রাজশাহী আঞ্চলিক শিক্ষা অফিসের এমপিও নিয়ে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ

রাজশাহী ব্যুরো

সারাবাংলা

নাটোরের গোপালপুর ডিগ্রি কলেজের ডিগ্রি পর্যায়ের কামরুন্নাহারের এমপিও নিয়ে তুলকালাম শুরু হয়েছে রাজশাহী অঞ্চলজুড়ে। গত সেপ্টেম্বরে তিনি এমপিওভুক্ত

2022-10-12T00:39:43+00:00
2022-10-12T00:44:54+00:00
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬ ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার ৯ আগস্ট ২০২৬
   
রাজশাহী আঞ্চলিক শিক্ষা অফিসের এমপিও নিয়ে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ
রাজশাহী ব্যুরো
প্রকাশ: বুধবার, ১২ অক্টোবর, ২০২২, ১২:৩৯ এএম  আপডেট: ১২.১০.২০২২ ১২:৪৪ এএম  (ভিজিট : ৪২৮)
X

নাটোরের গোপালপুর ডিগ্রি কলেজের ডিগ্রি পর্যায়ের কামরুন্নাহারের এমপিও নিয়ে তুলকালাম শুরু হয়েছে রাজশাহী অঞ্চলজুড়ে। গত সেপ্টেম্বরে তিনি এমপিওভুক্ত হয়েছেন।

গত জুনে এমপিও আবেদন করলেও নিবন্ধন সনদ জটিলতায় ওই সময় আবেদন বাতিল করেন মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা দপ্তরের আঞ্চলিক পরিচালক।মাউশির নির্দেশনা মেনে পরের দফা ফের আবেদন করেন তিনি। এরপর এমপিও পেতে শুরু হয় জোর তদবির। ওই সময় কামরুন্নাহারের মামা মকবুল হোসেন আঞ্চলিক শিক্ষা দপ্তরের সহকারী পরিচালক মাহবুবুর রহমান শাহর সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করেন।

কথোপকথনের সেই রেকর্ড ছড়িয়ে পড়েছে। তাতে উপপরিচালককে বলতে শোনা যায় ‘আমি তো ওই ফাইল ছেড়ে দিবো। কিন্তু আপনি তো পরিচালক-সহকারী পরিচালক সম্পর্কে জানেন সবি। তারা এমনি এমনি কাজ করতে চান না। এইটা মূল সমস্যা। এ জন্য আপনাকে সেক্রিফাইস করতে হবে। ওটা করলেই কাজটা হয়ে যাবে।’মকবুল হোসেনও পেশায় কলেজ শিক্ষক। তিনি নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার পাঁকা মহাবিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক। কথোপকথন ছড়িয়ে পড়ার বিষয়ে নিরুত্তর তিনি। তিনি দাবি করেন, এই কথোপকথন তার রেকর্ড করা নয়।

মকবুল হোসেন বলেন, গত জুন মাসে তার ভাগ্নি এমপিওভুক্তর আবেদন করেন। কিন্তু সেই আবেদন দীর্ঘদিন ধরে ঝুলে ছিল। অনলাইনে তিনি দেখতে পান সেটি উপপরিচালক মাহাবুবুর রহমান শাহর কাছে আছে। পরে তার সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করেন। ফাইল ছেড়ে দিতে তিনি অর্থ দাবি করেননি বলেও স্বীকার করেন এই শিক্ষক। যে শিক্ষককের এমপিও নিয়ে এই তুলকালাম হয়েছে সেই শিক্ষক কামরুন্নাহারের সাথেও কথা হয়েছে। কামরুন্নাহার জানান, কলেজ শিক্ষক মকবুল হোসেন তার মায়ের ‘কাজিন’। সেই হিসেবে তাকে এমপিওর বিষয়টি দেখভাল করতে বলা হয়েছিল। তার এমপিও পেতে কোনো অর্থ খরচ করতে হয়নি।

