
X
কক্সবাজার জেলা কারাগারের ব্যবস্থাপনায় আমূল পরিবর্তন এসেছে। গত তিন মাসে বন্দী সাক্ষাৎ, বন্দীদের খাবারের মান, বন্দীর স্বজনদের সাথে মোবাইলে কথা বলা, বন্দীদের জামিন, চিকিৎসা, বিনোদনসহ কারাগারের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ব্যাপক পরিবর্তন হয়েছে। জামিনপ্রাপ্ত একাধিক বন্দী, বন্দীর স্বজন, দর্শনার্থীদের সাথে কথা বলে এমন তথ্য পাওয়া গেছে।
এছাড়া কারা প্রশাসনের কঠোরতায় মাদক কারবার নেই বললেই চলে। বন্ধ করা হয়েছে কারাভ্যন্তরে নগদ টাকা ব্যবহার। কারা ক্যান্টিনে নির্ধারিত মূল্য তালিকা ঝুলিয়ে পিসির মাধ্যমে ন্যায্যমূল্যে কারাক্যান্টিন থেকে মালামাল ক্রয় নিশ্চিত করা হচ্ছে। কারা ক্যান্টিনে প্রতিযোগীতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে কারারক্ষী বাছাই ও নিয়োজিত করায় শতভাগ সচ্ছতা এসেছে। খাবারের মান ও পরিমাণ নিয়মিত তদারক এবং পরীক্ষার পর বন্দীদের সরবরাহ করা হচ্ছে। বন্দীদের সিঁট বন্টন, আবাসন ব্যবস্থায় হয়রানী বা অর্থের লেনদেনও বন্ধ।
কারাগারের মান নিয়ে সন্তুষ্ট বলে জানিয়েছেন সদ্য জামিনে কারামুক্ত বেশ কয়েকজন বন্দী। তাদের মতে, কক্সবাজার জেলা কারাগারে বেড়েছে মান, বেড়েছে স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ ও কারাবন্দীদের জন্য সুদক্ষ ব্যবস্থাপনা। আদালত থেকে জামিনের পর কারাগার থেকে মুক্তি পান টেকনাফের বাসিন্দা ওমর আলী, আবু সিদ্দিক, মো. গোলামুর রহমান ও আবুল কাসেম। তারা জানান, কারাগারে গত তিন মাসে চোখে পড়ার মত পরিবর্তন এসেছে। নতুন জেল সুপার (মো. শাহ আলম খান) তদারকির কারণে কারাগারে খাবারের মানও বেড়েছে বলে দাবি তাদের।
তারা বলেন, জেল সুপার নিজে নিয়মিত খাবারের মান পরিমাণ তদারকি করে এবং প্রতিদিনের খাবারের স্বাদ নিজে পরীক্ষা করে বন্দীদের সরবরাহের ব্যবস্থা করেন। জেল সুপারের অনুপস্থিতে অধ্বঃস্তন কর্মকর্তারা খাবারের মান পরীক্ষা করে বন্দীদের বন্টন করে দেন। অধিকাংশ সময় জেল-সুপার নিজে উপস্থিত থেকে খাবার বন্টন করান। বন্দীরা কারা কর্তৃপক্ষের আন্তরিক এ সেবাই মুগ্ধ।
জেল ফেরত ওমর আলী ও আবু সিদ্দিক জানান,বন্দীদের সরকারি মোবাইল বুথে কথা বলার ক্ষেত্রে এখন ফিরে এসেছে পূর্ণ শৃঙ্খলা। প্রতিটি বন্দী পিসি কার্ডের মাধ্যমে প্রতি মিনিটে ১ টাকা ব্যয় হিসেবে সপ্তাহে ১ দিন সর্বোচ্চ ১০ মিনিট কথা বলতে পারেন। কারাভ্যন্তরে নগদ টাকার কোনো ব্যবহার নেই। ফলে সকল বন্ধী সমানভাবে মোবাইল ফোনে কথা বলার সুযোগ পাচ্ছে। কক্সবাজার কারাগারের বন্দী সদরের জিয়াউল হকের স্ত্রী রাহেলা আকতার বলেন, আমার স্বামী পাঁচমাস ধরে কারাবন্দী। মাসে একবার করে তাকে দেখতে যাই। সকাল হতে বিকাল ৩টা পর্যন্ত গরমের কারণে দর্শনার্থী ঘরে বসা যেত না। কিন্তু এ মাসে গিয়ে দেখেছি ভিন্ন চিত্র।
