প্রকাশ: সোমবার, ১০ অক্টোবর, ২০২২, ৫:২৪ পিএম (ভিজিট : ২০১)

X
পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার ১১ জেলে প্রায় দুই মাস ধরে ভারতে আটকা পড়েছেন। তাদের দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে কোনো উদ্যোগ না নেওয়ায় ওইসব জেলের পরিবারের স্বজনরা উদ্বেগ আর উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। গত ১৯ আগস্ট বঙ্গোপসাগরে ঝড়ের কবলে পড়ে ট্রলারডুবি হলে এসব জেলে ভাসতে ভাসতে ভারতের মোল্লাখালী কোস্টাল থানার তালপট্রি জঙ্গলে আটকা পড়েন।
জানা গেছে, গত ১৫ আগস্ট নাজিরপুর ইউনিয়নের বাবুল ব্যাপারী তার মাছ ধরার ট্রলারে করে একই ইউনিয়নের ছোট ডালিমা গ্রামের জসিম হাওলাদার, চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের সুমন ব্যাপারী, সোহরাব মাঝি, জসিম বয়াতি, আবুল মাতুব্বর, ডিয়ারকচুয়া গ্রামের ফিরোজ খলিফা, কায়েস হাওলাদার, কামাল সরদার, রায়সাহেব গ্রামের সবুজ ব্যাপারী, লালমোহন উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের মোতাহার হোসেন ও মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার শ্রীপুর গ্রামের করিম হোসেনসহ মোট ১২ জন জেলেকে নিয়ে বঙ্গোপসাগরের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। ১৯ আগস্ট ১১টার দিকে ঝড়ের কবলে পড়লে তাদের ট্রলারটি ডুবে যায়।
ভারতের চব্বিশ পরগনা থেকে ট্রলার মালিক বাবুল ব্যাপারী হোয়াটসঅ্যাপে জানান, বঙ্গোপসাগরে ট্রলারডুবির পর তারা বাঁশ ও প্লাস্টিকের পট ধরে ভাসতে ভাসতে তালপট্রি জঙ্গলে এসে আটকা পড়েন। পরের দিন ওই জঙ্গলের পাশ দিয়ে একটি ট্রলার যাওয়ার সময় তারা ডাক চিৎকার করলে ট্রলারের মাঝি তাদেরকে উদ্ধার করে চব্বিশ পরগনার জীবনতলা থানার মৌখালি গ্রামে নিয়ে যান। এরপর ট্রলারের মাঝি জোনাব মোল্লা তাদের স্থানীয় একটি হাসপাতালে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন।
খবর পেয়ে পুলিশ তাদের থানায় নিয়ে যায়। পরে পুলিশ তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করে ট্রলারের মাঝি জোনাব মোল্লার জিম্মায় দেন। সেই থেকে তারা জোনাব মোল্লার বাড়িতে অবস্থান করছেন। তাদের সঙ্গে থাকা জসিম হাওলাদার নামের একজনকে খুঁজে পাওয়া যায়নি। এদিকে ঘটনার পর প্রায় দুই মাস অতিবাহিত হলে ভারতে আটকা পড়া জেলেদের দেশে ফিরিয়ে আনার কোনো উদ্যোগ না নেওয়ায় তাদের পরিবারের সদস্যরা উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।
এ ব্যাপারে পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, ভারতে আটকা পড়া জেলেদের দ্রুত সময়ের মধ্যে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরে কাগজপত্র পাঠানো হয়েছে।
বাবু/জাহিদ