তিনি দাবি করেন, তার এনটিআরসিএ নিবন্ধন ২০০৬ সালে। এমপিও আবেদনের পর আঞ্চলিক শিক্ষা দপ্তর জানিয়েছিল তারা সনদ অনলাইনে পাচ্ছেনা। কারণ ওই সময় এনটিআরসিএর অনলাইন ডাটাবেজে এই তথ্য ছিলোনা। পরে বিষয়টি রিভিউ করে নিস্পত্তি হয়েছে। এই সমস্যা শুধু তার একার নয়, আরো অনেকেরই ছিল।গোপালপুর ডিগ্রী কলেজের ভারপ্রাাপ্ত অধ্যক্ষ নূরুন্নবী বলেন, কামরুন্নাহারসহ তারা ডিগ্রি পর্যায়ের সাতজন শিক্ষকের এমপিওভুক্তর আবেদন করেছিলেন। কিন্তু কামরুন্নাহারসহ দুজনের এমপিও আবেদন প্রত্যাখ্যান হয়।কারণ দেখানো হয়, তাদের এনটিআরসিএর নিবন্ধন সনদ সঠিক নয়। এটি যাচাইয়ের দায়িত্ব নেয়া হয় অধ্যক্ষকেই। সেই হিসেবে তিনি নিজেই এনটিআরসিএ থেকে দুজনের সনদ যাচাই করে আনেন।

পরে একসঙ্গে তাদের এমপিও আবেদন হয়। ওই সময় একজনের আবেদন নিস্পত্তি হলেও ঝুলে ছিলো কামরুন্নাহারের আবেদন। সর্বশেষ এমপিওতে সেই আবেদনও নিস্পত্তি হয়েছে। এমপিও ভুক্তিতে অর্থ লেনদেনের বিষয়ে জানতে চাইলে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ দাবি করেন, বিধি মেনে তারা অনলাইনে আবেদন করেছিলেন। এরপর শিক্ষকরা নিজেদেরমত যোগাযোগ করে এমপিওভুক্ত হয়েছেন। তার কাছে অর্থ লেনদেনের বিষয়ে কোনো তথ্য নেই।

অভিযোগ বিষয়ে জানতে চাইলে উপপরিচালক প্রফেসর মাহবুবুর রহমান শাহ বলেন, পরিচালক ও সহকারী পরিচালককে ফোনে না পেয়ে তাকে প্রতিদিনই অসংখ্য শিক্ষক ফোন দেন। তিনি নিজের জায়গা থেকে শিক্ষকদের হাসিমুখে সেবা দেয়ার চেষ্টা করেন।

তিনি বলেন, এমপিও আবেদন নিস্পত্তি করার ক্ষমতা তার নেই। ফলে এমপিও পাইয়ে দিতে অর্থ দাবির বিষয়টি একেবারেই ভিত্তিহীন। আর ফাইল আটকে রাখার বিষয়ে তিনি বলেন, এমপিও শেষে সহকারী পরিচালক, উপপরিচালক এবং পরিচালকের কাছে কিছু ফাইল আটকে থাকে। সময় সল্পতার কারণে এটি হয়। পর্যায়ক্রমে এসব আবেদন নিস্পত্তি করেন তারা। ওই শিক্ষকের আবেদনও এর মধ্যে থাকতে পারে।

উপপরিচালক অভিযোগ করেন, সম্প্রতি দুই দফা পরিচালক প্রফেসর ড. কামাল হোসেন এবং সহকারী পরিচালক ড. আবু রেজা আজাদের বিরুদ্ধে অনিয়মের তদন্ত হয়েছে। তারা শাস্তির মুখে পড়েছেন। এই পস্থিতিতে আমার নামে অপপ্রচার চালাচ্ছেন তারা।

তবে উপপরিচালকের বিরুদ্ধে অপপ্রচারের অভিযোগ বিষয়ে জানতে কয়েক দফা চেষ্টা করেও পরিচালক প্রফেসর ড. কামাল হোসেন ও সহকারী পরিচালক ড. আবু রেজা আজাদের মোবাইলে একাধিকবার ফোন দিলেও রিসিভ করেন নাই। ফলে তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

বাবু/এসআর





Loading...
Loading...


সারাবাংলা এর আরও খবর
সম্পাদক ও প্রকাশক:
আবুল হাসান মো: আল ফারুক
ঠিকানা: ৯/এফ, এইচআরসি ভবন, ৪৬, কাওরান বাজার বা/এ, ঢাকা- ১২১৫।
নিউজ- 01841042597, বিজ্ঞাপন- 01841011947, 01841042595, সার্কুলেশন- 01841042599, ই-মেইল : [email protected]
কপিরাইট © বাংলাদেশ বুলেটিন সর্বসত্ত্ব সংরক্ষিত
 About Us    Contact Us    Privacy Policy    Terms & Conditions    Editorial Policy    Correction Policy