দর্শনার্থী ঘরে উন্নতমানের সিলিং, দর্শনার্থীদের বিনোদনে বড় টেলিভিশন ও ক্যান্টিনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। দেখার সিরিয়াল আসতে আগে বিরক্ত লাগলেও এখন রিলাক্সে অপেক্ষা করা যায়। কারাগার এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, বন্দীদের সাথে মানবিক ও ভালো আচরণ করা হয়। পাশাপাশি তাদের জামিনে খালাসে মুক্তি,প্রদানের কোনো হয়রানি নেই। প্রতিদিন জামিনপ্রাপ্ত বন্দীদের নাম কারা ফটকের সামনে এলইডি ডিসপ্লের মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হয়। বন্দীদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করণে এখন সকলে আন্তরিক। ফলে কক্সবাজার জেলা কারাগারে গত ৩ মাসে বন্দীর মৃত্যুর ঘটনা নাই এবং বন্দীদের চর্ম রোগের প্রাদুর্ভাব উল্লেখযোগ্য ভাবে কমে এসেছে যা প্রশংসার দাবি রাখে। বন্দীদের সিট বন্ঠন,আবাসন ব্যবস্থায় কোনো হয়রানি বা অর্থের লেনদেন নাই। বন্দীদের বিনোদনের জন্য ভিতরে উন্মুক্ত স্থানে এলইডি বড় মনিটরের সংযোজন করা হয়েছে যার মাধ্যমে বন্দীদের প্রতিদিন বিকালে ১ ঘন্টা করে মোটিভেশনাল প্রোগ্রাম চালু রয়েছে, এবং বন্দীদের বিনোদনের জন্য নাটক, গান, ইত্যাদি পরিবেশন করা হয়।
পাশাপাশি কর্মকর্তা-কর্মচারী ও বন্দীদের সকল কাজে নিশ্চিত করা হচ্ছে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, ও সুশাসন। এর ফলে কক্সবাজার জেলা কারাগারের বর্তমান কার্যক্রম প্রশংসিত হচ্ছে সকল মহলে। অভিযোগে প্রকাশ, কারা কর্তৃপক্ষ সুশাসন নিশ্চিত করতে গিয়ে অপরাধে জড়িত কর্মচারীদের বিধি মতে, আইনের আওতায় নিয়ে আসে শাস্তি প্রদানের কারণে কতিপয় অসাধু কর্মচারী উদ্দেশ্য মূলক ভাবে কারো প্ররোচনায় পড়ে কারা প্রশাসনের বিরুদ্ধে মিথ্যা বানোয়াট তথ্য ছড়াচ্ছে। এদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নিলে কক্সবাজার জেলা কারাগারের চলামান সুন্দর কারা এ ব্যবস্থা ধরে রাখা কঠিন হবে বলে মনে করেন সচেতন মহল।
কক্সবাজার জেলা কারাগারের সুপার মো.শাহ আলম খান বলেন, কারাগারে বিশৃঙ্খলা নিয়ে সমালোচনা ছিলো সেহেতু আমি যোগদানের পর প্রথমে নজর দিয়েছি শৃংখলা ফেরানোর কাজে। বন্দীদের স্বজনের দেখা সাক্ষাতে স্বচ্ছতা নিশ্চিত ও দর্শণার্থীদের সাথে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভাল ব্যবহার নিশ্চিত তদারক করা হচ্ছে। বন্দীদের বিনোদনে ভিতরে উন্মুক্ত স্থানে এলইডি বড় মনিটর সংযোজন করে নাটক, গান ইত্যাদি পরিবেশন করা হয়। সেখানে প্রতিদিন বিকালে ১ ঘন্টা করে মোটিভেশনাল প্রোগ্রাম চালু রয়েছে। কর্মকর্তা-কর্মচারী ও বন্দীদের সকল কাজে নিশ্চিত করা হচ্ছে স্বচ্চতা, জবাবদিহিতা ও সুশাসন।
বাবু/জাহিদ