
X
তত্ত্বাবধায়ক সরকার ছাড়া দেশে কোন নির্বাচন হবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি'র মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
বুধবার (১১ অক্টোবর) নগরীর পলোগ্রাউন্ড মাঠে বিএনপি আয়োজিত চট্টগ্রাম বিভাগীয় গণ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
এসময় তিনি বলেন, আজকে চাল, ডাল, সবজি, তেল, মাংস থেকে শুরু করে নিত্যপ্রয়োজনীয় সব দ্রব্যের দাম ৩ গুণ বেড়ে গেছে। এখন আবার শুনছি বিদ্যুৎের দামও নাকি বাড়াবে। এ সরকার গ্যাসের দাম বাড়িয়েছে, পানির দাম বাড়িয়েছে। ১০ টাকায় চাল খাওয়াবে বলেছে। আজকে চালের উচ্চ মূল্য। তারা কেন এতো দাম বাড়ায়? কারণ তারা লুটপাট করে। লুটপাট করে কানাডার বেগম পাড়ায় বাড়ি বানায়, মালেশিয়ায় সেকেন্ড হোম করে। সরকার খুব বড় বড় কথা বলে। উন্নয়ন উন্নয়ন বলে গলা ফাটায়। আজকে বাংলাদেশে কোন নিরাপত্তা নেই। আমাদের মা-বোনদের ইজ্জতের নিরাপত্তা নেই। বাংলাদশের র্যাবকে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। আমি বলব র্যাবকে নিষেধাজ্ঞা দিলে হবেনা৷ সরকারকে নিষেধাজ্ঞা দিতে হবে। আজকে জাতিসংঘ পরিস্কার করে বলেছেন যে এখানে গুম হয়। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কয়েকদিন আগে ৭৪ পৃষ্ঠার রিপোর্টে বলেছেন যে এখানে মানবাধিকার নেই, গুম হয়, খুন হয়, গণতন্ত্র নেই। শেখ হাসিনা যে সাজাগুলো দিয়েছেন সেগুলো সম্পূর্ণ রাজনৈতিক সাজা। এ সরকার তারেক রহমানকে মিথ্যা মামলা দিয়ে সাজা দিয়েছে।
আজকেও এ গণ সমাবেশে আসার পথে সরকার আপনাদের অনেকের গাড়ি ভেঙে দিয়েছে, আটকে দিয়েছে। কিন্তু তবুও আমাদের নেতাকর্মীদের দমাতে পারেনি। কারণ আপনারা চট্টগ্রামের মানুষ হচ্ছেন দরিয়া পাড়ের মানুষ। সহজে ভয় পান না আপনারা। সারাদেশে আজ চট্টগ্রামের এ স্ফুলিঙ্গ ছড়িয়ে পড়েছে।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আরও বলেন, আজকে সরকার বলছে নির্বাচন করবে। তারা ইলেকশন কমিশন করেছে। কিসের ইলেকশন কমিশন? তাদেরকেতো ডিসি-এসপিও মানেনা। তাদের কথা শুনে না। ডিসি-এসপিরা বলছে আমরা শেখ হাসিনার কথা শুনব।
সেই তাদেরকে নিয়ে আপনি নির্বাচন করবেন? দেশের মানুষ সে নির্বাচন হতে দিবে না। তাই আজকে আমরা আন্দোলন শুরু করেছি। আমাদের আন্দোলনের মূল নেত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। শেষবার যখন খালেদা জিয়া চট্টগ্রামের পলোগ্রাউন্ড মাঠে এসেছিল। সেদিন তার সঙ্গে আমিও ছিলাম। বিশাল জনসমাবেশ, জনসমুদ্র। মানুষ তাকে সেদিন স্বাগত জানিয়েছিল।
সরকার বলছে খালেদা জিয়াকে নাকি আবারও জেলে পাঠাবে। আমি বলব দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া কখনো জেলের ভয় পান না। জেলের ভয় দেখিয়ে কোন লাভ হবেনা। এই চট্টগ্রামের মানুষ বিএনপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব আসলাম চৌধুরী দীর্ঘ ৬ বছর ধরে জেলে আছেন। কোনো আইনে এটি পড়ে না। যেই মামলায় তাকে জেলে রেখেছে সরকার। সেই মামলায় জামিন দিতে বাধ্য। তারা জামিন দিচ্ছে না।
