। হঠাৎ ভাঙনের কবলে পড়ে চোখে 'সরিষার ফুল' দেখছেন ক্ষতিগ্রস্তরা। তাই পাঁচ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ না পেলে আদালতের আশ্রয় নেব।
সংবাদ সম্মেলনে একরামুল হক জুয়েল ছাড়াও ব্যবসায়ী জাকের হোসেন, শ্যামল, বাদশা, ফজলুর করিম, মিজানুর রহমান, ফারুক আজম, মোতাহের এবং জমি মালিকানা দাবি করা গিয়াস উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন। প্রকল্প তদারক কর্মকর্তা কক্সবাজার গণপূর্ত বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী মো. আরিফুর রহমান বলেন, আদালতের যথাযথ নির্দেশনায় আমরা গণপূর্তের জমিটি জবর দখল মুক্ত করেছি। জবর দখলকারিরা আইনের চোখে অপরাধী। তাদের নোটিশ দিয়ে উচ্ছেদে যাওয়ার যুক্তিকতা নেই।
বাবু/জাহিদ