প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ৬ অক্টোবর, ২০২২, ৪:১৯ পিএম আপডেট: ০৬.১০.২০২২ ৮:১৪ পিএম (ভিজিট : ৩৭৪)

X
কক্সবাজারের টেকনাফে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সোর্স পরিচয়ে মাদক কারবার ও চাঁদাবাজি চালিয়ে যাচ্ছে আব্দুল্লাহ নামের কথিত এক দালাল। এছাড়া তার বিরুদ্ধে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর ভয় দেখিয়ে নিরীহ মানুষের নিকট থেকে মোটা অংকের চাঁদা আদায়ের অভিযোগে রয়েছে। বর্তমানে উপজেলার হ্নীলা ইউপির হোয়াব্রাং, সাইট পাড়া, মৌলভী বাজার, মরিচ্যা ঘোনা, খারাংখালীসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় তার আধিপত্য চলছে।
জানা যায়, উপজেলার হ্নীলা ইউপির মৌলভীবাজার এলাকার মোহাম্মদ হোছন প্রকাশ বাড়ুর পুত্র আব্দুল্লাহ নামের কথিত এক সোর্স অস্ত্রধারী গ্যাং এর মাধ্যমে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় জমজমাটভাবে মাদক কারবার চালিয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি ওইসব অস্ত্রধারীদের ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের মাছের ঘের দখলে নিয়ে লুটেপুটে খাচ্ছে। তার নির্যাতনের ভয়ে মাছের ঘেরের মালিকরা মুখ খুলতেও সাহস করছে না। এভাবেই এলাকায় রামরাজত্ব চালিয়ে যাচ্ছে কথিত সোর্স আব্দুল্লাহ।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হোয়াব্রাং ও মৌলভীবাজারের কয়েকজন ব্যক্তি বলেন, আব্দুল্লাহর নিকট স্থানীয়রা জিম্মি। তার নির্দেশনার বাহিরে গেলেই শুরু করে নির্যাতন। বিশেষ করে বিজিবির সোর্স পরিচয়ে স্থানীয়দের নিকট চাঁদা দাবি এবং চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে বিজিবির মাধ্যমে মাদক মামলাসহ বিভিন্ন মামলায় আটক করবে বলে হুমকি দেয় বলে জানান অনেকে। এইদিকে কথিত সোর্স আব্দুল্লাহর হুমকির একটি ফোনরেকর্ড সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ফোনরেকর্ডে তাকে বলতে শুনা যায়, "স্থানীয় দুইজন ব্যক্তিকে ১০টি করে মামলা দেয়া হবে। তারা যদি কোথাও পালিয়ে যায়, এইক্ষেত্রেও তার মামলা দিতে কোনো অসুবিধা হবে না"।
অথচ অনুসন্ধানে জানা যায়, কথিত সোর্স আব্দুল্লাহর বিরুদ্ধে টেকনাফ মডেল থানায় (এফআইআর নং-১৪/২০০৭ এবং ০৫-৩৪৫) দুটি মাদক মামলা রয়েছে। এছাড়া আরও কয়েকটি মাদক মামলাসহ তার বিরুদ্ধে ডজন খানেক মামলা রয়েছে বলে জানা গেছে। এতসব অপকর্মের পরেও কিভাবে সে অধরা থাকে এমন প্রশ্ন স্থানীয়দের? এইদিকে তার রাম-রাজত্বের বিরুদ্ধে খোদ ইউপি সদস্যরাও সরাসরি মুখ খুলতে ভয় পায়। একপর্যায়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক ইউপি সদস্য বলেন, আব্দুল্লাহ সন্ত্রাসী ও বেপরোয়া লোক। তার বিরুদ্ধে মুখ খোলার সুযোগ নেই। তার বিরুদ্ধে অবস্থান করলে নানা ঝামেলা পোহাতে হয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে আব্দুল্লাহ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, "ষড়যন্ত্রমূলক আমাকে ইয়াবা দিয়ে ফাঁসিয়ে একাধিকবার জেলে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে আমি ৭টি মামলায় জামিনে রয়েছি"। সোর্স পরিচয় দেওয়ার অভিযোগে তিনি বলেন, "আমি কাউকে সোর্স পরিচয়ে হুমকি ধমকি দিই নাই। তাছাড়া আমার কোন অস্ত্রধারী বাহিনী নেই"। টেকনাফ বিজিবি-২ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্ণেল শেখ খালিদ মোহাম্মদ ইফতেখার বলেন, আবদুল্লাহ নামের আমাদের কোন সোর্স নাই। কেউ যদি আমাদের নাম ভাঙায় তাহলে খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
কক্সবাজার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, তার বিষয়ে খোঁজ খবর নিয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে। এবং তার অবস্থানের তথ্য দিয়ে স্থানীয়দের পুলিশকে সহযোগিতা করার অনুরোধ করেন তিনি।
বাবু/জাহিদ