প্রকাশ: সোমবার, ৩ অক্টোবর, ২০২২, ৩:৫৬ পিএম আপডেট: ০৩.১০.২০২২ ৪:০৪ পিএম (ভিজিট : ২৬০)

X
পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া স্বাস্থ্যসেবায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছে ভাসমান হাসপাতাল ইম্প্যাক্ট জীবন তরী। গত সেপ্টেম্বর মাসের ১ তারিখ থেকে জেলার ভাণ্ডারিয়া থানা লাগোয়া কচাঁ নদীর শাখা পোনা নদীতে হাসপাতালটি নোঙ্গর করে ভাসমান হাসপাতাল ইমপ্যাক্ট জীবন তরী। উপজেলা পর্যায়ে স্বল্প খরচে প্রতীবন্ধী রোগীসহ নানা রোগের চিকিৎসা সেবা দিতে উপস্থিত ইম্প্যাক্ট জীবনতরী’ ভাসমান হাসপাতাল রোগীদের দুয়ারে যেন একটি আশীর্বাদ স্বরূপ।
সরেজমিনে দেখা যায়, সেবা নিতে আসা রোগীদের দীর্ঘ লাইন। প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত সেবা নিতে আসা রোগীদের বসার জন্য হাসপাতালের পক্ষ থেকে নদীর পাড়ে ভাসমান অস্থায়ী ব্যবস্থা করা হয়েছে। রয়েছে টিকিট কাউন্টার। কাউন্টারে ৫০ টাকা দিয়ে টিকেট কেটে সিরিয়াল করে রোগী দেখা হয়। সেবা নিতে আসা রোগীদের মধ্যে নারী রোগীর সংখ্যাই বেশি। চক্ষুসেবা সেবা নিতে আসা রোগী বিল্লাল হোসেন (২৮), সাইয়ো বেগম (৩৮) জানান, এখানকার ডাক্তার ও নার্সরা খুবই কর্তব্যপরায়ন। আমাদের ভাল করে চোখ পরীক্ষা করে ব্যবস্থাপত্র ঔষধ দিয়েছে। হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. মো. মনিরুল ইসলাম জানান, সেবা নিতে আসা রোগীদের সর্বাত্মক যত্নসহকারে সেবা প্রদানের চেষ্টা করছি।
আমাদের এখানে ৪ জন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার, ৪ জন বিশেষজ্ঞ নার্স এবং টেকনোলজিস্টসহ ৩৫ জনের একটি টিম সার্বক্ষনিক কাজ করে থাকেন। স্থানীয় সমাজসেবক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. নিজামুল হক নান্না জানান, এই ভাসমান হাসপাতালটি এখানে আসায় তৃণমূল পর্যায়ের কম আয়ের মানুষের বিশেষ উপকার হয়েছে। প্রতিদিনই প্রচুর লোক বিভিন্ন ধরনের সেবা নিতে এখানে আসেন। তবে হাসপাতালের ডাক্তার বা নার্স ছাড়াও যারা সেবা প্রদানে নিয়োজিত তাদের বিরুদ্ধে কোন ধরনের অভিযোগ পাওয়া যায়নি।
হাসপাতালের প্রশাসক আলাউদ্দিন জানান, ১ অক্টোবর তাদের সেবা প্রদানের ১ মাস পূর্ণ হল। এই এক মাসে চোখের সানি অপারেশন করা হয়েছে ৩৫ জনের, চোখের পরীক্ষা করা হয়েছে ৪৭৪ জনের এবং চোখের অন্যান্য সমস্যায় ২ হাজার ১০৫ জন রোগীর সেবা প্রদান করা হয়েছে। এ ছাড়া নাক, কান, গলা বিষয়ে ৭৬৫ জন, অর্থপেডিক বিষয়ে ৭৯৫ জনসহ গত ১ মাসে মোট ৩ হাজার ৬৬৫ জন রোগীকে সেবা প্রদান করা হয়। তিনি আরও জানান, এখানে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দ্বারা সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলে রোগী দেখার পালা। বিষেশ করে প্রতীবন্ধী রোগীর বাইরে অবস্থা ভেদে নাক, কান, গলা অপারেশন, হাড় ভাঙা,কানের ছিদ্র জোড়া লাগানো, ক্লাব ফুট (মুগুর পা), চোখের ছানি অপারেশন, এবং ঠোঁট কাটা রোগীদের ভাসমান হাসপাতালে ভর্তি করে স্বল্পমূল্যে টেস্টের পরে রির্পোট অনুযায়ী কিছু ফ্রি ওষুধসহ ব্যবস্থাপত্র দেওয়া হয়
সূত্রমতে, ১৯৯৯ সালে দেশের নদী অববাহিকা এলাকার দরিদ্র, অতিদরিদ্র রোগীদের স্বল্মমূল্যে বেসা প্রদানের লক্ষ্যে চালু করা হয় ‘ইম্প্যাক্ট জীবনতরী’। সে থেকে এ পর্যন্ত ৫৪টি স্পটে এ জীবনতরী ভাসমান হাসপাতাল অগনিত মানুষের সেবা প্রদান করে আসছে। ২০০৪ সালে এই ভাণ্ডারিয়াও তাঁরা সেবা প্রদান করে গেছেন। দীর্ঘ ১৮ বছর পর পুন:রায় ভাণ্ডারিয়াসহ পার্শবর্তী উপজেলার মানুষের সেবা প্রদানের জন্য ৩০ আগষ্ট মঙ্গলবার এখানে নোঙ্গর করেছেন। হাসপাতালে জটিল রোগী আনা নেওয়ার জন্য নদী পথে স্পীড বোট ও সড়ক পথে এ্যাম্বুলেন্স সার্বক্ষনিক প্রস্তুত রাখা হয়। এ উপজেলা ছাড়াও পাশ্ববর্তী কাছাকাছি উপজেলা অঞ্চলের মানুষের আহ্বানে তাঁরা রোগীদের দুয়ারে চিকিৎসা দিতে আসছেন।
বাবু/জাহিদ