আজকে সরকার সবকিছুকে দলীয়করণ করেছে। পুলিশ থেকে শুরু করে সবকিছুতেই দলীয়করণ হয়েছে। এমনকি মিডিয়ার মালিকরাও আজ দলীয়করণ হয়ে গেছে। সরকার দল আওয়ামী লীগের ছাত্রলীগের সোনার ছেলেরা বিশ্ববিদ্যালয়ে অশান্তি সৃষ্টি করছে। ছাত্রলীগের ছেলেরা শুধু দখল করে, চাঁদাবাজি করে। জনগণের পকেট কেটে বিদেশে পাঠিয়ে দেয়।
আজকে আমাদের একমাত্র লক্ষ্য হচ্ছে শেখ হাসিনাকে হঠাতে হবে। তার ক্ষমতায় থাকার কোন অধিকার নেই। এ সরকার বাংলাদেশের সকল অর্থনীতিকে ধ্বংস করেছে। আমি বলেছি যে তাকে পদত্যাগ করতে হবে। পার্লামেন্ট ভেঙে দিতে হবে। নিরপেক্ষ নির্বাচনে ভোট দিতে হবে। দেশের জনগনণ ভোট দিবে। সরকার নির্বাচিত করবে।
আমরা ক্ষমতায় গেলে নিত্যদ্রব্যমূল্যের দাম কমিয়ে আনব, লেখাপড়া করা ছেলেদের চাকরী দিব। এরা বলেছিল ঘরে ঘরে চাকরী দিবে। কিন্তু ১০-২০ লাখ টাকা ছাড়া পিয়নের চাকরীও দেয়না।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর আরও বলেন, আজকে এমন একটি জায়গা থেকে আমরা কথা বলছি যার অদূরে কালুরঘাট। সেই কালুরঘাট থেকে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। সেই চট্টগ্রামের পলোগ্রাউন্ড মাঠ থেকে ফ্যাসিবাদী এ সরকারের পতন আন্দোলন শুরু হয়েছে।
আজকে সমাবেশের দুইদিকে পোস্টারে কয়েকজনের ছবি টাঙানো আছে। তারা হচ্ছেন, স্বেচ্ছাসেবক দলের আব্দুর রহীম, ভোলার ছাত্রদল নেতা নুরে আলম, নারায়ণগঞ্জের যুবদল নেতা শাওন। আজকে যারা রক্ত দিয়েছে, প্রাণ দিয়েছে তারা একেবারে সাধারণ মানুষ। একজন গাড়ি চালায়, একজন দিনমজুর, আরেকজন খেটে খাওয়া। এরা সাধারণ মানুষ। এদের কেউ বিত্তবান নয়। কিন্তুু তারা গুলির সামনে বুক পেতে দিয়েছে। কয়েকদিন আগে শাওনের বাবা আমাদের গুলশান কার্যালয়ে এসেছিল। সেদিন তিনি বলেছেন আমরা কিচ্ছু চায়না। যারা শাওনকে হত্যা করেছে তাদের শাস্তি চায়, আর গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার চায়। আজকে এ লড়াই খুব কঠিন লড়াই। আমাদের কোন বিকল্প নেই। আমরা হয় বাঁচব না হয় মরে যাব। আমরা এখানে একটি কলোনী হয়ে দাঁড়িয়ে থাকতে হবে। এটি শুধু বিএনপির প্রশ্ন নয়, সাধারণ মানুষের প্রশ্ন। ২০১৪ সালে আওয়ামী লীগ ১৫৪ জনকে বিনা প্রতিন্ধন্দ্বিতায় এমপি বানিয়ে সরকার গঠন করেছে। আর ২০১৮ সালে রাতের আঁধারে ভোট কারচুপি করে ক্ষমতায় এসেছে। এ সরকারকে পঠন ঘটাতে হবে। এটিই এখন একমাত্র লক্ষ্য।
গণ সমাবেশে বিএনপি'র চট্টগ্রাম মহানগরীর আহব্বায়ক ডাঃ শাহাদাৎ হোসেন এর সভাপতিত্বে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপি নির্বাহী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, সাবেক চসিক মেয়র বিএনপি নেতা মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দীন, নির্বাহী কমিটির সদস্য মীর হেলাল, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবুর রহমান শামীম, শামা ওবায়েদ, শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, বিএনপি নেতা ইসরাক হোসেন, সালাউদ্দিন মাহমুদ টুকু, হুম্মাম কাদের চৌধুরী প্রমুখ।
-বাবু/এ.এস