প্রকাশ: বুধবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২২, ২:৫৮ পিএম (ভিজিট : ৪৬১)

X
নীলফামারীর ডোমার উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে জমির মালিকানা নিয়ে মামলা ঝামলা চলছিলো বাসিরুল ইসলাম ও হাসিকুল ইসলামের। সেই দ্বন্দ্বে জেরে মারামারিতে বাসিরুলের ছোট ভাই ইদ্রীস আলী(৬৫) নামে এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছে।
মঙ্গলবার(১৮ অক্টোবর) সন্ধ্যায় উপজেলার হরিণচড়া ইউনিয়নের পূর্ব হরিণচড়া বটতলী বাজার এলাকায় উক্ত ঘটনা ঘটে। নিহত ইদ্রীস আলী ওই এলাকার মৃত ছপির উদ্দিনের ছেলে।
নিহতের ছেলে মো. সহি কালাম(৩৬) বলেন, আমাদের সাথে কোন গন্ডোগোল ছিল না। আমার বাবার চাচাতো ভাই বাছিরুল ইসলাম(৭৫) ও প্রতিবেশী হাসিকুল ইসলাম কবিরাজের(৫০) এর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে বিরোধ চলছে। মঙ্গলবার বিকালে বিরোধপূর্ণ জমির গাছকাটা নিয়ে দুই পক্ষের নতুন ঝামেলা হওয়ায়, দুই পক্ষকে নিয়ে হরিণচড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রাসেল রানা আলোচনায় বসে। তাদের গাছকাটা নিয়ে গন্ডোগোলটি মিমাংসা হয়। এর পরে ওইদিন মাগরিবের আযানের সময় হাসিকুল কবিরাজ আমার চাচাকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করে। আমার বাবা সেই সময় নামাজের জন্যে মসজিদে ছিল। এবং গালাগাল করতে হাসিবুলকে নিষেধ করায়, তারা ৮ হতে ১০ জন লাঠিসোটা নিয়ে আমার বাবার উপর হামলা করে। আমি আমার বাবাকে উদ্ধার করতে এগিয়ে আসলে, আমাকেও তারা বেধরক মারধর করে। এলাকাবাসী এসে আমার বাবাকে তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে জরুরী বিভাগের চিকিৎসক আমার বাবাকে মৃত ঘোষনা করে।
এব্যাপারে হরিণচড়া ইউপি চেয়ারম্যান রাসেল রানা বলেন, দুই পক্ষের দীর্ঘদিনের জমির বিরোধে নতুন করে গাছকাটা নিয়ে আরো একটি গন্ডোগোল হয়। ঘটনার দিন বিকালে আমি সমাধান করে দিয়েছি। সন্ধ্যায় মারামারিতে ইদ্রীস আলীর মৃত্যু হয়েছে। তবে ইদ্রীস আলীর সাথে তাদের কোন বিরোধ ছিল না।
ডোমার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. তপন কুমার রায় জানান, গুরুতর আহত অবস্থায় জরুরী বিভাগে ইদ্রীস আলীকে নিয়ে আসা হয়। পরিক্ষা নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়েছে। কিছুক্ষণ পরে হাসিকুল ইসলাম নামে আরেকজনকে নিয়ে আসে পুলিশ। তার অতিরিক্ত শ্বাসকষ্ট হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে।
ডোমার থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদ উন নবী জানান, নিহতের মরদেহ ময়না তদন্তের জন্যে জেলা মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের ছেলে বাদী হয়ে ১৯ অক্টোবর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছে। মামলা নং-৮। একজন আটক আছে। কিন্তু বর্তমানে তিনি রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
-বাবু/এ.এস