প্রকাশ: শনিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২২, ৫:৩৫ পিএম (ভিজিট : ২৪৬)

X
উপকূলীয় মৎস্যঘাটে নোঙর করা সাঁড়ি সাঁড়ি ট্রলার। নেই জেলেদের কোলাহল। পাইকারদের হাঁক-ডাকে জমজমাট মাছঘাট এখন নিরব। অলস সময় পাড় করছে মৎস্যনির্ভর জেলেরা। অপরদিকে ইলিশ ধরা বন্ধের নবম দিন পেরিয়ে গেলেও নিষেধাজ্ঞায় বিরত জেলেদের খাদ্যসহায়তার চাল দেয়া হয়নি। ফলে পরিবার-পরিজন নিয়ে দিনযাপনে কষ্ট হচ্ছে জেলে সংশ্লিষ্টদের। এ চিত্র পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার মৎস্যঘাট ঘুরে দেখা গেছে।
জানা গেছে, ৭ থেকে ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে ইলিশের প্রজনন মৌসুম। এ সময়ে মা ইলিশ সাগর থেকে নদীতে ডিম ছাড়ার জন্য ছুঁটে আসে। ইলিশে প্রজনন রক্ষায় নদী সাগর মোহনায় যৌথ অভিযান পরিচালনা করছে মৎস্য বিভাগ। সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, এবছর মাছ ধরে যে সকল মহজনরা লোকসানে রয়েছে তাদের জেলে ট্রলার অযত্ন-অবহেলায় ঘাটে পড়ে আছে। আর যারা লভবান হয়েছে তারা মেরামত শেষে নিরাপদ স্থানে রেখেছে। কেউ কেউ ডকইয়ার্ডে ট্রলার মেরামত করছে। অনেক জেলে জাল-সুতা মেরামত কাছে ব্যস্ত সময় পার করছে।
উপজেলা মৎস্য বিভাগ জানায়, মা ইলিশ শিকারে ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞায় বিরত থাকা জেলেদের জন্য মানবিক সহায়তা চাল বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। নিবন্ধিত কার্ডধারী প্রত্যেক জেলে ২৫ কেজি করে চাল পাবে। এ উপজেলায় নিবন্ধিত জেলে রয়েছে ১২ হাজার ৮২০। এরমধ্যে ১১ হাজার জেলে নামে চাল বরাদ্দ এসেছে। এছাড়াও অনিবন্ধিত প্রায় ৮ হাজার জেলে রয়েছে।
জেলেরা বলছেন, ‘সরকার যা বলে জেলেরা তাই করে। কিন্তু জেলেদের দুঃখ দুর্দশা কেউ দেখে না। ঋণ এবং স্থানীয় সুদী মহজনদের টাকা চাপে ঘুমহীন রাত কাটাতে হচ্ছে। এ বছর মৌসুমের শেষের দিকে আশানুরূপ মাছ ধরা পড়েছে। এরমধ্যেই নিষেধাজ্ঞা শুরু হয়। যা মাছ ধরেছি তা দিয়ে স্টাফদের (জেলে) বেতন ও ট্রলার খরচ হয়েছে। ঋণ পরিশোধ করতে পারিনি। আর কিছুদিন মাছ ধরতে পারলে ঋণ মিটিয়ে লাভবান হতাম। এখন অনেক জেলে কর্মহীন হয়ে ঘরে বসে রয়েছে।
কোড়ালিয়া মৎস্য ব্যবসায়ী জহির হাওলাদার বলেন, মৌসুমের প্রথম দিকে আশানুরূপ মাছ ধরা না পড়ায় জেলেরা বিপাকে ছিল। শেষাংশে যে মাছ ধরা পড়ে এতে কিছু জেলে মহজনরা লাভের মুখ দেখেছে। এছাড়া অনেকে খেয়ে পড়ে সমানসমান রয়েছে। জেলেদের জন্য সরকার ঋণের ব্যবস্থা করে দিলে স্থানীয় সুদী মহজনদের দৌরাত্ম কমবে। এক্ষেত্রে জেলেরা হয়রানির শিকার হবে না।
এ ব্যাপারে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. আনোয়ারুল হক বাবুল বলেন, ‘ইলিশের প্রজনন রক্ষায় টহল ও অভিযান চলছে। সাগর মোহনায় জেগে ওঠা চরে খুঁটা পুঁতে অবৈধভাবে মাছ ধরতো অসাধু জেলেরা। ইতোমধ্যে ওইসকল খুঁটা কেটে দেয়া হয়েছে। জেলেদের জন্য বরাদ্দকৃত মানবিক সহায়তার চাল শিঘ্রই বিতরণ করা হবে।’
বাবু/জেএম